Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ০৩ শাবান ১৪৪১ হিজরী

পতিতার জানাজার নামাজ পড়া যাবে কি?

ইলিয়াছ মাহমুদ
ইমেইল থেকে

প্রকাশের সময় : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৭:১১ পিএম

উত্তর : ইসলামে জিনা বা ব্যভিচার সম্পূর্ণ হারাম। মহানবী সা. স্পষ্ট বলেছেন, কোনো মুসলিম যখন জিনা করে তখন আর সে মুসলমান থাকে না। ঈমান তাকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর তওবা ও প্রায়শ্চিত্ত করলে আবার সে মুসলমান হতে পারে। কোনো পতিতা যখন এই জিনাকে তার জীবন জীবিকা ও অভ্যাস হিসাবে বেছে নেয়, তখন সে আর মুসলিম নারী থাকে না। জিনা ছেড়ে দিয়ে প্রকৃত তওবা করে নতুন করে ঈমান আনার আগ পর্যন্ত তাকে মুসলিম নারী হিসাবে গণ্য করার ব্যবস্থা নেই। এজন্য ইসলামের ইতিহাসে কোনো মুসলিম পতিতা গত দেড় হাজার বছরে পাওয়া যাবে না। একবার জিনা করলে যেখানে মৃত্যুদন্ড অবধারিত, সেখানে বছরের পর বছর লাইসেন্স করে ঘোষণা দিয়ে জিনা করে গেলেও সে দাবী করলেই মুসলমান থেকে যাবে এটি ইসলামী শরিয়তের আইন হতে পারে না। কারও ব্যক্তিগত অভিরুচি বা অবুঝ নামধারী কোনো মুসলমানের মতামত হতে পারে। এজন্য বিশেষ সম্প্রদায়ের তৈরি বেশ্যালয়ে নাম লিখিয়ে চলে যাওয়া মুসলিম নারীদের শতশত বছর আগে থেকেই প্রকৃত উলামা মাশায়েখগণ অমুসলিম ঘোষণা করে রেখেছেন। গোনাহ ত্যাগ করে তওবা ও কালেমা পাঠ ছাড়া তাদের মুসলিম সমাজে তোলার কোনো উপায় নেই। এজন্য তাদের জানাজা ও মুসলিম কবরস্থানে দাফন যুগ যুগ ধরে নিষিদ্ধ আছে। সম্প্রতি এ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, অনেকে মানবতার দোহাই দিয়ে তাদের পক্ষে উকালতি ও মায়াকান্না জুড়ে দিয়েছেন। তাদের উচিত, এমন খারাপ কাজ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা, পুনর্বাসন করা, তওবা ও ঈমানের ব্যবস্থা করা এবং অত:পর জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা। কোনো কিছু না বোঝে একটি গর্হিত অপরাধকে উপেক্ষা এবং ভাগ্যাহত এসব নারীর সামগ্রিক কল্যান চিন্তা বাদ দিয়ে শুধু দাফন নিয়ে ক্ষেপে উঠার কোনো কারণ নেই। কোরআন সুন্নাহ ও শরীয়ত মতো ইসলামের বিধান চলে। কোনো ব্যক্তির আবেগে শরীয়তের বিধান ভেঙ্গেচুরে সমান করে ফেলা যায় না।
উত্তর দিয়েছেন : আল্লামা মুফতি উবায়দুর রহমান খান নদভী
সূত্র : জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিক্হ ও ফাতওয়া বিশ্বকোষ।
প্রশ্ন পাঠাতে নিচের ইমেইল ব্যবহার করুন।
inqilabqna@gmail.com

ইসলামিক প্রশ্নোত্তর বিভাগে প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা
inqilabqna@gmail.com



 

Show all comments
  • মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আবরার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১০:০১ পিএম says : 0
    ঠিক বলেছেন হযরত
    Total Reply(0) Reply
  • Alam ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৩:৩৪ এএম says : 0
    100% right.
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ সাজেদুল ইসলাম ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৮:৪৬ এএম says : 0
    ঠিক বলেছেন, তবে এসব কাজের আরও জোরালো প্রতিবাদ করা উচিত
    Total Reply(0) Reply
  • Muhammad Aminur Rahman ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ২:১৪ পিএম says : 0
    100% Right
    Total Reply(0) Reply
  • MIzanur Rajman ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৯:৫৫ এএম says : 0
    উনি চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন
    Total Reply(0) Reply
  • আসাদ ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:০৯ পিএম says : 0
    পতিতারা এই কাজ করে পেটের ক্ষুধায় আর কাস্টমাররা করে যৌনক্ষুধায়। তারা করে পাচার ও বিক্রি হয়ে এক প্রকারের বাধ্য হয়ে আর খদ্দেররা যায় স্বেচ্ছায়। আপনার দৃষ্টিতে কোনটা বেশি মারাক্তক প্লিজ?!
    Total Reply(0) Reply
  • SAKHAWAT HOSSAIN SAJIB ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৮:৫৬ পিএম says : 0
    Vai sob thik ase. Agula amar o jana silo. But kak k kisu bolte gele source lage. Plz kisu hadish quran er ayat ullekh korun.
    Total Reply(0) Reply
  • SAKHAWAT HOSSAIN SAJIB ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৮:৫৭ পিএম says : 0
    Vai sob thik ase. Agula amar o jana silo. But kak k kisu bolte gele source lage. Plz kisu hadish quran er ayat ullekh korun.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ