Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬, ৩০ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

বাব হত্যার বিচার চান সাংবাদিক আনোয়ার

সিংড়া (নাটোর) উপজেলা সংবাদাদাতা | প্রকাশের সময় : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০২ এএম

নাটোরের সিংড়ায় ২৪ বছর পর পিতা হত্যার বিচার দাবি করে থানায় মামলা করেছেন ছেলে। মামলার বাদী দৈনিক ইনকিলাবের সিংড়া উপজেলা সংবাদদাতা আনোয়ার হোসেন আলীরাজ। তার দাবি পিতাকে হত্যা করে জমি ও ঘর অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন আফছার আলী নামের এক প্রভাবশালী। গত ৩ ফেব্রæয়ারি থানায় মামলা করা হলেও অদ্যবদি মামলা রেকর্ড করা হয়নি। জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই সাংবাদিক।
সিংড়া থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আগপাড়া শেরকোল গ্রামের মৃত আজগর আলী ও তার স্ত্রী মোছা. নকিরন নেছা ১৯৫৭ সালে এসএ ১৬৩৯ নং খতিয়ানের ৯৫৮ নং দাগ এবং আরএস-২৩১৯নং খতিয়ানের ১২০২নং দাগের ২৯ শতাংশ কাত ২০ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগ দখল ও বসবাস করতে থাকেন। পরবর্তীতে অবশিষ্ট ৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন আজগর আলী। কিন্তু পুরো সম্পত্তি আজগর আলীর স্ত্রীর একক নামে রেকর্ডভূক্ত হয়। ছেলে আনোয়ার হোসেনের জন্মের পর তার মায়ের অংশের ১০ শতাংশ জমি ৪৩৬৩ নং দলিলমূলে তাকে দান করে। ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে ১৯৭৩ সালে তিনি মারা যান। এরপর ১৯৯৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আজগর আলীও মারা যান। আলীরাজ সাংবাদিকতায় আসার আগে ভোগদখল থাকাবস্থায় বিবাদী আফছার আলী গং ঘর-বাড়ি ভেঙে ভিটে-মাটি থেকে ৫ ভাই-বোনকে তাড়িয়ে দেয়। এর আগে বিবাদী আফছার আলী গং বাদীর বাড়িতে হামলা করে লুটপাট করে একটি টিনের ঘর ভেঙে নিয়ে যায়। বর্তমানে ওই ঘরে বিবাদী বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন আলীরাজ বাদী হয়ে উপজেলা ভূমি অফিসে একটি মামলা দয়ের করেন। দীর্ঘদিন উভয় পক্ষের হাজিরা ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং তদন্ত প্রতিবেদন শেষে গত ১৬ জানুয়ারি উপজেলা ভূমি অফিস বিবাদী আফছার আলীর নামজারী বাতিল করে দেয়।
বিবাদী আফছার আলীর দাবি ৪/৯/১৯৭৫ সালে তিনি আজগর আলীর স্ত্রী নকিরন নেছার নিকট থেকে ২৫ শতাংশ জমি কিনে নিয়েছেন। নাটোর জজ কোটের আইনজীবি মো. সাইদুর রহমান জানান, ১৯৫০ সালের ভূমি আইনে বলা হয়েছে, দলিল সম্পাদনার পর কোন জমির দাগ-খতিয়ান অথবা নামের বানান ভুল হলে পুনরায় রেজি. অথবা দেওয়ানী আদালতে মামলা করে তিন বছরের মধ্যে সংশোধন করে নিতে হবে। তিনি বলেন, দলিলে দাগ-খতিয়ান সঠিক না থাকলে এবং মুত্যুর পরে দলিল হলে অবশ্যই ওই দলিল বাতিল যোগ্য। স্থানীয় ইউপি সদস্য কবির হোসেন জমি ও ঘর অবৈধ দখলে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ নূর-এ আলম সিদ্দিকী জানান, গত তিন ফেব্রæয়ারি একটি অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্ট করা হবে। আর বাদীর নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন