Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬, ০৮ শাবান ১৪৪১ হিজরী

পিএসএলের জমকালো উদ্বোধন কাল

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৯:০৯ পিএম

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সফল টেস্ট সিরিজ আয়োজনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। বোর্ড চেয়ারম্যান এহসান মানি তো বলেই দিয়েছিলেন, ‘পাকিস্তানের সব ম্যাচ এখন পাকিস্তানেই আয়োজন হবে।’ তারই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) সামনের আসরের সব ম্যাচ দেশের মাটিতে করতে যাচ্ছে পিসিবি।

আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) করাচির গাদ্দাফি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পর্দা উঠছে এর। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে নয়টায় টস করতে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স বনাম দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। এরপর মাঠে গড়াবে খেলা।

এ উপলক্ষে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে পিএসএল কর্তৃপক্ষ। তাতে আবার যোগ হয়েছে নতুন রং। প্রথমবারের মতো এই আসরটি গড়াচ্ছে পাকিস্তানে। পাকিস্তান সুপার লিগ হলেও এতদিন পাকিস্তানিদের কাছেই আসরটি ছিল অচেনা। মূল স্বাদটা কিংবা লিগটাকে আপন করে নেয়া ছিল খোদ পাকিস্তানিদের কাছেই কষ্টসাধ্য। তবে আক্ষেপ ঘুচেছে। তাই অন্যরকম আয়োজনও করেছে কতৃপক্ষ। ‘অতিথি’ বরণে কোনো কার্পণ্য করছে না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বর্ণিল এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজনই রেখেছে আসরকে রাঙাতে। সাড়ে তিনশ শিল্পী করাচির গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দর্শক মাতাবেন। পারফরম করবেন গ্ল্যামার দুনিয়ার একঝাঁক তারকা। অনুষ্ঠান মাতাবেন উপমহাদেশের সুফী গানের পুরধা নুসরাত ফতেহ আলী খানের পুত্র রাহাত ফতেহ আলী খান। তার সুরের ঢেউ উঠবে করাচির আকাশ। সবশেষ আকর্ষণ হিসেবে আতশবাজী তো থাকছেই!

মঞ্চ মাতাবেন পাকিস্তানি পপতারকা আববার উল হক। সুরের মূর্ছনায় স্টেডিয়াম মুখরিত করবেন শ্রোতাপ্রিয় শিল্পী ফারিদ আয়াজ। এছাড়া আবু মোহাম্মদ, সাজ্জাদ আলি, সানাম মারভি আলো ঝলমলে পরিবেশের উষ্ণতা বাড়াতে মঞ্চ কাঁপাবেন। এরপর এবারের আসরের থিম সং ‘তৈয়ার হে’ (আমরা প্রস্তুত) পরিবেশন করবেন আলি আজমত, আরিফ লোহার, হারুন ও আসিম আজহার। বর্ণিল এ অনুষ্ঠানে নজরকাড়া পারফরম করবেন পাকিস্তানের পপ আইকন শেহজাদ রয়।

উৎসবমুখর রাতে অসংখ্য দর্শককে বিনোদিত করতে চেষ্টায় কমতি নেই কর্তৃপক্ষের। আইপিএলের মতো ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগানো উপস্থাপনা দেখাতে চাইছেন তারা।

পাকিস্তানের জনপ্রিয় ঘরোয়া এ টুর্নামেন্টের পর্দা নামবে ২২ মার্চ, লাহোরে ফাইনাল দিয়ে। লাহোর, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি ও মুলতান-এই চারটি শহরে হবে ম্যাচগুলো। দল ছয়টি-ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, করাচি কিংস, লাহোর কালান্দার্স, মুলতান সুলতানস, পেশোয়ার জালমি ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স। গ্রুপে ৩০টি ম্যাচের পর ফাইনাল পর্যন্ত নকআউট পর্বে ম্যাচ ৪টি- সবমিলিয়ে মোট ৩৪টি ম্যাচের জমজমাট এই আসরের পুরোটাই উপভোগের জন্য প্রস্তুত ক্রিকেটপাগল পাকিস্তানিরাও।

এরআগে আজ (বুধবার) করাচির জাতীয় স্টেডিয়ামে হয়েছে ট্রফি উন্মোচন। স্কোয়াশ লিজেন্ড জাহাঙ্গীর খান পিসিবির চেয়ারম্যান এহসাম মানি ও অন্যান্য কর্মকর্তার সামনে ট্রফির পর্দা সরিয়ে তা প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন। পিএসএলের ছয় দলের পাঁচ অধিনায়ক উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে।

ইসলামাবাদ ইউনাইটেড অধিনায়ক শাদাব খান, করাচি কিংসের ইমাদ ওয়াসিম, লাহোর কালান্দার্সের সোহেল আকতার, পেশোয়ার জালমির ড্যারেন স্যামি ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের সরফরাজ আহমেদ উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না মুলতান সুলতানসের দলপতি শান মাসুদ।

যুক্তরাজ্যের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওটিউইল সিলভারস্মিথ এই ট্রফি ডিজাইন করেছে। চমকপ্রদ এই ট্রফিতে ক্রিসেন্ট ও তারা পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করছে। এছাড়া রং ছড়ানো দাগগুলো দেশটির সংস্কৃতি তুলে ধরেছে। এই শিরোপার ওজন আট কেজি ও ৬৫ সেন্টিমিটার লম্বা। ট্রফিটি প্রতিবছর বিজয়ী দলকে দেয়া হবে। গতকাল স্কোয়াশ তারকা জাহাঙ্গীরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পিসিবি প্রধান মানি। সেই সঙ্গে বলেছেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা বছর।’

পিএসএলে এবার সর্বমোট প্রাইজমানি ঘোষনা করা হয়েছে দশ লক্ষ ডলার। টুর্নামেন্টে বিজয়ী দল পাবে পাঁচ লক্ষ ডলার, রানার্সআপ দল পাবে দুই লক্ষ ডলার। মোট ৩৪টি খেলায় প্রতি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়কে দেয়া হবে সাড়ে চার হাজার ডলার। এছাড়া টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়, সেরা ব্যাটসম্যান, সেরা বোলার এবং স্পিরিট অব ক্রিকেট অ্যাওয়ার্ডের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে আশি হাজার ডলার। নগদ পুরস্কারের জন্য সেরা ক্যাচ, রানআউট, সর্বোচ্চ ছক্কাও অর্ন্তভুক্ত থাকবে।

পিসিএলের আগের আসরগুলোতে বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা থাকলেও এবারের আসরে সূচীর ব্যস্ততার কারণে নেই কোন টাইগার ক্রিকেটার। এ আসরের সব ম্যাচই সম্প্রচার করবে বাংলাদেশের গাজী টিভি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন