Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪১ হিজরী

আমাদের দেশে অনেকে মায়ের দুধ না পেয়ে বিপদে পড়েন। এমতাবস্থায় বুকের দুধ একত্রিত করে মিল্ক ব্যাংক করার কথা শুনেছিলাম। পরে আর হয়নি, এটা নাকি ইসলামে নিষিদ্ধ। ইসলামে এটা কেন নিষেধ?

মাহমুদুল হাসান
ইমেইল থেকে

প্রকাশের সময় : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৭:২০ পিএম

উত্তর : ইসলামে মায়ের দুধের প্রথম হকদার তার নিজের সন্তান। অবশ্য মা তার দুধ পান করাতে বাধ্য নয়। ইচ্ছা করলে সে সন্তানকে দুধ পান করানোর বিনিময়ে স্বামীর কাছ থেকে কিছু দাবী করতে পারে। যদি মা তার শিশুকে দুধ না দেয়, তাহলে অন্য দুধ মা রেখে স্বামী তার সন্তানকে দুধ পান করাবে। আমাদের সমাজে এ নীতির উর্দ্ধে থেকে মায়েরা স্নেহকে প্রাধান্য দিয়ে দুধ পান করিয়ে থাকেন। এটি তার নিজেরও তৃপ্তি, সন্তানের প্রতি মায়া এবং পাশাপাশি স্বামীর প্রতি ভালোবাসাপূর্ণ অনুগ্রহ বা এহসান। এখানে খুব লক্ষ্য রাখার একটি বিষয় এই যে, বংশের দ্বারা যেমন আত্মীয়তা সাব্যস্ত হয়, দুধ পানের দ্বারাও এমনই এক ধরণের আত্মীয়তা সাব্যস্ত হয়। যেমন, যে শিশু কোনো নারীর দুধ পান করবে, তাকে তার দুধবাবা কোনোদিনই বিয়ে করতে পারবে না। কারণ, সে ঔরসজাত কন্যার মতই দুধকন্যা। এ লোকটির ছেলেরাও এ মেয়েটিকে বিয়ে করতে পারবে না, কেননা সে মেয়েটি তাদের দুধবোন। এদের পরস্পরের মধ্যে পর্দার হুকুমও নেই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বুকের দুধ বিক্রি করা যাবে কি না? এখানে মাসআলাটি দু’রকম। ১. বিক্রি করা যাবে বা বিনিময় নিয়ে কোনো শিশুকে দুধ খাওয়ানো যাবে। পাশাপাশি তার সাথে হয়ে যাওয়া আত্মীয়তা চিরদিন মেইনটেইন করতে হবে। বিয়ে শাদীর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ২. যেখানে সেখানে দুধ বিক্রি করা বা মিল্ক ব্যাংকে বেচে দেওয়া শরীয়তে জায়েজ নয়। কেননা, এখানে কার কার দুধ মিশ্রিত হচ্ছে, কোন কোন শিশু তা খাচ্ছে এসব জানা বোঝা বা মেইনটেইন করা সম্ভব নয়। যাতে শরীয়তের লঙ্ঘনের শতভাগ আশংকা থেকে যায়। তাছাড়া বড় একটি সমস্যা এই যে, বহু পুরুষের দ্বারা উৎপন্ন বহু নারীর মিশ্রিত দুধ মনস্তাত্ত্বিকভাবে শিশুটিকে বিভ্রান্ত মানসিতার শিশুরূপে গড়ে তুলবে। এমন প্রজন্ম সুস্থ হতে পারে না। এ সমস্যাটি ইসলামও চায় না। সুতরাং দ্বিতীয় পর্যায়ের মাসআলাটি জায়েজ হবে না। 

উত্তর দিয়েছেন : আল্লামা মুফতি উবায়দুর রহমান খান নদভী
সূত্র : জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিক্হ ও ফাতওয়া বিশ্বকোষ।
প্রশ্ন পাঠাতে নিচের ইমেইল ব্যবহার করুন।
inqilabqna@gmail.com

 

ইসলামিক প্রশ্নোত্তর বিভাগে প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা
inqilabqna@gmail.com



 

Show all comments
  • ismael miah ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৮:২১ পিএম says : 0
    মাশাল্লা খোব সুন্দর উত্তর দিয়েছন
    Total Reply(0) Reply
  • ismael miah ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৮:২১ পিএম says : 0
    মাশাল্লা খোব সুন্দর উত্তর দিয়েছন
    Total Reply(0) Reply
  • সাইফ ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১০:৩৮ এএম says : 0
    মাশাআল্লাহ অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর করে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে উত্তর দেয়ার জন্য. আল্লাহ্‌ আপনাদের এর উত্তম পুরস্কার অবশ্যই দেবেন
    Total Reply(0) Reply
  • FERDOSH MIAH ৩ মার্চ, ২০২০, ৫:৩৮ পিএম says : 0
    Alhamdulliah . kub valo laglo and ami onk subject a clean hoalm.
    Total Reply(0) Reply
  • Rajib hossain ৮ মার্চ, ২০২০, ১১:২৬ এএম says : 0
    excellent. alhamdulillah.darun answer.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন

প্রশ্ন : সরকার প্রথমে ১০/১২ দিনের জন্য সবকিছু বন্ধ করে দিল। পরে আবার বাড়িয়েছে। শোনা যাচ্ছে, আরও বাড়তে পারে। যে কারণে সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হলো, আমরা কি তা মানছি? কেউ কেউ বলছেন, যদি করোনা বাংলাদেশে মহামারী রূপ ধারণ করতো, তাহলে এতদিনে তা স্পষ্ট হয়ে যেত। এসব বলে বলে তারা কেউ কেউ বলতে চাচ্ছে, হুজুররা শুধু শুধু মসজিদে যাওয়া থেকে মুসল্লীদের বারণ করছে, সরকার অকারণেই সবকিছু বন্ধ করে দিয়েছে। আসলে কি হচ্ছে? কি হতে পারে? আর আমাদের কি করণীয় বলবেন?

উত্তর : বাংলাদেশ এখনো শঙ্কামুক্ত নয়, আল্লাহ না করুন আগামী ২০/২৫ দিন পরেও কোভিড১৯ মহামারী রূপ নিতে পারে। ইতালিতে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হবার ৪৫

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ