Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬, ০৬ শাবান ১৪৪১ হিজরী

অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করল ফিলিস্তিন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:২৫ পিএম

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ঘেঁষা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণার পর ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পিএ। পরে কায়রোতে আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয় দেশটি। ওই বৈঠকের পর শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষ কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে ট্রাম্পের তথাকথিত ডিল অব সেঞ্চুরি বা শান্তি প্রস্তাবকে একপেশে ও বিতর্কিত আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করে আরব লিগ। ফিলিস্তিন এ প্রস্তাবকে ‘অন্যায্য’ বলে দাবি করে।

২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা শতাব্দীর সেরা চুক্তি নামের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক জেরুজালেম শহরকে ইসরায়েলি ভূখন্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহর জেরুজালেমের বাইরের আবু দিস নামের একটি ছোট গ্রামকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই পরিকল্পনায় জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরের অংশবিশেষ ও গাজা উপত্যকা নিয়ে নামমাত্র একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে, যে রাষ্ট্রের নিজস্ব কোনও সেনাবাহিনী থাকবে না।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার কায়রোর বৈঠকে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা ‘সম্পূর্ণরূপে’ প্রত্যাখ্যানের কথা আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন মাহমুদ আব্বাস। তিনি বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলকে জানিয়ে দিয়েছি, তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আর নিরাপত্তাসহ কোনও ধরনের সম্পর্ক থাকবে না।’
ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণে থাকা দখলকৃত কৌশলগত এলাকাগুলোর ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক তথ্য লেনদেন করে আসছে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সঙ্গে গোয়েন্দা সহযোগিতামূলক চুক্তিও রয়েছে ফিলিস্তিনের। এমনকি ২০১৭ সাল থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের শান্তি প্রচেষ্টা ফিলিস্তিনিরা বয়কট করতে শুরু করলেও ওই গোয়েন্দা সহযোগিতা অব্যাহত থাকে।

শনিবার মাহমুদ আব্বাস দাবি করেন, আমি টেলিফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করতে, এমনকি ওই শান্তি পরিকল্পনা পড়ে দেখার জন্য সংগ্রহ করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প আমাকে তার সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন, তবে আমি বলেছি, না। তিনি আমাকে একটি চিঠি পাঠাতে চেয়েছিলেন, আমি প্রত্যাখ্যান করেছি।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফিলিস্তিন


আরও
আরও পড়ুন