Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭, ১০ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

ভোটারদের অনীহা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়

সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভোটের রাজনীতির প্রতি মানুষের অনীহা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। রাজনীতির প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বেশি হওয়া উচিত।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অসুস্থ হয়ে কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকালই তিনি সচিবালয়ে অফিস করেন। গত শনিবার অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের এত জনসমর্থন, সেখানে আরও বেশি ভোট আশা করেছিলাম। আওয়ামী লীগের যে ভোটের হার, সে তুলনায় উপস্থিতি আশানুরূপ নয়। দুই-তিন দিন ছুটি থাকার কারণেও অনেকে ঢাকার বাইরে চলে গেছেন। পরিবহন সঙ্কটও কিছুটা দায়ী। তিনি বলেন, আগেভাগে শঙ্কা তৈরির কারণেও ভোটারের আগ্রহ কমতে পারে। তদুপরি একটি ভালো নির্বাচন হয়েছে। ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে, এই অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলো জনমত সৃষ্টিতে কার্যকর ভ‚মিকা রাখবে। আগামীতে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য সংগঠন শক্তিশালী করা দরকার। আওয়ামী লীগ তার সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় কমিটি বৈঠক করবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যে অবস্থায় নির্বাচন করেছে, তাদের পার্টির মূল নেতৃত্ব নেই। আমার মনে হয় তারা ভালো করেছে। বিএনপির যে পারফরমেন্স তারা এই ভোটের মধ্যেও তাদের ভোট সংখ্যা একেবারে কম নয়। অনেক ভোট পেয়েছে। সেদিক থেকে বিরোধীদল হিসেবে তারা ভোটে একেবারে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এমন নয়। এটা গণতন্ত্রের জন্যই ভালো।

আপনি কি মনে করেন না ভোটের প্রতি মানুষের অনীহা বাড়ছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগেভাগেই শঙ্কা তৈরি করা- এই সিস্টেম খারাপ, এই সিস্টেমে ভোট দেয়া যাবে না। এ রকম অবস্থায় কিছু মানুষের আগ্রহ তো কমতেই পারে। কারণ ভোট সম্পর্কে অপপ্রচারটা অনেক বেশি হয়েছে। সরকারি দলের ভয়ঙ্কর প্রস্তুতি, বিরোধীদলও সতর্ক পাহারায় থাকবে। তারা ঢাকার বাইরে থেকে লোক জড়ো করেছে। এ ধরনের ইনফরমেশন তো ছিলই। আমার মনে হয় সবকিছু মিলিয়ে একটা ভালো ইলেকশন হয়েছে।

নির্বাচনের সময় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে কিভাবে দেখছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিক্ষিপ্ত-বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। এটা হওয়া উচিত ছিল না। সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করলে- একটা ভালো নির্বাচন হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গত সোমবার হাসপাতালে সিটির নেতারা দেখা করেছেন। তাদেরকে একটি কথাই বলেছি- কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করা হোক। অনতিবিলম্বে ঢাকা সিটির ওয়ার্ড ও থানার সম্মেলনগুলো করা দরকার। এখানে বড় না হলেও সাংগঠনিক দুর্বলতার পরিচয় পাওয়া গেছে। এটা হলো বাস্তবতা, বাস্তবতা অস্বীকার করে তো লাভ নেই।

তিনি বলেন, দুই সিটিতে ইভিএম নতুন অভিজ্ঞতা। প্রায়োগিক বাস্তবতায় কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে। যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের অনেকের প্রতিক্রিয়া খুব সহজে ভোট দিতে পেরেছেন। এত বড় এলাকা নতুন যেহেতু, দু-একটি জায়গায় ভুলত্রুটি হয়েছে।

গত ৩১ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তির পর এটাই সেতুমন্ত্রীর প্রথম প্রেসব্রিফিং। গতকাল দুপুরে হাসপাতাল থেকে সরাসরি সচিবালয়ে এসে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময়ও তার বাম হাতে ক্যানোলা লাগানো ছিলো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ওবায়দুল কাদের


আরও
আরও পড়ুন