Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬, ০৭ শাবান ১৪৪১ হিজরী

মোদির নিয়ন্ত্রিত উদ্দীপনায় প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবিত হবে না

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৮:১৭ পিএম

ভারতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার এক দশকের মধ্যে এখন সবচেয়ে কম। নতুন কেন্দ্রীয় বাজেট এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে মন্দা থেকে বের করে আনতে পারবে, এমন কোন সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ মধ্যম আয়ের মানুষদের ব্যয়মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া এবং ব্যক্তিগত আয়করে সামান্য পরিবর্তন ছাড়া এবারের বাজেটে আর কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বাজেট দিয়ে সরকারের ২০২০-২১ সালের আর্থিক ঘাটতি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত নাও হতে পারে। কারণ, উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রায় ৩ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহ করতে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্ব বিক্রি করার ঝুঁকি নিয়েছে।

গত শনিবার কেন্দ্রীয় সরকার এই বাজেট ঘোষণা করে যা আগামী এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হবে। বাজেটে আর্থিক ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা শিথিল করা হয়েছে, যাতে বেসরকারীকরণের পাশাপাশি সরকার অবকাঠামো ও কৃষিতে উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি ডলার ব্যয় করতে পারে। অর্থনীতিবিদ ও শিল্প নেতারা বলেন, বাজেটের প্রস্তাবগুলো দীর্ঘ মেয়াদে প্রবৃদ্ধি অর্জনে কিছুটা সহায়তা দিতে পারে। তবে সংকট কাটিয়ে উঠার জন্য কোন সমাধান দেখানো হয়নি।

আগামী অর্থবর্ষের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার কমতে কমতে তা ৩ শতাংশের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, আগামী অর্থবর্ষে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ হারে হবে। অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে চাহিদা বৃদ্ধি প্রয়োজন। প্রয়োজন সাধারণ মানুষের হাতে টাকার জোগান বাড়ানো। সে জন্য কৃষিক্ষেত্রের দিকে বিশেষ নজর দেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা অর্থনীতিবিদেরা বারবার বলে এসেছেন।

বাজেট ভাষণে কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে ১৬টি নতুন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। বরাদ্দ করেছেন ২ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা। বলেছেন, ২০২২ সালের মধ্যে কৃষি আয় দ্বিগুণ করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কৃষক যাতে উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারজাত করতে পারেন, কৃষিঋণ যাতে সহজলভ্য হয় এবং হিমঘরে ফসল সংরক্ষণ যাতে করা যায়, সে জন্য বিশেষ নজর দেওয়া হবে। কিন্তু উৎপাদন শিল্পের হাল কীভাবে ফিরবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা বাজেট থেকে পাওয়া গেল না। অর্থনৈতিক সংকটের মারাত্মক প্রতিফলন ঘটেছে কাজের বাজারে। কর্মসংস্থান দিন দিন কমে যাচ্ছে। কীভাবে তা ঠেকানো যাবে, তার কোনো দিশাও নির্মলা সীতারমণ দেখাতে পারেননি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভোক্তাদের চাহিদা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকার ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে কিন্তু রাজস্ব প্রাপ্তি হ্রাসের কারণে হাত বাড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়নি। রেটিং এজেন্সি মুডির ইনভেস্টর সার্ভিস বলেছে যে, বাজেটটি ধীর প্রকৃত ও নামমাত্র বৃদ্ধির মতো আর্থিক সমস্যাগুলো আরও প্রকট করবে, যা সরকারের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দিন চলতে পারে।

বিনিয়োগকারীরা এবং গ্রাহকরাও বাজেট নিয়ে হতাশ হয়েছেন। কারণ স্বীকৃত আর্থিক ক্ষেত্র এবং আবাসন বাজারের জন্য কোনও নতুন প্রণোদনা দেয়া হয়নি, তবে পৃথক আয়করের প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে নেট লাভ হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

ট্যাক্স পরামর্শদাতা অশোক মহেশ্বরী ও অ্যাসোসিয়েটস এলএলপি’র অংশীদার অমিত মহেশ্বরী বলেন, ‘আয়করে যে ছাড় দেয়া হয়েছে তাতে করদাতাদের খুব একটা উপকার হবে না।’ তার মতে, এর ফলে সঞ্চয়ে আগ্রহ হারাতে পারে এবং বাজারে সুদের হার বেড়ে যেতে পারে।

বাজেট প্রকাশের পরে শনিবার শেয়ার বাজারেও পতন দেখা যায়। তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সূচক সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। সেনসেক্স পড়ে যায় ১ হাজার পয়েন্ট, নিফটি ৩০০ পয়েন্টের বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, পর্যাপ্ত উদ্দীপনা ব্যবস্থা না থাকায় শেয়ার বাজারে হতাশা দেখা গিয়েছে। সূত্র: নিউজ রিপাবলিক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মোদি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ