Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ব্রেক্সিটের প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ৪ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল রোববার লন্ডনে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার ব্রিটেনবাসী। বিক্ষোভকারীরা ইইউ’র ৫০ ধারা অনুসারে ব্রিটেনের ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান। বিক্ষোভ শেষে তারা পার্লামেন্টের সামনে অবস্থান নেন। বক্তৃতা করেন লেবার এমপি ডেভিড ল্যামি, লিবারেল ডেমোক্রেট নেতা টিম ফ্যারন, বামপন্থি নেতা ওয়েন জোনস এবং সঙ্গীতশিল্পী বব গেলডফসহ আরো অনেকে। তবে রক্ষণশীল নেতা ড্যানিয়েল হ্যানান বিক্ষোভের বিরোধিতা করে বলেছেন, ইইউ ত্যাগে ব্রিটেনবাসী এযাবতকালে সবচেয়ে বেশি ভোট দিয়েছে। ভোটে হেরে এমন বিক্ষোভ আয়োজনের সমালোচনা করেছেন তিনি।
এর আগে, ইইউ ছাড়ার পক্ষে গণরায়ের পর দাবি উঠলেও এ নিয়ে পুনরায় গণভোট আয়োজনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ঐতিহাসিক ভোটে হারের পর পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া ক্যামেরন পার্লামেন্টের বক্তব্যে ভোটের রায় মেনে নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান বলে ব্রিটিশ দৈনিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। বিশ্বজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের ওই গণভোটের পর এটাই যুক্তরাজ্যের হাউস অফ কমন্সে সরকার প্রধানের প্রথম বক্তব্য।
ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে যুক্তরাজ্যের সাড়ে চার কোটি ভোটারের ৫২ শতাংশ ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে চার দশকের বন্ধন ছেঁড়ার পক্ষে রায় দেয়। এর ফলে যুক্তরাজ্যসহ বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় টলোমলো অবস্থার প্রেক্ষাপটে পুনরায় গণভোটের আওয়াজ উঠেছে যুক্তরাজ্যে এবং এর পক্ষে আবেদনে চার লাখ নাগরিকের সই ইতোমধ্যে সংগ্রহ হয়েছে। ইইউতে থাকার পক্ষের ক্যামেরন পার্লামেন্টে বলেন, ফল নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তবে এর ঝুঁকি নিয়ে আমি যা বলছিলাম, তা থেকে অবশ্যই আমি সরে আসছি না। এটা বড় কঠিন। আমাদের অর্থনীতিতে সমন্বয়ের প্রয়োজন আমরা এরই মধ্যে অনুভব করতে শুরু করেছি। আমাদের সাংবিধানিক বিষয়গুলোর চ্যালেঞ্জও দেখতে শুরু করেছি। ইংল্যান্ড, ওয়েলস, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড নিয়ে গঠিত যুক্তরাজ্যে এই গণভোটে স্পষ্ট দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ইইউ ছাড়ার পক্ষ জিতলেও হেরেছে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে। স্কটল্যান্ড ইতোমধ্যে ইইউতে থেকে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন আটকে দিতে তাদের পার্লামেন্টের মাধ্যমে ভেটো দেয়ার হুমকি দিয়েছে।
ওদিকে, বিরোধী লেবার পার্টির ডেভিড ল্যামি গণভোটের পরও ইইউ ছাড়ার বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার প্রস্তাব রাখেন। লিবারেল ডেমোক্রেট সদস্যরা বলছেন, ২০২০ সালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় গেলে তারা যুক্তরাজ্যকে ইইউতে রাখার পদক্ষেপ নেবেন। গণভোটে দ্বিধাবিভক্তি স্পষ্ট হওয়ার পর ইউরোপের অভিবাসীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানান ক্যামেরন। যুক্তরাজ্যের গণভোটের ফলাফলে চরম হতাশ হলেও ইইউর বাকি ২৭ সদস্য বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে লন্ডন সরকারকে তাগিদ দিয়ে আসছে। বিবিসি, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।