Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৩ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাঁদার দাবিতে ওরসে হামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক ওরসে হামলা চালানো হয়েছে। ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ৩টি টিনসেড পাকাঘর। এ ঘটনায় ৫১ জনের বিরুদ্ধে দ্রুতবিচার আইনে মামলা হয়েছে। তবে এখনো কেউ ধরা পড়েনি। ওরসের আয়োজক পরিবারের অভিযোগ, আসামিরা সবাই এলাকায়ই অবস্থান করছে। উল্টো মামলা প্রত্যাহারের জন্যে হুমকি দিচ্ছে তাদের। বলছে তা না হলে বসতভিটা গুড়িয়ে দিয়ে গ্রামছাড়া করবে। নবীনগরের নাটঘর ইউনিয়নের চড়িলামের শান্তিপুর গ্রামে মহর্ষি বাবুল শাহ’র ওরস মাহফিলে হামলার ঘটনা ঘটে ১৭ ফেব্রুয়ারি। হামলাকারিরা ওরস মাহফিলের সব আয়োজন পন্ড করে দেয়। লুটপাট ও তান্ডব চালায় সেখানে। এরপর মো. বাবুল শাহ’র ওরস এলাকার ৩টি টিনসেড পাকাঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়। পানি পানের নলকূপও তুলে নিয়ে যায় হামলাকারিরা। বাবুল শাহ জানান, জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই ওরসের আয়োজন করেছিলাম। ২২ জানুয়ারি জেলা প্রশাসন ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ দিনের ওরস আয়োজনের অনুমতি দেয় তাকে। কিন্তু ওরসের প্রথম দিন সকাল ৯টার দিকে চাঁদার টাকার জন্যে আমার এখানে হামলা করে। নেতৃত্ব দেন ওই এলাকার আবুল হাসান, মো. নবী মিয়া, শাহ নোয়াজ মিয়া, মো. স্বপন মিয়া ও মো. গোলাম মহসীন।
এদিকে এ ঘটনায় আবুল হাসানকে প্রধান আসামি করে ৫১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন বাবুল শাহ’র ছোট ভাই এডভোকেট নজরুল ইসলাম ভূইয়া। মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রতি বছর বাবুল শাহ’র নামে ওরসের আয়োজন করা হয়। এ বছরও জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সেখানে ওরস মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কিন্তু ওরসে ওয়াজ মাহফিল করার জন্যে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসামিরা। টাকা দিতে অস্বীকার করায় ৭০/৮০ জন সন্ত্রাসী রামদা, কিরিছ, রড, লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি হামলা চালায়। পেট্রোল ঢেলে ৩টি টিনসেড পাকা ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওরসের খাবারের জন্যে আনা ৫ মন চাল, ১ মন মশুরের ডাল এবং জবাই করা গরুর গোশত লুট করে নিয়ে যায়। এতে কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়। ওরসে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তবৃন্দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ভাঙচুর ও লুটপাটে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে উল্লেখ করা হয় মামলার এজাহারে। মো. বাবুল শাহ’র ছেলে জহিরুল ইসলাম ভূইয়া ও আবদুর রাজ্জাক জানান, তারা এখন আতঙ্কে রয়েছেন। আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে হুমকি দিচ্ছে তাদের। বলছে মামলা উঠিয়ে না নিলে তাদের ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন এবং গ্রামছাড়া করবে।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রনজিত রায় বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। আসামি ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হামলা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ