Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ আশ্বিন ১৪২৭, ০৩ সফর ১৪৪২ হিজরী

সরকারকে দ্রুত পদত্যাগের পরামর্শ দিলেন ড. কামাল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

দেশের মানুষ এখন আগের থেকে বেশি ঐক্যবদ্ধ, তারা এই সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই আওয়ামী লীগকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে ক্ষমতা ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।
গতকাল বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবরণের দুই বছর প‚র্ণ হওয়া উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় ড. কামাল এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণফোরোমের নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক নুরল আমিন ব্যাপারীসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ড. কামাল বলেন, আওয়ামী লীগ নিজে থেকে সরে না গেলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে। এই সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না জনগণ। সত্যিকার অর্থে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে হবে। সেই সংসদে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে তারা দেশ পরিচালনা করবে। এখন যারা আছে, তাদের লাথি মেরে দেশ থেকে বের করে দিতে হবে। পদত্যাগ পদত্যাগ বললে হবে না। পদত্যাগ না করলে লাথি মেরে নামাতে হবে। ওই সব ভাষায় না হলে, তাদের হাত ধরে টেনে রাস্তায় নামিয়ে দিতে হবে। সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশের মালিকের ভ‚মিকায় আসতে হবে। সবাইকে রাজপথে নেমে দাবি আদায়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করতে হবে। এক মিনিটও দেরি না করে সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্র ও মানুষের সাংবিধানিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়ে স্বাধীনতার স‚বর্ণ জয়ন্তী পালন করা হবে।
কামাল হোসেন বলেন, আজ বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সভা করতে হবে এটা অকল্পনীয় ও দুঃখের বিষয়। এখন সভা-সমাবেশে নয়, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে সামনে রেখে মাঠে নামবো। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে মাঠে নামতে হবে। চলেন আমরা মালিক হিসেবে ভ‚মিকা রাখি।
কামাল হোসেন বলেন, তারা কী কী প্রচার করছে, অমুক বর্ষ এভাবে উদযাপন করবে। সবাইকে একভাবে উদযাপন করতে হবে। দেশের মালিক হিসেবে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উদযাপন করবে এটা একটা প্রহসন।
জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, ঐক্যফ্রন্ট গঠন করার আগে আমরা ৮ দফা দাবি দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও দাবিই পূরণ হয়নি। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ছিল দাবিগুলোর মধ্যে। আমি বিএনপি করি না। কিন্তু গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়ার মুক্তি জরুরি।
আসম রব বলেন, শেখ হাসিনাকে বলতে চাই, আপনি কি শান্তিমতো ক্ষমতা থেকে বিদায় নেবেন নাকি অন্যভাবে যাবেন। সিটি নির্বাচনে মানুষ ভোট না দিয়ে প্রমাণ করছে গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা পরিবর্তন হবে না। তাই তারা ভোট দিতে যায়নি। জনগণ আমাদের বলছে, রাস্তায় নামার জন্য তারা প্রস্তুত। এখনও সময় আছে শান্তিপূর্ণভাবে বিদায় নেন। না হলে কীভাবে হবে সেটা বোঝতেও পারবেন না।
প্রতিবাদ সভায় নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই স্বৈরাচার সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে ফ্রন্টের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামতে হবে। আজ না হোক, এক মাস কিংবা দুই মাস পরে হলেও কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে। না হলে জনগণ নিজেরাই আন্দোলনের পথ বেছে নেবে। আমাদের কথা না বলে আন্দোলনে নামতে হবে।
ডা. জাফরউল্লাহ বলেন, দেশে অরাজকতা চলছে। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশনকে পরিবর্তন করে শক্তিশালী কাউকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, দেশের বাইরের শত্রু রাও অগ্রসর হচ্ছে। তা মোকাবিলা করতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য দরকার হলে সারাদেশে পদযাত্রা করতে হবে।
ড. মঈন খান বলেন, বক্তব্য দিয়ে নয় সবাইকে পথে নেমে আন্দোলন করতে হবে। রাজপথের আন্দোলন ছাড়া গণতন্ত্র উদ্ধার সম্ভব নয়। বিরোধী দলকে দমন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে এক লাখ ৩৫ হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি হিংসার রাজনীতি করে না। বিএনপি চায় সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে যে মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে, সেই সম্পর্কে কোনো কাগজে তার নাম নেই। শুধুমাত্র তাকে প্রতিহিংসার জন্যই কারাগারে রাখা হয়েছে। জামিন তার মৌলিক অধিকার হলেও তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ড. কামাল


আরও
আরও পড়ুন