Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

সান্ধ্যকালীন বাণিজ্য চান শিক্ষকরা

ঢাবি একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় হট্টগোল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও প্রেসিডেন্ট মোঃ আবদুল হামিদ। এরপরই এই কোর্স বন্ধের নির্দেশনা জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কমিশনের নির্দেশনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্সের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সান্ধ্য কোর্স যৌক্তিকতা যাচাই কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি সান্ধ্য কোর্সে সাময়িকভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি নীতিমালা করার কথাও সুপারিশ করেছে কমিটি। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য গতকাল সোমবার একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় উত্থাপনের পর ব্যাপক তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পরেন শিক্ষকরা। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষকরা এই কোর্স বহাল রাখার দাবিতে সরব ভূমিকা রাখেন। বেশিরভাগ শিক্ষকই এই কোর্স বন্ধ না করার কথা বলেছেন। একইসাথে তারা নীতিমালা তৈরি করে সংস্কারের কথাও বলছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি দেখা যায়। জানা গেছে, সান্ধ্যকোর্স চালু রাখতে সোচ্চার বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষকদের উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ।
সান্ধ্যকোর্স যৌক্তিকতা যাচাই কমিটির আহ্বায়ক ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, সভায় সান্ধ্যকোর্সের বিপক্ষে বলতে গেলেই অনেকে ‘শেইম শেইম’ করে চিৎকার দিয়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয় হলো শিক্ষার্থীদের জন্য। কিন্তু দিনের বেলা তাদের কোনোরকম শিক্ষা দিয়ে, রাতে বেলা টাকার জন্য বাইরের শিক্ষার্থীদের ভালো সেবা দিতে রাজি তারা। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের প্রফেসর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন সান্ধ্যকোর্স চালু রাখার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সান্ধ্যকোর্স থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর ৫০ কোটি পাচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে।
একই বিভাগের শিক্ষক চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রাম নিয়ে এখন কী হয়ে গেলো যে, এটি বন্ধ করতে হবে। কেন বারবার গণমাধ্যমে এটিকে ‘বাণিজ্য’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সান্ধ্যকোর্সে আমরা মান সম্মত শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। কেন আমাদের তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্তে¡ও বারবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে৷ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আমাদের গবেষণা নেই। কিন্তু আমাদের অনেক মান সম্মত গবেষণা রয়েছে। আমরা রাত দিন পরিশ্রম করছি, সংসারও ঠিক রাখছি।
ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের শিক্ষক প্রফেসর চন্দ্র নাথ পোদ্দার সান্ধ্যকোর্স চালু রাখার পক্ষে বক্তব্য উপস্থান করে বলেন, যুগের প্রয়োজনে বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে এ ধরনের প্রোগ্রাম চালু থাকতে হবে। তবে সব প্রোগ্রামগুলো সুন্দরভেবে সংস্কার করে চালু রাখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভাকে ঘিরে সান্ধ্যকোর্সের সাথে জড়িত ‘বেশি লাভবান’ বনাম ‘কম লাভবান’ শিক্ষকরা দফায় দফায় বৈঠক করেন। সেখানে দরকষাকষির মাধ্যমে তারা সান্ধ্যকোর্স চালিয়ে যাওয়ার মতই ব্যক্ত করেছেন। এরফলে গতকালকের সভায় এসব শিক্ষক দল-মত নির্বিশেষে সান্ধ্যকালীন কোর্সের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন।
এর আগে গত বছরের মে মাসে সান্ধ্য কোর্সের যৌক্তিকতা যাচাই করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর তোফায়েল আহমদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ আখতারুজ্জামান উপাচার্য। ওই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. হাসানুজ্জামান। কমিটি বিষয়টি যাচাই-বাছাই করতে প্রায় আট মাস পর ‘সান্ধ্য কোর্সে সাময়িকভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের’ সুপারিশ করেন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি সান্ধ্যকোর্সে সাময়িকভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের সুপারিশ করে সান্ধ্যকোর্স যৌক্তিকতা যাচাই কমিটি ভিসির কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান্ধ্যকোর্সে শিক্ষার্থীদের একক পরীক্ষকের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া, ক্লাস নেওয়া শিক্ষকদের দ্বারা খাতা মূল্যায়ন, ঢিলে ঢালা নিয়মে সনদ প্রদান, আর্থিক লেনদেন প্রাপ্তির মাধ্যমে সনদ প্রদান করা হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। যা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের মান কমছে বলেও সুপারিশে বলা হয়েছে। কমিটির একাধিক সদস্য জানান, অর্থের বিনিময়ে কিছু শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়ে সার্টিফিকেট দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। যা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি সনদের মান কমে যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় এনে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সব ধরনের সান্ধ্য কোর্স সাময়িকভাবে বন্ধ করতে সুপারিশ করা হয়েছে। পরবর্তীতে জাতীয় স্বার্থে যদি বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে এসব কোর্স চালু রাখা উচিত তবে তা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণার আদলে চালু রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত প্রোগ্রামে যেভাবে ক্লাস-পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে সনদ প্রদান করা হয় সেভাবে করা হোক। এভাবে করলে একটা কোয়ালিটি বজায় রাখা সম্ভব বলে যাচাই কমিটি মত দিয়েছে।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শিক্ষক

৬ অক্টোবর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ