Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯ আশ্বিন ১৪২৭, ০৬ সফর ১৪৪২ হিজরী

মহাসড়কে পুলিশের ডাম্পিংস্টেশন

এম এ মতিন, শ্রীপুর (গাজীপুর) থেকে | প্রকাশের সময় : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

ঢাকা-ময়মনসিংহ চারলেন সড়কের ব্যস্ততম এলাকা মাওনা চৌরাস্তা। এলাকাটিতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে দীর্ঘ সময় যানজট লেগে থাকতো। জনবহুল এই এলাকার গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে একটি ওড়াল সেতু নির্মাণ করে সরকার। চারলেন ও উড়াল সড়ক থাকার পরও এই এলাকার জনদুর্ভোগ কোনমতেই কমেনি, বরং বেড়েছে সাধারণ লোকজন ও পথচারীদের দুর্ভোগ। ওড়াল সড়কের পাশেই মহাসড়কের এক লেন দখল করে হাইওয়ে পুলিশ গড়ে তুলেছে ডাম্পিং স্টেশন। ডাম্পিং স্টেশনটি মহাসড়কের লেন ছাপিয়ে ফুটপাটও দখল করে নিয়েছে অটোরিক্সা ও ব্যাটারি চালিত যানবাহন। যখন যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় তখন কার্যত দুই লেনেই থাকে বন্ধ। এসব ডাম্পিং স্টেশনে চারলেনের সুফল পাওয়ার পরিবর্তে জনদুর্ভোগ বাড়লেও পুলিশ জায়গা সংকটের কথায় বলছেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
হাইওয়ে পুলিশের দেয়া তথ্য মতে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভবানীপুর থেকে জৈনাবাজার ২২ কিলোমিটার মহাসড়কের নিরাপত্তায় নিয়োজিত মাওনা হাইওয়ে। প্রতিদিনই বিভিন্ন অভিযোগ ও দুর্ঘটনায় কবলিত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান পুলিশের জব্দকৃত যানবাহনগুলো মাওনা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মহাসড়কের এক লেন দখল করে রাখা হয়। এসব জব্দ করা যানবাহনগুলোর মধ্যে কিছু যানবাহন মহাসড়কের উপরেই পড়ে থাকে বছরের পর বছর। দীর্ঘসময় পড়ে থেকে এসব গাড়ি যেমন সড়কে চলাচলের সক্ষমতা হারাচ্ছে তেমনি যানচলাচলের প্রতিবন্ধকতাসহ নানা ধরনের সমস্যার তৈরি করছে। তাকওয়া পরিবহনের চালক আমিনুল ইসলাম বলেন, স্বল্প দূরত্বে চলাচলকারী এই পরিবহনগুলো উড়াল সেতুর নিচ দিয়েই চলাচল করতে হয়। দুরপাল্লার যানগুলো ওড়াল সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে। ওড়াল সেতু ঘেঁষে থাকা মাওনা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দীর্ঘ জায়গা জুড়ে মহাসড়কের এক লেন দখল করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন অভিযোগে আটক বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। এতে প্রায়ই যানজট তৈরি হচ্ছে। ময়মনসিংহগামী দুই লেন থেকে এক লেন দখল করে জব্দকৃত যানবাহন রাখায় প্রায় সময় ছোট-খাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে। ট্রাক চালক লিয়াকত আলী বলেন, পুলিশের দেখাদেখি অনেক সাধারণ পরিবহনের চালকরাও মহাসড়কের মধ্যেই গাড়ি পার্কিং করে রাখেন। এতে প্রতিনিয়তই যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, মহাসড়ক থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে হাইওয়ে থানার অবস্থান, তাই কার্যক্রম চালাতে হয় মাওনা চৌরাস্তায় মহাসড়কের পাশের ফাঁড়ি থেকে। সেখানে জায়গা সংকট একটি বিরাট সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। জব্দকৃত যানবাহন রাখার কোন ব্যবস্থা না থাকায়, বাধ্য হয়েই মহাসড়কের পাশেই গাড়িগুলো রাখতে হচ্ছে। এটিতে দৃষ্টিকটু ও জনদুর্ভোগ তৈরি হলেও আসলে কোন উপায় যে নেই।
হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর জোনের পুলিশ সুপার আলী আহমেদ খান জানান, মহাসড়কের নিরাপত্তায় নিয়োজিত হাইওয়ে পুলিশের জব্দকৃত যানবাহন রাখারমত কোন জায়গা আমরা বরাদ্ধ পাইনি। স্থানের অভাবেই মূলত মহাসড়কের পাশেই গাড়িগুলো রাখতে হচ্ছে। এই সমস্যা লাঘবে মহাসড়কের প্রতিটি থানার জন্য পাঁচ একর করে ভূমি ডাম্পিং স্টেশনের জন্য বরাদ্ধ দেয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে অচিরেই জায়গা বরাদ্ধ পাওয়া যাবে, জায়গা পেলে সমস্যারও সমাধান হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মহাসড়ক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন