Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ০৭ জুন ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৪ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

প্রবেশপথেই বিশৃঙ্খলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে এ কে খান অলঙ্কার যানজটে অচল

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

সড়কে সারি সারি বাস। তাতে চলছে যাত্রী ওঠা-নামা। তার পাশে সরু অংশে চলছে যানাবাহন। দূরপাল্লার বাসের সাথে আছে চট্টগ্রাম বন্দরমুখী ট্রাক, কন্টেইনারবাহী লরি, কাভার্ড ভ্যান। তার ওপর ছোট ও কমগতির গাড়ির ঢল। চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা থেকে কর্নেল হাট হয়ে একে খান মোড়ের চিত্র এখন এমনই বেহাল।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে নগরীর প্রধান প্রবেশ পথে এমন বিশৃঙ্খলায় কয়েক কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এর প্রভাবে অলঙ্কার মোড় হয়ে পোর্ট কানেকটিং রোড, একে খান মোড় হয়ে জাকির হোসেন সড়কে যানজট বিস্তৃত হচ্ছে। আর তাতে আটকা পড়ছে আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী ভারী যানবাহন। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বিলাসবহুল যাত্রীবাহী বাসসহ দূরপাল্লার বাস যানজটে আটকা পড়ছে। প্রতিনিয়ত যাত্রীদুর্ভোগ বাড়ছে।
যাত্রী ও বাস চালকরা বলছেন, ঢাকা থেকে পাঁচ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম আসার পর সিটি গেইট হয়ে জিইসি মোড়ে যেতে কখনো কখনো এক ঘণ্টা পার হয়ে যায়। আবার নগরীর বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার রুটে চলাচলকারি বাসগুলোকেও সেখানে আটকা পড়তে হচ্ছে। প্রবেশ পথের এ জটলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সুফল গিলে খাচ্ছে। মহাসড়কে এখন যানজট নেই। অথচ মহানগরীতে প্রবেশ আর বের হওয়ার পথে জটে আটকা পড়ছে যানবাহন। এতে চট্টগ্রাম বন্দরমুখী আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলও বিঘিœত হচ্ছে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ মহানগরীতে নেই কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। ফলে যত্রতত্র অঘোষিত টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল করছে। অলঙ্কার, সাগরিকা, এ কে খান, কর্নেলহাট ছাড়াও দামপাড়া, স্টেশন রোড, সিনেমা প্যালেস, ইপিজেড মোড়, বায়েজিদসহ নগরীর ব্যস্ততম সড়কের পাশে বাস কাউন্টারের সামনে থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়ছে। ফলে এসব এলাকায় সড়কে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে হালিশহরে টার্মিনাল তৈরির উদ্যোগ নেয়া হলেও তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। টার্মিনাল না থাকায় রাস্তার ওপর চলছে যাত্রী ওঠানামা।
গতকাল এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অলঙ্কার মোড় থেকে একে খান হয়ে কর্নেলহাট পর্যন্ত অঘোষিত বাস টার্মিনাল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কমুখী এ চার লেন সড়কের দুপাশে অসংখ্য বাস কাউন্টার। কাউন্টারের সামনে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করা হচ্ছে। এতে সড়কের একাংশ বেদখলে চলে গেছে। বাকি অংশে বন্দরমুখী পণ্যবাহী ভারী যানবাহন এবং গণপরিবহনসহ অন্যান্য পরিবহনও চলছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে বেসামাল এলাকার চিত্র। সম্প্রসারণ কাজে ধীরগতিতে পোর্ট কানেকটিং (পিসি) রোডে গত চার বছরের বেশি সময় অচলাবস্থা চলছে। সড়কের বন্দর নীমতলা থেকে হালিশহর পর্যন্ত একাংশে চলছে যানবাহন। অন্য অংশে এখনও কাজ চলছে।
আবার হালিশহর থেকে অলঙ্কার মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই অংশে এখনো কাজ শেষ হয়নি। বেহাল সড়কেই চলছে যানবাহন। এর ফলে সেখানে তীব্রজটে আটকা পড়ছে সব ধরনের যানবাহন। অলঙ্কার মোড়ের পরেও রাস্তায় আছে অনেক খানাখন্দ। একাংশে চলছে নালা সংস্কারের কাজ। সেখানে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পিসি রোডের জট অলঙ্কার হয়ে কর্নেলহাট পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে। সাগরিকা শিল্পাঞ্চলমুখী সড়ক এবং পাহাড়তলী হয়ে দেওয়ানহাটমুখী সড়কেও যানজট ছড়িয়ে পড়ছে।
এ অবস্থায় জাকির হোসেন সড়ক হয়ে একে খান মোড় থেকে মহাসড়কে চলাচলকারি যানবাহনও জটে আটকা পড়ছে। জাকির হোসেন সড়ক কিছুটা সরু হওয়ায় সড়কের একে খান গেইট থেকে সিইসি মোড় পর্যন্ত তীব্র জট হচ্ছে। এ সড়কের দুই অংশে রয়েছে রেলক্রসিং। ভেটেরিনারি বিশববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউএসটিসি, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ, বেসরকারি পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয়, পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতাল, বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্র, ফয়’স লেক, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাসহ সড়কের দুইপাশে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য স্থাপনা। যানজটের কারণে এ সড়কে চলাচলকারি লোকজনকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে রাস্তায় বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা, অন্যদিকে সড়কে ভারী যানবাহনসহ গাড়ির চাপ বেশি থাকায় এ অচলাবস্থা। এর প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। রাস্তায় নেমে দুর্ভোগের মুখোমুখী হতে হয় সকলকেই।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম মোস্তাক আহমদ খান বলেন, পিসি রোডের সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে ওই এলাকায়। বিশেষ করে কর্নেলহাট এলাকায় ভারী যানবাহনের চাপে জটলা হচ্ছে। কিভাবে অবস্থার উন্নতি করা যায় তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। কিছু কিছু যানবাহনকে ইউটার্নে পার করে দিয়ে জট কমানোর বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। পতেঙ্গা সৈকত থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত সিডিএর নির্মাণাধীন আউটার রিং রোড প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ওই এলাকায় বন্দরমুখী ভারী যানবাহনের চাপ কমবে আর তাতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও জানান তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মহাসড়ক

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন