Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭, ০৯ সফর ১৪৪২ হিজরী

উৎকোচ নিতেও দালাল

বেনাপোল পুলিশ ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানি

বেনাপোল অফিস : | প্রকাশের সময় : ৩০ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০৫ এএম

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনে ভারতগামী পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছ থেকে উৎকোচ আদায়ের জন্য বহিরাগত দালাল নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চেকপোস্ট অফিসের মধ্যে চিহ্নিত দালালদের নিয়োগ দিয়ে অবৈধ টাকা আদায়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। কারণে অকারণে পাসপোর্ট যাত্রীদের বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলে দালালরা ওসির নামে প্রকাশ্যে টাকা আদায় করছে। প্রতিদিন যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ১ থেকে ২ লাখ টাকা।
বাংলাদেশে যে সমস্ত দেশের দূতাবাস নাই পাশের দেশ ভারত থেকে সে সব দেশের ভিসার জন্য বাংলাদেশীরা ভারতে যায়। তাদেরকে বিদেশ পার্টি হিসাবে আখ্যায়িত করে পাসপোর্ট প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ কাজে ওসিকে সহযোগিতা করে এসআই হামিদ, কনস্টেবল হাসিব ও কম্পিউটার ইনজিনিয়ার আমিনুল।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট হওয়ায় এই চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন ৮ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন। ওসি খোরশেদ আলম পাসপোর্ট যাত্রীদের ভিসায় অন্য চেকপোস্টের নাম থাকলে তাদের ইমিগ্রেশন সিল না দিয়ে ফেরত পাঠান। পরবর্তীতে ওসির নিয়োগকৃত দালালের মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করে তাদের পাসপোর্টে সিল দিয়ে ভারতে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

১ বছরের ভিসা থাকলেও পাসপোর্টের মেয়াদ ৩ মাস থাকলে তাদেরকে ভারতে যেতে দেয়া হয়না। দালালরা ওসির নামে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আদায় করে এক্সিট সিল মেরে দিচ্ছেন। যাত্রীর পাসপোর্টে উল্লেখকৃত পেশার প্রত্যায়ন পত্র দেখাতে না পারলে ২ হাজার টাকা দিতে হয় ওসিকে। যাত্রীদের পাসপোর্টে ডলার ইনর্ডোসমেন্ট না থাকলে ডেস্ক থেকে সরাসরি যাত্রীদের ওসির রুমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সেখান থেকে ওসির সিন্ডিকেট সদস্য কনস্টেবল হাসিব দালাল সোহেল, তালেব, দেলোয়ার ও কবিরদের সাথে দফারফা করলেই সব ঠিক হয়ে যায়। সিসি টিভির ক্যামেরার ফুটেজ চেক করলেই ইমিগ্রেশনের ওসির নিয়োগকৃত এসব দালালদের চিহ্নিত করা যাবে। ভারতীয় পাসপোর্টে বিজনেস ভিসা থাকলে ইমিগ্রেশন সিল লাগাতে হলে ওসির নির্দেশে প্রতি পাসপোর্ট যাত্রীকে ২শ’ টাকা ঘুষ দিতে হয়। ১৫ জন লোক নিয়োগ রয়েছে ইমিগ্রেশন অফিসের ভিতরে কাস্টসম সাইডে ল্যাগেজ পার্টির মালামাল কাস্টম চেকিং ছাড়া ছাড় করানোর কাজ করে প্রতিদিন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দালাল বলেন ওসি খোরশেদ স্যার আমাদের সবার কাছ থেকে প্রতিদিন ১ হাজার টাকা হারে আদায় করেন। তিনি আরো বলেন, ইমিগ্রেশন ভবনের সঙ্গে সংযুক্ত কাস্টমস অফিসের পাশে থাকতে হলে এ টাকা ওসি স্যারকে দিতে হবে।
ওসি খোরশেদ আলম যাত্রীদের সাথে সব সময় অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি অফিস টাইমে পুলিশের নির্ধারিত পোষাক না পড়ে সব সময় হাফ হাতা প্রিন্টের গ্যাঞ্জি পড়ে দালালদের সাথে মিশে থাকেন।

ওসি খোরশেদ আলমের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের অফিসের সমস্ত কাজ ঢাকা হেড অফিস থেকে মনিটরিং করা হয়। সে জন্য মাঝে মধ্যে যাত্রীদের শৃঙ্খলা ফেরাতে ইমিগ্রেশনে প্রবেশের ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বিষয়টি এসবির উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে ভোক্তভোগী পাসপোর্ট যাত্রীরা।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইমিগ্রেশন

৩০ জানুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ