Inqilab Logo

বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৫ মাঘ ১৪২৮, ১৫ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

‘বায়োনিক ইয়ার’ পেলেন ৪১ গরিব শ্রবণ প্রতিবন্ধী প্রতিটির মূল্য ১০ লাখ টাকা

প্রকাশের সময় : ২ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : ঈদের প্রাক্কালে সম্পূর্ণ শ্রবণ প্রতিবন্ধী ৪১ শিশুর চেহারায় হাসি ফুটালো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। গতকাল (বৃহস্পতিবার) তাদের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা মূল্যের একটি করে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ডিভাইস প্রদান করেছে বিএসএমএমইউ।
শহীদ ডা. মিলন হলে ডেভেলপমেন্ট অব কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট প্রোগ্রাম ইন বিএসএমএমইউ (২য় পর্যায়)-এর উদ্যোগে সম্পূর্ণ শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে অভিভাবককদের কাছে বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন ভিসি প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান খান।
তিনি জানান, বিএসএমএমইউ’র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সম্পূর্ণ বিনা খরচে জটিল সার্জারির মাধ্যমে এসব ডিভাইস ইমপ্ল্যান্ট করা ও পরবর্তী ভাষা শেখাবেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ ডিভাইসগুলো বিএসএমএমইউ’কে নামমাত্র মূল্যে প্রদান করেছে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর ডা. এ এস এম জাকারিয়া স্বপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. আলী আসগর মোড়ল।
অনুষ্ঠানে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বরাদ্দপত্র প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন বিএসএমএমইউ’র রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর কাজী শহীদুল আলম, নাক, কান, গলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান তরফদার।
শুরুতে বক্তব্য রাখেন ডেভেলপমেন্ট অব কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট প্রোগ্রাম ইন বিএসএমএমইউ-এর প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল হাসনাত জোয়ারদার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. জহুরুল হক সাচ্চু। এছাড়া কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট গ্রহীতা, শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের অভিভাবক ও বরাদ্দপত্রপ্রাপ্তদের অভিভাবকরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান খান কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট প্রকল্পে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তার সুদৃষ্টির ফলেই এ ধরনের মহতী সেবা কার্যক্রম পক্ষে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রকল্পটি চালু রাখার জন্য ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বরাদ্দপত্র প্রাপ্ত শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু মাধুর্য্যরে মা সুমাইয়া আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ধন্যবাদ জানানোর ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বরাদ্দপত্র পাওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সবাই এবং বিএসএমএমইউ’র সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।
কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ডিভাইসের বরাদ্দপত্র পেয়ে এসকল শিশুর অভিভাবকবৃন্দ আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং উচ্ছ¡াস প্রকাশ করেন। যে শিশুটি কোনো দিন কানে শোনতে পায়নি, কথা বুঝে না ও কোনোদিন কথা বলতে পারে নাই বা ভাষা শিখে নাই; সে সকল শিশু একদিন কানে শোনতে পারবে ও কথা বলতে পারবে। সবচেয়ে বড় কথা এসব শিশুর মুখে তাঁদের বাবা-মায়েরা শোনতে পারবে মিষ্টি-মধুর মা-বাবা ডাক। একজন মা ও বাবার কাছে এ যে অনেক বিরাট বড় অতুলনীয় প্রাপ্তি।
উল্লেখ্য, ডেভেলপমেন্ট অব কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট প্রোগ্রাম ইন বিএসএমএমইউ-এর আওতায় এ পর্যন্ত ৯০ জনকে বরাদ্দপত্র প্রদান করা হয়। গতকাল আরো ৪১ জন শ্রবণ প্রতিবন্ধীকে বরাদ্দপত্র প্রদান করা হয়। বিএসএমএমইউ এ পর্যন্ত ১১০ জন শ্রবণ প্রতিবন্ধীর কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট করা হয়। এর মধ্যে ৯০ জনকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং ২০ জনকে নিজ খরচে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট করা হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ‘বায়োনিক ইয়ার’ পেলেন ৪১ গরিব শ্রবণ প্রতিবন্ধী প্রতিটির মূল্য ১০ লাখ টাকা
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ