Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

ইভিএমে ভোটদানে বিড়ম্বনা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

ঢাকার দুই সিটিতে প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই সিস্টেমে খুব কম ভোটারই তাদের ভোট প্রয়োগ করে সন্তোষ প্রকাশ করছেন। অনেকে ইভিএমে ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনার পড়েছেন। কারো আঙুলের ছাপ মিলেনি, কোথাও মেশিন কাজ করেনি, কোথাও যান্ত্রিক ত্রæটির কারণে দীর্ঘক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।

এমন বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার। বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এই পদ্ধতিতে ভোট দেয়ার সময় গোপনীয়তাও রক্ষা হচ্ছে না বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন ।

সকাল ১১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের আই ই এস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে যান সিইসি। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন সিইসি। ফিঙ্গার মেলেনি তার। পরে বিকল্পভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) দেখিয়ে নিজের ভোট দেন সিইসি নুরুল হুদা।

সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রাজধানীর ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন। তারও ফিঙ্গার প্রিন্ট হচ্ছিলনা। অনেক চেষ্টার পর তিনি ভোট দিয়েছেন। ভোট দেয়ার পর ড. কামাল বলেন, ইভিএম অনেক জটিল প্রক্রিয়া। আমার ভোটার নাম্বার বের করতে আধাঘন্টা সময় লেগেছে। দিতে লেগেছে ১০ মিনিট। আমার আধা ঘণ্টা সময় লেগেছে অন্য ভোটারদের ক্ষেত্রে এমনটি কি সম্ভব?

গুলশান-২ এর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহামুদুর রহমান মান্না বলেন, আমি ইভিএমে বোতাম চাপ দিলাম, কোথায় ভোট গেল কিভাবে বুঝবো। এই ভোটে জনগণের ইচ্ছার কোন প্রতিপলন হবে বলে আস্থা রাখা যায় না।

বয়স্ক ও শ্রমজীবী মানুষের ইভিএমে ভোট দিতে বেশি অসুবিধা হয়েছে। অনেকবার চেষ্টা করার পরও অনেকের আঙুলের ছাপ মিলেনি।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ইভিএমএ তার ফিঙ্গার প্রিন্ট দেয়ার পর পোলিং এজেন্ট বলে চলে যান। আমি ভোট দিয়ে দিচ্ছি। এভাবে অনেকের ফিঙ্গার প্রিন্ট রেখে তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। এছাড়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলায় অনেকে ভোট দিতে পারেননি।

কদমতলী নূরপুর এলাকায় ঢাকা আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রে নৌকা মার্কঅ থাকলেও ইভিএম মেশিনে ধানের শীষ মার্কা ছিলনা। এ বিষয়টি জানানোর পর প্রিজাইডিং অফিসার মেশিনে সমস্যা বলে এ কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করে দেন।

মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ কেন্দ্রেও ফিঙ্গার প্রিন্ট না মেলায় অনেকে ভোট দিতে পারেননি। মিরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭৩ বছর বয়সী এক নারী ফিঙ্গার প্রিন্ট না মেলায় ভোট না দিয়েই চলে গেছেন। তিনি বলেন, এত ভোট দিছি। কোনো দিন এমন হয় নাই। এহন বুড়া বয়সে ভোট দিতে পারলাম না।
শুক্রাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা জাহানারা বেগম ৬ বার আঙুলের ছাপ দিয়েও মেলাতে পারেননি। তিনি বলেন, মেরিল লাগাইলাম (পেট্রোলিয়াম জেলি) টিস্যু দিয়ে মুছলাম তাও মেলে না। ভোটই দেব না।

আবার অনেকে অভিযোগ করছেন, তারা যখন ভোট দিতে যাচ্ছেন তখন ভোট কোন মার্কায় দিচ্ছেন তা পোলিং অফিসাররা দেখতে পাচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এজেন্টরাও দেখছেন কোন প্রতীকে ভোট দেয়া হচ্ছে। মার্কায় ভোট দেয়ার পর সেটা স্কিনে ৩০ সেকেন্ড থেকে ১মিনিট পর্যন্ত ভেসে থাকে। এ সময় পোলিং অফিসার এবং এজন্টরা এসে কোন প্রতীকে ভোট দেয়া হচ্ছে তা দেখতে পারে। এতে করে ভোটের গোপনীয়তা আর থাকেনি।
একজন ভোটার অভিযোগ করেন, যখন তিনি প্রথমে মেয়র পদে ভোট দিলেন তখন স্ক্রিনে দেখাচ্ছে আপনি অমুক মার্কায় ভোট দিয়েছেন, সেটা স্ক্রিনে থাকে পরবর্তী দুটি ভোট দেয়া পর্যন্ত। যখন তিনটি ভোট দেয়া সম্পন্ন হয়, তখন স্ক্রিনে লেখা উঠে আপনার ভোটটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্ক্রিন থেকে প্রতীকগুলো সরে যায়। কেউ যদি দুটি ভোট দিতে চান, আরেকটি ভোট দিতে না চান তাহলে তাকে ক্যান্সেল বাটন চাপতে হবে। কিন্তু, এটা অধিকাংশ ভোটারই জানেন না বা বুঝতে পারেন না। একটি পাতলা কাপড় দিয়ে বুথ আর পোলিং অফিসারকে আলাদা করা হয়েছে। তার সামান্য দ‚রে এজেন্টরা বসে আছেন। পোলিং অফিসার ঘাড় ঘুরালে, এজেন্টরা উঠে দাঁড়ালেই স্ক্রিনে প্রতীক দেখতে পাচ্ছেন। জেনে যাচ্ছেন কে, কোন মার্কায় ভোট দিচ্ছেন। কাপড় দিয়ে আড়াল করা বুথে ভোটারের গোপনীয়তা রক্ষা হচ্ছে না। তারা আরও অভিযোগ করেন, কোনো ভোটার যদি তিনটি ভোট না দেয় তবে ভোট সম্পন্ন হবে না। পছন্দের প্রার্থী না থাকলেও ভোটারদের তিনটি ভোটই দিতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সিটি করপোরেশন নির্বাচন

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন