Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ঈদের আগ মুহূর্তে বাড়ছে মসলার দাম খুচরা-পাইকারি বিক্রেতারা দুষছেন একে অপরকে

প্রকাশের সময় : ৩ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আজিবুল হক পার্থ : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এবার অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের থাবা পড়েছে মসলার বাজারে। কোন কারণ ছাড়াই এই শুকনা পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। রোজার শুরুর তুলনায় ঈদের আগ মুহূর্তে এসে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে মসলার দাম। পাইকারি বাজারে কোন সংকট না থাকলেও দর বৃদ্ধি নিয়ে পারস্পরিক দোষারোপ করেছে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা।
রাজধানীর মসলার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ সামনে রেখে বেড়েছে সব ধরনের মসলার দাম। দাম বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, রসুন, আদা, শুকনো মরিচ, হলুদ, জিরা ও তেজপাতা। তবে পিঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ঈদে অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছেন বলে খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ।
সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে দেশীয় বাজারে চোরাচালান হয়ে আসছে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন এলাচি এবং প্রায় ছয় হাজার মেট্রিক টন জিরা। এভাবে আইন ও নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্য আসতে চরম ভারসাম্যহীন হচ্ছে দেশীয় পণ্যের বাজার। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও না কমে বেড়েই চলেছে মসলার দাম। এছাড়া সুযোগ বুঝে ভারত ও মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে প্রচুর টাকার মসলাসহ অন্যান্য পণ্য আনা হচ্ছে। এতে সরকার বিপুল অর্থের রাজস্ব হারাচ্ছে।
মসলার বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা এলাচ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে। সেই এলাচই খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে। এক মাস আগেও এই এলাচ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দর অনুযায়ী, প্রতিকেজি এলাচ ১১০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গুয়াতেমালার এলাচ প্রতিকেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। মাস খানেক আগে এই এলাচ পাওয়া যেত ১ হাজার ২০০ টাকায়। লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা কেজি দরে। এক মাস আগে এর দাম ছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে। টিসিবি দর অনুযায়ী, প্রতিকেজি লবঙ্গ ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চীন, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা দারুচিনি মানভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ২৭৫ থেকে ৩১০ টাকায়। মাসখানেক আগে প্রতি কেজি দারুচিনি ২৬০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে ছিল। টিসিবি দর অনুযায়ী, প্রতিকেজি দারুচিনি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতিকেজি ভারতীয় গোলমরিচ ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা বিভিন্ন মানের জিরা মিলছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। আর প্রতিকেজি দেশি আদা ৮০ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা রসুনের চাহিদাই বেশি। বর্তমানে এ ধরনের রসুন ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা আর দেশি রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা বেড়েছে রসুনের দাম। তবে এখন হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়া গুঁড়ো মসলার মধ্যে হলুদ প্রতি কেজি ২০০-২২০, মরিচ ১৫০-২০০, ধনে ১৮০-২২০ টাকা এবং তেজপাতা ১৭০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব দামের সঙ্গে টিসিবি’র দেয়া দামে হেরফের কম লক্ষ্য করা গেছে।
খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, বর্তমানে মসলার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে কিছু বড় বড় ব্যবসায়ী। ফলে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও না কমে বেড়েই চলেছে মসলার দাম। তবে মসলার দাম স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, মসলার বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। বরং অনেক ক্ষত্রে দাম কমেছে। সরকার এসব পণ্য আমদানির শুল্ক কমালে দাম আরো কমতো বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র জানায়, প্রতিকেজি জিরা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২৮০ টাকায়। তেজপাতার কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
এদিকে বাড়তিতে রয়েছে সুগন্ধি জাতের চাল। খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পোলাওয়ের চাল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। প্রাণ, স্কয়ার, মধুবন, বনফুল, আলাউদ্দিনসহ বেশ কিছু কোম্পানি নতুন-নতুন লাচ্ছা সেমাই বাজারে ছেড়েছে। ২০০ গ্রামের প্যাকেটজাতে এসব সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা দরে। অন্যদিকে প্যাকেটজাত ভাজা সেমাই ২০০ গ্রাম ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রি বেড়েছে গুঁড়াদুধেরও।
পাইকারি বাজারে উন্নত মানের কিশমিশ (১০ কেজির কার্টন) বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৩৫০ টাকায়। প্রতিকেজির দাম পড়ে ৩৩৫ টাকা। মধ্যমানের ১০ কেজির কার্টন ২ হাজার ৬০০ টাকা। প্রতিকেজির দাম ২৬০ টাকা। কিন্তু খুচরা বাজারে ১০০ গ্রাম কিশমিশ রাখা হচ্ছে ৫৮ টাকা। সে হিসাবে প্রতিকেজি কিশমিশের দাম পড়ছে ৫৫৮ টাকা। একই অবস্থা চিনা বাদামের ক্ষেত্রেও। পাইকারি বাজারে চিনা বাদাম (৫০ কেজির বস্তা) সাড়ে ৪ হাজার টাকা। প্রতিকেজি ৯০ টাকা। কিন্তু খুচরা বাজারে ২৫০ গ্রামই ৬৫ টাকা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ