Inqilab Logo

ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

বাদ পড়া বিতর্কিতরা

কোন্দল সন্ত্রাস চাঁদাবাজি দখলবাজি মাদক ব্যবসা

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-চসিক নির্বাচনে ৫৫টি (সাধারণ ও সংরক্ষিত) ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ-অসন্তোষ চলছেই। দলীয় কোন্দল, এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত কাউন্সিলদের বেশ কয়েকজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার চরম বিতর্কিতদের কয়েকজনও পেয়ে গেছেন দলের সমর্থন। কারো কারো বিরুদ্ধে দলের হাইকমান্ডে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সমর্থন ভাগিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

এনিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিতর্কিতদের বাদ দিতে এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল সমাবেশও করছেন। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দলে গ্রহণযোগ্য এবং জনমুখী নেতাদের প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করিয়ে দেওয়ারও প্রস্তুতি চলছে। বসে নেই বাদপড়ারাও, তাদের কয়েকজন সদলবলে নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে মহানগর নেতাদের মধ্যে মান-অভিমানের মধ্যেই থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ভোটার তথা রাজনৈতিক সচেতন নগরবাসী গভীরভাবে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

কেন্দ্র থেকে ৫৫ জনকে দলীয় সমর্থন দিয়ে বুধবার রাতে তালিকা প্রকাশ করা হয়। সমর্থন পাওয়াদের প্রায় এক তৃতীয়াংশই নতুন। তারা এবারই প্রথম নির্বাচনে অংশ নেবেন। আর বাদ দেওয়া হয়েছে ১৭ জনকে। তাদের বেশির ভাগই এলাকায় বিতর্কিত। গেল বছরের শেষের দিকে শুরু হওয়া শুদ্ধি অভিযানের সময় তাদের কয়েকজন দেশ-বিদেশে পালিয়েও যান। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে এলাকায় দলে গ্রুপিং, কোন্দল সৃষ্টি, হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ আছে। বাদপড়াদের এলাকায় মোটামুটি গ্রহণযোগ্য এবং জনমুখী নেতাদের দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে আবদুল ওরফে মাছ কাদেরকে বাদ দিয়ে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম বাহাদুরকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে মোহাম্মদ হোসেন হিরণকে বাদ দিয়ে নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি ওয়াসিম উদ্দিনকে সমর্থন দেওয়া হয়। পাহাড়তলীর অপর একটি ওয়ার্ডে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহেল হত্যা মামলার আসামি সাবের আহমদকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়াদের মধ্যে আরো আছেন- তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, সাহেদ ইকবাল বাবু, জহুরুল আলম জসীম, মোরশেদ আক্তার চৌধুরী, এফ কবির মানিক, এস এম এরশাদ উল্লাহ, এইচএম সোহেল, মাজাহারুল ইসলাম চৌধুরী, তারেক সোলায়মান সেলিম, হাসান মুরাদ বিপ্লব, জয়নাল আবেদীন।
তবে বিতর্কিতদের বেশ কয়েকজন এবার দলের সমর্থন পেয়েছেন। চকবাজারের গোলাম হায়দার মিন্টু, বকশির হাটের নুরুল হক ও জামাল খানের শৈবাল দাশ সুমনের বিরুদ্ধে দলীয় পদপদবী সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। নগরীর ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো ভোট করতে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন ১০ নতুন প্রার্থী। আর নারীদের জন্য ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে সমর্থন পেয়েছেন নতুন সাতজন।

সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী বদল হয়েছে ২০টিতে। যার মধ্যে দশজনই প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেবেন। আর ১৪টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের অর্ধেকেই নতুনদের সমর্থন দেওয়া হয়েছে। সাবেক ছাত্রলীগ-যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা মনোনয়ন পাওয়ায় খুশি মহানগর কমিটির নেতারাও। নতুন মনোনয়ন পাওয়াদের মধ্যে থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ের বর্ষীয়ান নেতা যেমন আছেন তেমনি আছেন ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটির সাবেক নেতারাও। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৭ ফেব্রুয়ারি। ১ মার্চ বাছাইয়ের পর ২ থেকে ৪ মার্চ আপিল করা যাবে এবং নিষ্পত্তি হবে ৫-৭ মার্চ। ৮ মার্চ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। ৯ মার্চ মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। ২৯ মার্চ ভোটগ্রহণ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সিটি করপোরেশন নির্বাচন

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ