Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ১৪ হাজার শিশু কক্সবাজার নাজিরারটেক শুঁটকিপল্লী

শামসুল হক শারেক, কক্সবাজার থেকে | প্রকাশের সময় : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০৩ এএম

কক্সবাজার শহরতলীর বিশ্বের বৃহত্তম শুঁটকিপল্লী খ্যাত ‘নাজিরারটেক’ শুঁটকিপল্লী। সূত্রমতে এখানে সহস্রাধিক শুঁটকি মহাল বা খলায় ১৩ হাজার ৫২৪ জন শিশু শ্রমিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে কাজ করে থাকে। এসব শিশুরা একদিকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত অপরদিকে রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।
কক্সবাজারের নাজিরারটেক শুঁটকি পল্লীসহ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো শিশু শ্রমের বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে জানিয়ে শিশু শ্রম বিষয়ে বিদ্যমান আইন প্রয়োগের দাবি জানানো হয়েছে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত ৩ দিনব্যাপী এক কমর্শালায়। ‘উইনরক ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে শিশু শ্রম বিষয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক এ কর্মশালা থেকে এ দাবি জানানো হয়। কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে অনুষ্ঠিত তিনদিনের এ কর্মশালায় ঢাকা এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মরত সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় বলা হয় কক্সবাজার শহরতলীর নাজিরারটেক শুঁটকিপল্লী বিশ্বের বৃহত্তম একটি শুঁটকিপল্লী। এখানে কর্মরত সাড়ে ১৩ হাজার শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ও মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। যে বয়সে এই শিশুরা স্কুলে যাওয়ার কথা অথচ কোনো না কোনো কারণে তারা ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে আগামীতে আমাদের জন্য বড় ধরণের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কর্মশালা থেকে শিশু অধিকার বিষয়ে যেসব আন্তর্জাতিক আইন বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে সে আইন বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
কর্মশালায় উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এর প্রকল্প পরিচালক জামান খান বলেন, কক্সবাজারে শিশু শিক্ষার হার এমনিতেই কম। এর উপর শুঁটকি পল্লীসহ সারাদেশে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ সেক্টরে উদ্বেগজনক হারে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশে যোগ্য নাগরিকের শূন্যতা দেখা দেবে। সংবাদকর্মীদের এ বিষয়ে লেখা লেখির মাধ্যমে সরকার, এবং অভিভাবকদের উপর প্রভাব পড়তে পারে। সচেতন হতে পারে গোটা জাতি। এতে করে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কমতে পারে শিশু শ্রম।
কর্মশালা আরো বক্তব্য রাখেন, সমন্বয়কারী গোলাম শাহানী, বাদল হালাদার ও তানভীর শরীফ। কর্মশালায় আরো জানানো হয়, নাজিরারটেক ছাড়াও মহেশখালীর সোনাদিয়া, ঠাকুরতলা, কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী, কুতুবদিয়া এবং টেকনাফেও রয়েছে শতাধিক শুঁটকি মহাল বা খলা। এখানেও শিশু শ্রমিকের সংখ্যা রয়েছে শত শত। কর্মশালায় দেয়া তথ্যমতে, ২০১০ সালে শুঁটকি মহালের সংখ্যা ছিল ৮৭২টি। সাগরে মাছ কম পাওয়াসহ নানা কারণে খলা বা মহালের সংখা কমে এখন হয়েছে ৫৬১টি। ২০১০ সালের তথ্যমতে এসব শুঁটকি খলায় তখন শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৩৬২। তা এখন হয়েছে ১৩ হাজার ৫২৪।
সরেজমিনে নাজিরারটেক শুঁটকিপল্লী ঘুরে দেখা গেছে, শত শত নারী শিশু ও পুরুষ শ্রমিক কাজ করছে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে। এর মধ্যে দেখা গেছে স্থানীয়দের সাথে কাজ করছে অনেক রোহিঙ্গা নারী শিশু।
এ ব্যাপারে পৌর কাউন্সিলর আক্তার কামাল বলেন, শুধু এখানে তিন সহস্রাধিক শিশু শুঁটকি পল্লীতে কাজ করে থাকে। শিক্ষা ও অধিকার বঞ্চিত এসব শিশু অত্যন্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে কাজ করে থাকে। পৌরসভার উদ্যোগে এখানে রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা করছেন বলেও জানান তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শুঁটকিপল্লী
আরও পড়ুন