Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ০৩ শাবান ১৪৪১ হিজরী

‘একটি-দুটি জয়ের আশায়’ বিশ্বকাপ যাত্রা!

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩১ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:১৪ এএম, ৩১ জানুয়ারি, ২০২০

সবশেষ দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয় নেই একটিও। এবার বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে। আকাশ-কুসুম লক্ষ্য ঠিক করে তাই বিশ্বকাপে যাচ্ছে না বাংলাদেশের মেয়েরা। দলের চাওয়া, স্মার্ট ক্রিকেট খেলা ও একটি-দুটি ম্যাচ জেতা। বিশ্বকাপ খেলতে রোববার ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশের মেয়েরা। দেশ ছাড়ার আগে দলের অফিসিয়াল ফটোসেশন ছিল গতকাল। সেই আনুষ্ঠানিকতা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অধিনায়ক সালমা খাতুন জানালেন তাদের ভাবনা।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনবার অংশ নিয়ে ১৩ ম্যাচে কেবল ২টি জিতেছে বাংলাদেশ। সেই জয় দুটি এসেছে ২০১৪ বিশ্বকাপে, নিজেদের মাটিতে আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। সবশেষ দুই আসরে ৮ ম্যাচে জয় নেই একটিও। এবার সালমাদের লক্ষ্য, সেই জয় খরা কাটানো, ‘আমরা তো আশা করে যাই যে ভালো করব, একটি-দুটি ম্যাচ জিতব। এবারও আশা করছি একটি-দুটি ম্যাচ জিতব। সেই আশা নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছি।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপে আছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো মেয়েদের ক্রিকেটের শক্তিশালী দুই দল। তাদের বিপক্ষে আগে কখনোই খেলেনি বাংলাদেশ। তাদের বিপক্ষেই এবার খেলতে হবে বিরুদ্ধ কন্ডিশনে। সালমা জানালেন, তারা চান ‘স্মার্ট’ ক্রিকেট খেলতে এবং নিজেদের সেরাটা দিতে, ‘অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ড অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে ওরা এখনও আমাদের সম্পর্কে জানে না, আমরাও ওদের সম্পর্কে জানি না। ভিডিওতে ওরা দেখেছে আমাদের, আমরাও দেখেছি ওদের। মাঠে যখন আমরা খেলব, তখনই বুঝতে পারব কে কার চেয়ে ভালো। অবশ্যই নিউ জিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া আমাদের চেয়ে ভালো। আমরা চেষ্টা করব স্মার্ট ক্রিকেট খেলতে। আমরা চেষ্টা করব আমাদের সেরাটা দিতে। ওদেরটা তো ওদের ব্যাপার। আমরা যা শিখেছি, সেটিই ওখানে করার চেষ্টা করব।’ এই লক্ষ্যের পাশাপাশি একটি স্বপ্নও আছে সালমাদের। মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষ ৮ দল পরের আসরে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। বাংলাদেশ গত দুইবার পারেনি সেরা আটে থাকতে, বিশ্বকাপ খেলতে হয়েছে বাছাইপর্ব উতরে। সেই ঝামেলায় আর যেতে চান না সালমা, ‘পরের বিশ্বকাপে যেন আমাদের কোয়ালিফাই খেলতে না হয়, সেটি চাইব।’

অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ভারত ও শ্রীলঙ্কা। গত এশিয়া কাপে ভারতকে দুইবার হারিয়েছে বাংলাদেশ। তবে বাস্তবতা হলো, ভারত অনেক শক্তিশালী বাংলাদেশের চেয়ে। তাই বাস্তব সম্ভাবনায় শ্রীলঙ্কাই হতে পারে বাংলাদেশের ম‚ল ‘টার্গেট।’ সহ-অধিনায়ক ও দলের সেরা অলরাউন্ডার রুমানা আহমেদের কথায় সেটির ইঙ্গিতই মিলল, ‘এশিয়া কাপ অনেক আগেই চলে গেছে। তারপর অনেক ম্যাচ খেলেছি আমরা। মেয়েরা ভালোই করেছে। এবার বিশ্বকাপে বড় বড় দলের সঙ্গে খেলা। সবটুকু দিয়ে অনেক ভালো করতে চেষ্টা করব। অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ড অনেক ভালো দল। ভারতকে এশিয়া কাপে দুবার হারালেও কাজটা অনেক কঠিন। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভালো কিছু করতে পারব বলে আমরা আশা করি।’

আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ। যদিও বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি। বাড়তি প্রস্তুতি নিতেই আগে ভাগে যাওয়া। গোল্ডকস্ট ডিসট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাব গ্রাউন্ডে নিজেদের আয়োজনে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে দলটি। ৭, ১০ ও ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ম্যাচ তিনটি। অবশ্য এরপর দুটি অফিশিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচও রয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের। ম্যাচ দুটি হবে ১৭ ও ২০ ফেব্রুয়ারি। প্রতিপক্ষ যথাক্রমে থাইল্যান্ড ও পাকিস্তান। ম‚ল আসরের লড়াইয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি পার্থে প্রথম ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলার বাঘিনীরা। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য তিন প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

১৫ সদস্যের বাংলাদেশ নারী দল : সালমা খাতুন, রুমানা আহমেদ, জাহানারা আলম, শামিমা সুলতানা, মুর্শিদা খাতুন হ্যাপি, আয়শা রহমান, নিগার সুলতানা জ্যোতি, সানজিদা ইসলাম, খাদিজা-তুল-কুবরা, পান্না ঘোষ, ফারজানা হক পিঙ্কি, নাহিদা আক্তার, ফাহিমা খাতুন, ঋতু মনি ও শোভানা মুস্তারি।
স্ট্যান্ড বাই : শায়লা রহমান, সুরাইয়া আজিম ছন্দা, লতা মন্ডল, পুজা চক্রবর্তী ও রাবেয়া।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিশ্বকাপ

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন