Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, ১২ শাবান ১৪৪১ হিজরী

সিএএ এর বিরুদ্ধে ভোট পিছাল ইইউ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩১ জানুয়ারি, ২০২০, ৩:৫৮ পিএম | আপডেট : ৪:৫৩ পিএম, ৩১ জানুয়ারি, ২০২০

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-বিরোধী প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি পিছিয়ে দিল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। গতকাল এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়েছে। কূটনীতিকদের মতে, বাণিজ্যিক স্বার্থের কথা চিন্তা করেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ব্রেক্সিট পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের বিশাল বাজার ধরতে চাইছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক শিবির। আগামী মার্চ মাসে ব্রাসেলসে ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পঞ্চদশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের আগে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত করাটা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন ইইউ’র শীর্ষ নেতৃত্ব।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য বিষয়টিকে তাদের কূটনৈতিক জয় হিসেবেই তুলে ধরেছে। তবে তাদের এই দাবি ভিত্তিহীন। কারণ, গত এক সপ্তাহ ধরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটির পর একটি দল তীব্র ভাষায় ভারতের এই আইনের সমালোচনা করে খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। সেই কাজে অন্যতম ভূমিকা ছিল ইইউ-এর ব্রিটিশ সদস্য, জন্মসূত্রে আজাদ কাশ্মীরের নাগরিক শাফাক মোহাম্মদের। নাগরিকত্ব আইনকে ‘বৈষম্যমূলক’ এবং ‘বিভেদকামী’ হিসেবে তুলে ধরে অবিলম্বে এটি ফিরিয়ে নেয়ার দাবি ছিল ওই প্রস্তাবগুলিতে। পাশাপাশি যে ভাবে ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আন্দোলন’-কে দমন করা হচ্ছে, তাকেও ‘নির্মম’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল খসড়া প্রস্তাবে।

কিন্তু ভারতের সঙ্গে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার আগে এই প্রস্তাবের কারণে তিক্ততা যাতে কোনও ভাবে বাণিজ্যিক আদান-প্রদানে না পড়ে, সে দিকে নজর রেখেছিল ইইউ। বিষয়টি নিয়ে প্রথম থেকে সক্রিয় ছিল ইইউ-র অন্যতম প্রধান সদস্য ফ্রান্সও। ইইউ সূত্রে বলা হচ্ছে, ‘বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে ভারত আমাদের প্রধান অংশীদার। তা ছাড়া এটাও মনে রাখতে হবে, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং তার কিছু দল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সরকারি অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে না।’

বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, ‘ব্রাসেলসের ঘটনাবলির দিকে আমরা নজর রেখেছি। আগেই বলেছি নাগরিকত্ব আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। গণতান্ত্রিক ভাবেই তা প্রণয়ন করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের কৌশলগত মিত্র। তারা নিজেরাই জানিয়েছে যে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কিছু দলের মতামত, ইইউ-এর সরকারি অবস্থান নয়। তবে এর পরেও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের কোনও প্রশ্ন থাকলে আমরা তা ব্যাখ্যা করব।’ সূত্র: বিজনেস টুডে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সিএএ


আরও
আরও পড়ুন