Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

দেশে সিনেমা হল এখন মাত্র ৮০টি!

বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০২ এএম

দেশে এক সময় ১৪৩৫টির মতো সিনেমা হল ছিল। এ সংখ্যা কমতে কমতে এখন ৭০-৮০ এর ঘরে এসে ঠেকেছে। এগুলোর আবার অনেকগুলো বছরের বিভিন্ন উৎসবে খোলা হয়। তারপর বন্ধ থাকে। বছর তিনেক আগেও এ সংখ্যাটি ছিল ৩০০’র ঘরে। সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে ভাল সিনেমা নির্মাণের অভাবকে হল মালিকরা দায়ী করেন। দেশে ভাল মানের সিনেমা নির্মিত হচ্ছে না। হলেও সংখ্যায় এত নগণ্য যে তা দিয়ে সিনেমা হল টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে হল ব্যবসায়ীরা সিনেমা হল ভেঙ্গে সেখানে মার্কেট বা বহুতল ভবন গড়ে তুলছেন। এখন দেশের অনেক জেলা শহরে কোন সিনেমা হল নেই। এরমধ্যে রয়েছে বরগুনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, নড়াইল, মুন্সীগঞ্জ, নরসংদী, পঞ্চগড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নাটোর, চুয়াডাঙ্গা, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ ২৫টি জেলা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রযোজক, পরিবেশক ও প্রদর্শক সমিতির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০০০ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইল এলাকায় ৪৭টি সিনেমা হল থাকলেও এখন সেখানে মাত্র ১০টি হল টিকে আছে। যশোহরে ২১টি সিনেমা হলের জায়গায় এখন মাত্র ৪টি সিনেমা হল চালু রয়েছে। সিরাজগঞ্জে ৩১ টি সিনেমা হলের মধ্যে রয়েছে মাত্র ৫টি। বন্ধ হয়ে গেছে রাজধানী ঢাকার গুলিস্তান, নাজ, মুন, মুকুল, লায়ন, সদরঘাটের রূপমহল, আরমানিটোলার শাবিস্তান, পোস্তগোলার ডায়না, কারওয়ান বাজার এলাকার পূর্ণিমা ও কাকরাইলের রাজমণি ও রাজিয়া সিনেমা বন্ধ হয়ে গেছে। শাকিব খান অভিনীত বীর সিনেমাটি মুক্তি দিতে গিয়ে এর প্রযোজক হল সংকটে পড়েন। সিনেমাটির সহপ্রযোজক মো. ইকবাল বলেন, বীর মুক্তি দিতে গিয়ে দেখলাম দেশে হলের সংখ্যা মাত্র ৬০ থেকে ৭০ এর মধ্যে। তাহলে সিনেমা ব্যবসা করবে কীভাবে? কোথায় প্রদর্শন করা হবে? যেগুলো এখনও সচল রয়েছে সেগুলোও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সিনেমা হল বন্ধের বিষয়ে ভালো সিনেমা নির্মাণ না হওয়াকে দায়ি করছেন মধুমিতা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। তিনি বলেন, সিনেমাগুলো ব্যবসা করতে পারছে না বলেই সিনেমা হল উঠে যাচ্ছে। দু-একটা যে ব্যবসা করছে না, তা নয়। তবে এ দিয়ে সিনেমা হল টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সিনেমা এখন লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। কয়েকটি সিনেপ্লেক্স বানানো হয়েছে। তবে শুধু সিনেপ্লেক্স বানালে হবে না। সবার পক্ষে সিনপ্লেক্সে সিনেমা দেখার সামর্থ্য নেই। অধিক মূল্যে টিকেট কেটে সাধারণ দর্শকরা তো সেখানে সিনেমা দেখতে পারেন না। তাই যেই হলগুলো আছে সেগুলো ঠিক করে আধুনিক করতে হবে। তা নাহলে আমাদের দেশ থেকে সিনেমা শিল্প হারিয়ে যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে সিনেমার হল উন্নয়নের কথা শোনা গেলেও তার বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়। কবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হবে তা নিশ্চিত নয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সিনেমা

২০ আগস্ট, ২০২০
১৭ এপ্রিল, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ