Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, ১২ শাবান ১৪৪১ হিজরী

ক্ষতিগ্রস্ত শত বিঘা জমির আলু

মুহাম্মদ আবু মুসা, জয়পুরহাট থেকে | প্রকাশের সময় : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

জয়পুরহাটে ৩৩ কৃষকের আলুর ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ স্থানীয় একটি কিটনাশক ডিলারের কাছ থেকে আলুর ফলন ভালো হওয়ার ওষুধ কিনেছেন তারা। ঐ ওষুধ আলু ক্ষেতে স্প্রে করার পর পাতা পচন ও গাছ শুকিয়ে যায়। এতে প্রায় শত বিঘা জমির আলুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দিলেও এখনও ক্ষতিপূরণের পায়নি কোনো কৃষক। এতে দরিদ্র কৃষকরা পড়েছেন চরম হতাশায়।
সরেজমিনে জানা যায়, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মাটিরঘর, কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃষকদের ইস্পাহানি কিটনাশক কোম্পানি তাদের প্রতিনিধি ও ডিলারের মাধ্যমে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে কৃষকদের সেমিনারের মাধ্যমে বায়োডার্মা নামে একটি ওষুধ প্রয়োগ করার পরামর্শ দেন।
সে সেমিনারে তারা বলেন, বায়োডার্মা ওষুধটি আলুর ক্ষেতে স্প্রে করলে আর অন্য কোনো ওষুধ দিতে হবে না। এসব কথা শুনে কৃষকরা ক্ষেতলালের মাটিরঘর এলাকার স্থানীয় কিটনাশক ডিলার এমডি এন্টারপ্রাইজ থেকে ঐ বায়োডার্মা ওষুধ কিনে তাদের আলু ক্ষেতে স্প্রে করে দেন। তার ২/৩ দিন পর থেকেই আলুর গাছের পাতা পচন ও গাছ শুকিয়ে মরতে শুরু করে। আস্তে আস্তে কয়েকদিনে আলু ক্ষেতের অধিকাংশই গাছ শুকিয়ে মরে যায়। এ ঘটনায় ডিলারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গত ৩০ জানুয়ারি জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত হোসেন এবং কোম্পানির প্রতিনিধি ও ডিলারকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন।
কিন্তু এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা কেউ ক্ষতিপূরণ পাননি।
কৃষক শরিফুজ্জামান স্বপন বলেন, আমাদের জমির আলুর পাতা ও গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ এখনো পাইনি। আমরা সাধারণ কৃষক, অতো বুঝি না, তারা আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে, আমরা ক্ষতিপূরণ চাই। কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, সকল কৃষকেরা মিলে যা সিদ্ধান্ত নেবে তাতেই আমি মত দিব। আনিছুর ফকির বলেন, আমাদের ক্ষতি ১৫/২০ হাজার টাকার বদলে ৪/৫ হাজার টাকা দিতে চেয়েছে। কিন্তু টাকা দিব দিচ্ছি করে সময় কাটাচ্ছে। তারা টাকা না দিলে আমরা অন্য পদক্ষেপ নেব।
কিটনাশক ডিলার মেসার্স এমডি এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী রাশেদুজামান মন্ডল দুলালের প্রতিষ্ঠানে তিনি উপস্থিত না থাকায় তার দোকানের ম্যানেজার জিয়াউর রহমান সাংবাদিকের পরিচয় পেয়ে দ্রæত সটকে পরেন। পরে মুঠোফোনে ডিলার মালিক রাশেদুজ্জামান দুলাল বলেন, এ ব্যাপারে কথা বলতে চাই না। এগুলো মিটমাট হয়ে গেছে। আপনারা আর ঘাটাঘাটি করেন না। এদিকে ইস্পাহানি এগ্রো লিমিটেড কোম্পানির টেরিটরি অফিসার অপূর্ব বিশ্বাস বলেন, আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। বিষয়টি টপ ম্যানেজমেন্ট দেখছে, তারা ব্যবস্থা নেবে।
ক্ষেতলাল উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিম মন্ডল বলেন, কৃষকদের ৩০ থেকে ৩৫ একর জমিতে ইস্পাহানি কোম্পানির বায়োডার্মা ওষুধ স্প্রে করার পর আলুর গাছগুলো পচনশীল হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে ঐ এলাকার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত।
ক্ষেতলাল উপজেলার নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান বলেন, ডিলারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কোম্পানির প্রতিনিধি ও ডিলারকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারপরও যদি কৃষকরা ক্ষতিপূরণ না পায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হবে।
জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক স ম মেফতাহুল বারি বলেন, ইস্পাহানি কোম্পানির বায়োডার্মা ওষুধ প্রয়োগ করলে আর কোনো ওষুধ দিতে হবে না এ বিষয়টি ঠিক নয়। কৃষকদের অন্য ওষুধও দেয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তাদের ওষুধ প্রয়োগ করে কৃষকরা প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইস্পাহানি কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিত। বিষয়টি আমরা কোম্পানিকে জানিয়েছি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ক্ষতিগ্রস্ত


আরও
আরও পড়ুন