Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

ব্রেক্সিটম্যানিয়ার মধ্যে শান্ত কণ্ঠস্বর লন্ডনের মেয়র সাদিক খান

প্রকাশের সময় : ৩ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : কি যে তোলপাড় তোলা একটি সপ্তাহ পেরলো! আমরা ডেভিড ক্যামেরনকে প্রায় অশ্রুসজল দেখেছি। লেবার পার্টি টানটান রাজনৈতিক দড়ির উপর দড়াবাজের মত টলমল করছে, আর নাইজেল ফ্যারেজ ইইউ পার্লামেন্টে পুতুলের মত বক্তৃতা করে একটি দেশকে বিব্রত করছেন যে ইইউ পার্লামেন্টের হেলথ কমিশনার ভাইটেনিস অ্যান্ড্রিউকুয়াইটিস তার পিছনে হাতের তালু প্রদর্শন করছেন।
সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হল, শত শত ঘৃণাজনিত ঘটনা ঘটনা ঘটছে। ফেসবুক ও টুইটারে প্রতিটি ঘটনার কথা জানার পর গ্রেট ব্রিটেনের প্রতি হতাশায় মন ছেয়ে যায়। ১১ বছরের এক পোলিশ শিশুকে যখন তার পরিবারকে ক্ষতিকর পোকামাকড় বলে গাল দেয়া হয় বা কোনো মুদি দোকানে যখন একজন মুসলিম বালিকাকে ভাঙা হাপরের মত রুল ব্রিটানিয়া শুনিয়ে বলা হয় এখন বেরিয়ে যাও, তখন বোঝা যায় যে ব্রেক্সিটকে শীতল হৃদয়ের বর্ণবাদের অনুঘটক হিসেবে ছিনতাই করা হয়েছে।
তবে বরাবরই লন্ডনের নতুন মেয়র সাদিক খান একজন প্রকৃত ট্রুপারের মতই এ সবের ঊর্ধ্বে আরোহণ করেছেন। এ ব্রেক্সিটম্যানিয়ার মধ্যে একটি শান্ত কণ্ঠস্বর হচ্ছেন সাদেক খান। যেদিন থেকে আমরা ইইউ ছেড়েছি (এবং কিছু লোক অনুতাপ করছি) তখন থেকেই লন্ডনের প্রথম জাতি-সংখ্যালঘু মেয়র, প্রথম মুসলিম মেয়র এবং কোনো বাসচালকের পুত্র প্রথম মেয়র আন্তঃধর্মীয় ইফতারে অংশগ্রহণ করছেন, প্রাইড মার্চে সংহতি প্রদর্শন করেছেন এবং বিদেশী আতংকের প্রতি জিরো টলারেন্স অবলম্বনে সকল প্রেক্ষাপটের লন্ডনবাসীর সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।
তিনি সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি ও বহুত্বের প্রতি সম্মানপ্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন। আর তারও উপরে তিনি রমযানের রোযাও পালন করছেন।
ইইউ ত্যাগের প্রচারণায় বোঝানো হয়েছে যে ইইউতে না থাকাই ভালো হবে। কিন্তু এ আবেগময় ভাঙন আমাদের এ ছোট দ্বীপের কিছু মানুষকে অঝোরে কাঁদাচ্ছে। আমি উজ্জ্বল ইংরেজ বন্ধুদের কাছ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কৌশল পরিকল্পনার কথা শুনেছি যারা স্কটল্যান্ডে অর্থনৈতিক অভিবাসী হতে চান। ইংল্যান্ডের জন্য ব্রেইনড্রেইন হবে একটি বিপর্যয়। তবে যেখানে বর্ণবাদ অধিক প্রভাবশালী সেখানে আমরা থাকতে চাই না।
ব্রেক্সিট প্রতিক্রিয়ার পরিহাস হচ্ছে সেসব পুরনো (অথবা নতুন) ব্রিটিশ মূল্যবোধ আমাদের কানের চারপাশে টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙ্গে পড়ছে। বহুত্ব, ঐক্য, সম্মান, সমতার পুনরুচ্চারণ ক্লিশে শোনাবে, কিন্তু সেগুলো কাজ করতে পারে যদি আমরা তাদের জন্য কাজ করি।
আর সে কারণেই সাদিক খান যা করছেন তা আমাদের জন্য ভীষণ প্রয়োজন। যেভাবেই হোক, এ ধরনের অনিশ্চয়তা, সন্দেহ ও হতাশার মধ্যে তিনি তার কাজগুলোকে একত্র করেছেন।
বর্ণবাদী হামলা সম্পর্কে লন্ডন পুলিশকে অত্যন্ত সতর্ক থাকা এবং ইইউ নাগরিকদের বলা যে লন্ডনে তারা স্বাগত প্রভৃতি দৃঢ়, প্রসারিত ও পুনরাশ্বাসমূলক কাজের ভিতর দিয়ে তিনি বিশ্বমানের নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন আমাদের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে যার মারাত্মক অভাব রয়েছে। প্রধান রাব্বি এপরাহিম মারভিস, আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবাই এবং তাদের পিছনের একঝাঁক হাসি মুখ মানুষের সাথে এ যাবত কালের বহুত্বের পরিচয়বাহী সেলফির ইতিবাচক পদক্ষেপ যা কুসংস্কার ও বিভক্তির পরিবর্তে ইতিবাচক বার্তা প্রেরণ করে। এই সকলের অংশগ্রহণকৃত ছবির প্রেক্ষিতে সাদিক খান টুইট করেনঃ এটাই লন্ডন এবং এটা ব্রিটেনও যদি আমরা সে রকম চাই।
কোনো সন্দেহ নেই, যুক্তরাজ্যের অন্য যে কোনো স্থানের চেয়ে লন্ডন আলাদা। তবে আমরা যুক্তরাজ্যের যেখানেই থাকি না কেন, আমাদের এ নীতি সমুন্নত রাখা প্রয়োজন যে বিভিন্ন পৃথক উপকরণ মিলেই একটি নিখুঁত সমন্বয় ঘটে।
আমরা যখনি একে অন্যের উপর চড়াও হব, আমরা হেরে যাব। কিন্তু আমরা এর চেয়ে ভালো। আমাদের ভালো থাকতে হবে। এখন সময় এসেছে প্রকৃত নেতার নেতৃত্বের, সাদিক খানের দিকে তা শুরুর জন্য আমরা তাকিয়ে আছি। সূত্র দি গার্ডিয়ান।
*এ নিবন্ধের লেখিকা রেমোনা আলী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ