Inqilab Logo

ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

নিজস্ব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরামর্শ উন্নয়ন সহযোগিদের

উন্নয়ন ফোরামের সম্মেলন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০৫ এএম

নিজস্ব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন উন্নয়ন সহযোগিরা। উন্নয়ন সহযোগি বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেছেন, জিডিপি অনুপাতে কর আহরনে সারা বিশে^ বাংলাদেশের অবস্থান এখনো সর্বনিম্ন। সঠিক কর কাঠামো অনুসরণের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বাড়াতে পারে। এ বিষয়ে ইউরোপসহ বিশে^র অন্যান্য সফল দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়। আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসায় তারা বলেছেন, এ দেশের উন্নয়নে অতীতের মতই পাশে থাকবেন তারা।

বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) সম্মেলনের মূল কর্মঅধিবেশন ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য এসডিজি অর্জনে আগামী অস্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনায় এ পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এরবাইরে বেসরকারি খাতের ব্যবসা পরিবেশ আরো মসৃন করা ও উচ্চ আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে সমন্বিত নীতি কৌশল নেওয়ারও কথা বলেছেন তারা। ধার করা প্রযুক্তির পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত পরিবেশ উপযোগি ধারনার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা ও শিল্প-বাণিজ্যে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এসডিজিকে কেন্দ্র করে অন্যান্য সম্মেলনের অন্যান্য অধিবেশেনেও প্রায় একই রকম কথা বলেছেন বিভিন্ন প্রতিনিধিরা। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পর যে সব বাণিজ্য বাধার সম্মুখীন হতে পারে বাংলাদেশ সে বিষয়ে এখনি প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে বলেছেন তারা। এজন্য সরকারের নেওয়া নীতি এবং বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধান কমানো, ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা, উৎপাদন ব্যয় কমানো, দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরারও কথা বলেছেন তারা।

গতকাল বুধবার ঢাকায় দুই দিনের এই সম্মেলন শুরু হয়েছে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট যখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূয়সী প্রসংশা করেন তখন উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থনৈতিক সর্ম্পক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ। সম্মেলনে ইউরোপ, আমেরিকা, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ প্রায় উন্নয়ন সহযোগী দেশ এবং সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ করেছেন। দেশে সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে তাদের মতামত দেন।

নিজস্ব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরামর্শ : দিনের প্রথম অধিবেশেন প্যানেল আলোচক হিসেবে ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেঞ্জি তিরিংক বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে স্থানীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। জিডিপি অনুপাতে কর আহরনে বাংলাদেশ নীচু সারির। এ অবস্থার উন্নয়নে ইইউ বাংলাদেশের সামনে একটা দৃষ্টান্ত হতে পারে।

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইইউ বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায়। তবে ব্যবসা পরিবেশে নীচু সারিতে থাকা এক্ষেত্রে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যবসা পরিবেশ আরো উন্নত হওয়া উচিৎ। তবে রোহিঙ্গা ইস্যু, জলবায়ু সমস্যা, এলডিসি উত্তোর জিএসপি প্লাস সুবিধা- এসব বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে আছে ইইউ। এই অধিবেশনে যুক্তরাজ্য সরকারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা ডিএফআইডির বাংলাদেশ প্রধান জুডিথ হারবার্টসন বলেন, টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। বিভিন্ন সমস্যার একটা মধ্যমেয়াদী সমাধান কৌশল নিতে হবে।

এদিকে গতকাল সম্মেলনে বাংলাদেশে সফররত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট শিজিন চ্যান উদ্বোধনী অধিবেশনে বলেছেন, অথনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। গত এক দশকে বাংলাদেশের গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি। ২০১৯ সালে প্রায় ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের রেকর্ড করে বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশ এশীয় প্যাসিফিক অঞ্চলে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে।

শিজিন চ্যান বলেন, বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জগুললো হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে ও সরকারী এবং বেসরকারী খাতের সবাই অবকাঠামোগত উন্নয়নে জোর দেবে। দক্ষতা বৃদ্ধি করা, শিল্পের বৈচিত্র্যকরণসহ ব্যবসা বান্ধব পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে।

শিজিন চ্যান বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) অংশ নেওয়ার সময় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তবায়নে সর্বাত্বক চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের এই উচ্চ আকাংখা পূরণে এডিবি প্রতিশ্রিুতিবদ্ধ।

উর্ধ্বতন সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে শিজিন চ্যান দেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মান শৃঙ্খলে সংযোগ করার জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং অর্থনৈতিক করিডোর বিকাশের উদ্যোগের জন্য প্রশংসা করেন। এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন বিশেষ করে পরিবহন, জ্বালানি ও নগর পরিসেবায় নজর দিতে হবে। পল্লী উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান, বেসরকারী ক্ষেত্রের উন্নয়ন, জলবায়ু ও দুর্যোগের স্থিতিস্থাপকতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার উপরও দৃষ্টি দিতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষ করে এসডিজি বাস্তবায়নে এডিবি সব সময় পাশে থাকবে বলে জানান চ্যান।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: এডিবি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ