Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ১১ শাবান ১৪৪১ হিজরী

মংলার সক্ষমতা বাড়াতে বরাদ্দ ৬০১৫ কোটি টাকা

একনেকে অনুমোদন পেল ৯ প্রকল্প

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০২ এএম

চট্টগ্রামের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে মেগা একটি প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ছয় হাজার ১৫ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে ভারতের তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) থেকে পাওয়া থেকে বড় একটি অংশ টাকা।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) এই সংক্রান্ত্র একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, মংলা বন্দরটি আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর মালামাল পরিবহনের প্রস্তাব রয়েছে। ইতোমধ্যে নেপাল ও ভারতের প্রতিনিধি দল মংলা বন্দর পরিদর্শন করে গেছেন। প্রকল্পটির মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে জানান মন্ত্রী। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্পের আওতায় বন্দরের ১ ও ২ নম্বর জেটিতে কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। সব সুবিধাসহ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। এছাড়া সার্ভিস ভেসেল জেটি, শেড, কার্যালয়, এমপিএ টাওয়ার, পোর্ট রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স।
এদিকে চট্টগ্রামের শিকলবাহা থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ককে চারলেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলার শিকলবাহা থেকে আনোয়ারা উপজেলাসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অধিকতর উন্নত করতে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৪০৭ কোটি টাকা। এর পুরোটাই যোগান দেওয়া হবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে চারলেন সড়কটির কাজ শেষ করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। শরীয়তপুর জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা (পদ্মা ব্রীজ এপ্রোচ) সড়ক উন্নয়নেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে একনেক সভায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে এক হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। আগামী ২০২২ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে।
এদিকে গতকালের একনেক সভায় রাজশাহীর উন্নয়নে দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একটি হলো রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন। যেটি বাস্তবায়নে খরচ হবে দুই হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। অন্যটি হলো রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর বাম তীরের স্থাপনাসমূহ নদী ভাঙন হতে রক্ষা প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৭২২ কোটি টাকা। দুটি প্রকল্প বড় প্রকল্প পাশ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। পৃথকভাবে তারা নিজেদের ফেসবুকেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পোস্ট করেন।
সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, একনেকে ১৩ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা খরচে ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খরচ হবে আট হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মিলবে চার হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে মিলবে ২৯৩ কোটি টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ২৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে নোয়াখালী জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাজী কামাল উদ্দীন সড়ক, এক হাজার ৩৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দর আধুনিকায়ন’ ছয় হাজার ১৫ কোটি টাকা খরচে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (সংশোধিত), ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বিলুপ্ত ছিটমহল ও নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন’ ১২৮ কোটি টাকা খরচে ১১৮ হাওর অঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রকল্প

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৫ জানুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন