Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ০৩ শাবান ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

নিখোঁজের ২১ দিন পর ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার, গ্রেফতার ৬

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১০:৪৯ এএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নিখোঁজের ২১দিন পর ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের মরদেহ নিজ গ্রাম রাধাবল্লভপুরের একটি পুরাতন টয়লেটের ভিতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল শুক্রবার দিনগত রাত ২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনো পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের রাধাবল্লভপুর গ্রামের মো. হাসিম উদ্দিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৩৫) গত ১৮ জানুয়ারি ব্যবসার কাজে উচাখিলা বাজারে যান। প্রতিদিন রাতে বাড়িতে ফিরলেও ওই দিন হেলাল উদ্দিন বাড়ি ফেরেননি। সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের বিষয়ে ২০ জানুয়ারি ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্ত্রী মাজেদা খাতুন। কিন্তু ২১ জানুয়ারি রাতে মুঠোফোনে (০১৯৬১-৬৮৫৯৬১) হেলালের বড় ভাই মো. দুলাল মিয়ার মুঠোফোনে কল আসে। ফোনের অপর প্রাপ্ত থেকে বলা হয়- ‘তোর ভাই কি হারানো গেছে? তোর ভাইকে আমরা নিয়ে গেছি। ফেরত পেতে হলে ২ লাখ টাকা লাগবে।’

তখন দুলাল মিয়া এতো টাকা দিতে পারবে না অনুনয় বিনয় করলে এক লাখ টাকায় রফা হয়। টাকা নিয়ে যেতে বলা হয় উচাখিলা-লক্ষীগঞ্জ সড়কে। ওই দিন কিছুদূর গিয়ে মুঠোফোনে ওই নম্বরে কল দিয়ে তা বন্ধ পান দুলাল। ওই অবস্থায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ মুঠোফোনের নম্বরটি দিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় উচাখিলা ইউনিয়নের মঘা গ্রামের নুর ইসলাম ও তার ছেলে আজিজুলকে আটক করে। মুঠোফোনের ওই নম্বরটি নুর ইসলামের নামে থাকায় এবং ফোনটি আজিজুল ব্যবহার করায় তাদের আটক করা হয়। কিন্তু ঘটনার অন্তত ১৫ দিন আগে ফোনটি হারিয়ে যাওয়ায় এবং তাদের কাছ থেকে কোনো ধরণের ক্লু না পাওয়ায় পুলিশ স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দু’জনকে ছেড়ে দেন। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় একই গ্রামের আক্কাস ও আকাশ, কাঞ্চন, ফারুক, রিপন, খাইরুলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্য মতে সিলেট থেকে উত্তম নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে শুক্রবার রাত দশটার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

রাত ১২টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে উত্তমকে নিয়ে অভিযানে যায় পুলিশের একটি দল। এ সময় উত্তমের দেয়া স্বীকারোক্তি মতে রাধাবল্লভপুর গ্রামের কামরুল ইসলামের বাড়ির পিছনের পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে হেলাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়।

এদিকে হেলাল উদ্দিনের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। হত্যায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান তারা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: লাশ উদ্ধার


আরও
আরও পড়ুন