Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ১১ শাবান ১৪৪১ হিজরী

লন্ডনে এক মসজিদে মুয়াজ্জিনের ওপর ছুরি হামলা

বরিস জনসনের দুঃখ প্রকাশ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

লন্ডন শহরের কেন্দ্রে এক মসজিদের ভেতরে মুয়াজ্জিনের উপর ছুরি হামলার ঘটনা ঘটেছে। হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। আহত ব্যক্তি মুয়াজ্জিন, যার বয়স ৭০’এর কোঠায়, রিজেন্টস পার্কের কাছে লন্ডন সেন্ট্রাল মসজিদে হওয়া আক্রমণে আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ এটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করছে না। আহতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মসজিদে থাকা কয়েকজন পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত নামাজ বাদ দিয়ে ২৯ বছর বয়সী আক্রমণকারীকে আটকে রাখে।

এক বিবৃতিতে মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, আহত ব্যক্তি মসজিদের মুয়াজ্জিন, যিনি আযান দিয়ে থাকেন এবং দুপুরের নামাজের কিছুক্ষণ পর স্থানীয় সময় ৩টার দিকে আক্রমণের শিকার হন।
মসজিদের মহাপরিচালক ডক্টর আহমাদ আল দুবাইয়ান জানান যে, হাসপাতালে থাকা মুয়াজ্জিনের সাথে স্বল্প সময়ের জন্য ফোনে কথা হয়েছে তার এবং তিনি বলেছেন যে, তিনি সুস্থ আছেন।
মসজিদের উপদেষ্টা আয়াজ আহমাদ মন্তব্য করেছেন যে, ছুরি হামলাটি ‘প্রাণঘাতী হতে পারতো, যদি মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মানুষজন বাধা না দিতেন’।
লন্ডনের ফেইথস ফোরামের পরিচালক মুস্তাফা ফিল্ড সাংবাদিকদের জানান যে, ভুক্তভোগীর ‘ঘাড়ের কাছে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়’। তিনি বলেন : ‘জামায়াতে নামাজ পড়তে থাকাদের কয়েকজন নামাজ ছেড়ে হামলাকারীকে প্রতিহত করে’।

হামলার প্রত্যক্ষদর্শী আবি ওয়াতিক জানিয়েছেন যে, হামলাকারীকে এর আগেও মসজিদে দেখা গেছে। ৫৯ বছর বয়সী ওয়াতিক বলেন, হামলাকারী মুয়াজ্জিনের পেছনে নামাজ পড়ছিলেন। সেখান থেকেই হঠাৎ আক্রমণ করেন। তিনি বলেন যে, হামলাকারী পুরোটা সময় নিশ্চুপ ছিলেন।
ডক্টর আল-দুবাইয়ান বলেছেন, এরকম ঘটনা ঘটায় আমরা খুবই দুঃখিত। আমরা আশা করছি, এটি বিদ্বেষমূলক কোনো ঘটনা নয় বরং একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তবে পুলিশও ধারণা করছে যে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ঐ এলাকায় ‘স্থানীয় জনসাধারণ ও নামাজ পড়তে আসা মানুষদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা’ দিতে পুলিশ প্রহরা বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট হেলেন হার্প জানিয়েছেন, ১৯ বছর বয়সী এক পুরুষকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি মসজিদের ভেতরে সালাতের লাইনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লন্ডন কেন্দ্রীয় মসজিদটি লন্ডনের মুসলমানদের জন্য একটি প্রধান ইবাদাতের স্থান, এটি নিয়মিত বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী এবং মুসল্লিকে আকৃষ্ট করে। এটি ১৯৪৪ সালে উদ্বোধন করেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের পিতা কিং ষষ্ঠ জর্জ। মসজিদটির ওয়েবসাইট অনুসারে, মসজিদটি ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাথে মিলে একটি জমিতে নির্মিত হয়েছিল যা সরকার ব্রিটেনের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য উপহার হিসাবে প্রদান করে।
মসজিদের প্রধান ইবাদাতস্থলে একসাথে ৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লির ধারণক্ষমতা রয়েছে এবং এর সোনার বর্ণের গম্বুজ এবং লম্বা মিনারটি উত্তর লন্ডনের আকাশ লাইনের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন টুইট করেছেন যে, তিনি এই ঘটনায় ‘গভীরভাবে দুঃখিত’ এবং তিনি ‘ভুক্তভোগী এবং ক্ষতিগ্রস্থদের সাথে সহমর্মিতা’ জ্ঞাপন করেছেন। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান জানিয়েছেন যে, মেট্রোপলিটান পুলিশ ‘ঐ এলাকায় অতিরিক্ত জনবল’ নিয়োগ করছে। তিনি টুইট করেছেন, প্রত্যেক লন্ডনবাসী তাদের ইবাদাতের স্থানে নিরাপদ বোধ করার অধিকার রাখে। সূত্র : বিবিসি বাংলা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মসজিদ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ