Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬, ০৮ শাবান ১৪৪১ হিজরী

কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন দেবে তুরস্ক এরদোগান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। গতকাল শুক্রবার ইসলামাবাদে পাক সংসদের একটি যৌথ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে এই ঘোষণা দেন এরদোগান। এ সময় তিনি পাকিস্তানের প্রতি তার দেশের সমর্থন এবং ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সে (এফএটিএফ) তাদের পক্ষে অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

দুই দিনের সফরে এখন পাকিস্তানে অবস্থান করছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। পাকিস্তানের সংসদে দেয়া ভাষণে এরদোগান জানান, পাকিস্তানকে তিনি নিজের দেশের মতোই মনে করেন। তাই যে কোনো সংকটে তিনি পাকিস্তানের পাশে থাকতে চান। তিনি বলেন, কয়েকশ’ বছর আগে তুরস্কের কানাকালেতে যে ধরনের হত্যাকাÐ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল ঠিক তেমনটিই ঘটছে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে। এর বিরুদ্ধে তুরস্ক সবসময় প্রতিবাদ করে যাবে।

কাশ্মীর ইস্যুতে এরদোগান বলেন, ‘আমাদের কাশ্মীরি ভাই-বোনরা কয়েক দশক ধরে সংকটে ভুগছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের একতরফা পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে এই ভোগান্তি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।’ তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর ইস্যু সংঘাত বা নিপীড়নের মধ্য দিয়ে নয় বরং ন্যায়বিচার এবং সমতার ভিত্তিতে সমাধান করা যেতে পারে। এ জাতীয় সমাধান সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের স্বার্থে কাজে লাগাবে। তুরস্ক কাশ্মীরের সমস্য সমাধানে ন্যায়বিচার, শান্তি ও সংলাপে সমর্থন দেবে।’

অতীতে পাকিস্তান তার দেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল স্মরণ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি জনগণ তাদের রুটি আমাদের সাথে ভাগ করেছিল। তাদের সহায়তা আমরা কখনও ভুলে যাইনি এবং ভুলে যাব না।’ তিনি বলেন, পাকিস্তান এখন শান্তি এবং স্থিতিশীলতার পথে রয়েছে। তবে এই শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুব সহজে আসে না। এজন্য অনেক কাজ করতে হয়। আশা করি, পাকিস্তান শিগগিরই সন্ত্রাসবাদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল হবে। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে আমরা পাকিস্তানকে সব ধরনের সহায়তা দেব। সূত্র : ডন।

নেচে গেয়ে বসন্তবরণ
স্টাফ রিপোর্টার : ষড়ঋতুর এই দেশে বসন্তকে বলা হয় ঋতুরাজ। বসন্ত মানেই নতুন ফুলের ঘ্রাণ। শীতের পাতা ঝরা মৌসুম শেষে গাছে গাছে নতুন কুঁড়ির আগমন। উত্তুরে হিমেল হাওয়া থেমে যায়, আসে দখিনা বাতাসের দিন, আর কোকিলের মন উদাস করা কুহু কুহু তান। বসন্তে প্রকৃতি যেমন নিজ রঙে রাঙিয়ে নেয় নিজেকে, তেমনি মানুষের হৃদয়েও অন্যরকম দোলা দিয়ে যায়।

ইট-পাথরের এই নগরজীবনে কোথা দিয়ে কোন ঋতু চলে যায় তা জানতে হয় পত্রিকার পাতা খুলে। এখানে পূর্ণিমার রাতও অধরা। তবু আসে দখিনা বাতাসের দিন। এখনো নগরে আসে বসন্ত আর সেই বসন্ত বরণ করতে শুরু হয় নানা আয়োজন। ফাগুনের প্রথম প্রহরে ষড়ঋতুর শেষ ঋতুটিকে বরণ করে নিতে কত রঙ। হাজারো প্রাণের কল্লোলে নগরীর রুক্ষ প্রকৃতিও বসন্তের জয়গানে মুখর। বৃক্ষহীন ইটÑপাথরের পাষাণ নগরে বাসন্তী রাঙা বসন দেখে আঁচ করা যায় আজ বসন্ত। আর ফুলের শোভায় সেজে মানুষ ছুটছে উৎসবের আঙিনায়।
প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীতে জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ আয়োজন করেছে বসন্ত উৎসবের। গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় ছিল বসন্তবরণ এ আয়োজন। সকাল ৭টায় গিটারে রাগ বসন্ত বিহারের মূর্ছনায় শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। গান, কবিতা আর সম্মিলিত নৃত্যে শুরু হয় নাগরিক বসন্ত উদ্যাপন।

এর পর পরিবেশন করা হয় রাগ আহির ভৈরব। প্রভাতী রাগের আলাপ, গৎ-এর সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রের ধুনে ভোরের উৎসব পায় অনন্যমাত্রা। এর পর কণ্ঠে কণ্ঠে সেই গানÑ ‘বসন্ত বাতাসে সই গো, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে’।
এরপর ধ্রæপদী নৃত্য দর্শকদের মাতায়ারা করে দেয়। বসন্তের কবিতা আবৃত্তি, বিভিন্ন শিল্পীর কন্ঠে গান সবার হৃদয় স্পর্শ করে যায়। চারুকলা ছাড়াও ধানমÐির রবীন্দ্র সরোবর, উত্তরার রবীন্দ্র সরণি ও বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা) মঞ্চে বসন্তবরন উৎসব চলে।

রাজধানীতে তরুণ-তরুণীদের চারুকলায় ফাগুনের গান দিয়ে শুরু হয় বসন্ত বন্দনা। চারিদিক তৈরি হয় বসন্তের আমেজ। ছেলেরা পরে হলুদ পাঞ্জাবি আর মেয়েরা নিজেদের সাজায় হলুদ শাড়িতে, খোঁপায় পড়ে হলুদ গাঁদা ফুল।
এবারে একই দিনে বসন্তের সূচনা আর ভালোবাসা দিবস। তাও আবার তা পড়েছে ছুটির দিন শুক্রবারে। বসন্ত আর ভালোবাসার এই সহযাত্রায় শিমুল আর রক্তপলাশ ফুটেছে প্রেম হয়ে। শহরে মেতে উঠেছে আনন্দে। দিকে দিকে চলছে বসন্ত বরণ। নবীন প্রাণের উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ছে শীতের নিচে চাপা পড়া প্রকৃতিতে।
বসন্ত মানেই তো রঙ, রঙের খেলা। নিজেদের রঙিন করে উৎসবে যোগ দিয়েছেন সব বয়সের মানুষ। মেয়েরা সেজেছে বাসন্তী শাড়ির সঙ্গে হলুদ গাঁদার ফুলে, আর ছেলেরা সেজেছে রঙ্গিন পাঞ্জাবিতে। এক কথায় রং-রসে ভরা এ বসন্ত উদযাপন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পাকিস্তান


আরও
আরও পড়ুন