Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬, ০৮ শাবান ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

ছড়াচ্ছে মৌ মৌ সুভাস

এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান (চট্টগ্রাম) থেকে | প্রকাশের সময় : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

চট্টগ্রামের রাউজানে আম গাছে মৌ মৌ সুভাষ ছড়াচ্ছে মুকুল ঘ্রাণ। বসন্ত শুরুর সাথে সাথে উপজেলা জুড়ে আম গাছে এসেছে আমের মুকুল। গ্রামীণ জনপদে প্রাপ্ত বয়স্ক আম বৃক্ষগুলো দেখলে সবার দৃষ্টি গাছের উপরে চলে যায়। উপজেলা সদরের মুন্সিরঘাটার আমতলের ঐতিহাসিক আম গাছে মুকুলের পরশ চোখে পড়ার মতো। দৃষ্টিনন্দন মুকুলের উচ্ছাসে ডালপালা-এমনকি পাতা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। শীতের সকালে সূর্যের কিরণ আম মুকুলকে স্পর্শ করতেই বাড়তি সুন্দরতার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে।
অপর দিকে রাউজানের এপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী উপজেলার ছোট বড় তিন শতাধিক সড়কে ২৫ প্রজাতির আমের কলপ চারা রোপন করে রেকর্ড করেছিল দেশব্যাপী। এসব রোপিত আম গাছে কয়েক বছর ধরে আংশিক ফলন দিলেও এ বছর পরিপূর্ণ ফলন আশা করছে এলাকার মানুষ। রোপিত প্রতিটি আম গাছে মুকুলে মুকুলে ভরপুর হয়ে আম ধরা শুরু করেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার সড়ক এলাকা ছাড়াও বাড়ির আঙিনায়, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় দেখা মিলছে আমের মুকুল। প্রত্যেকটি এলাকা জুড়ে এখন সর্বত্র গাছে গাছে শুধু আমের মুকুল আর মুকুল। আম বাগানের সারি সারি গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। বলা যায় মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত পুরো রাউজান উপজেলা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালিকরা।
রাউজান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, রাউজানে ছোট বড় প্রায় ৬৮টি অধিক ব্যক্তি মালিকানাধীন মিশ্র ফল বাগান রয়েছে। এসব বাগানেও এসেছে মুকুল। মুকুল আসার পূর্ব থেকে আমগাছ মালিকরা তাদের আম গাছের যত্ম নেয়ার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিটি আমগাছে এসেছে অধিক আমের মুকুল। এ বছর কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে রাউজানে ব্যাপক আমের ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষিবিদরা।



 

Show all comments
  • মোঃজাকির হোসেন সিকদার ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১১:৪৭ পিএম says : 0
    আমের মুকুলে ফাল্গুনে প্রকৃতিকে সাজিয়েছে বাংলাদেশ জাকির সিকদারঃফাগুনের শুরেুতেই বসন্তের ফুল যেন আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে সারা দেশ।রাজধানীর শাপলা চত্তরের পশ্চিম পাশে বিআরটিসি বাস ডিপুর পাশে দেখা গেছে ভরা আমের মুকুল বরিশাল,খুলনা,রংপুর,রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের মুকুলের মন মাতানো গন্ধে ভরে উঠেছে প্রকৃতির সাজে বাংলাদেশ।দেশের ৬৪ জেলায় আমের মুকুল কম বেশি দেখা যায়।গড়মের সাথে সাথে এ আমের মুকুল যেন আমের ফলন কমে যায় অসময়ের বৃষ্টির জন্য।গত দুদিন বৃষ্টি হয়েছে তাতে ক্ষতি হয়েছে এ জাতীয় আমের ফলনের শুরিুতে। যাইহোক দেখা যাক চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে, বাগানের সারি সারি গাছে এখন মুকুলের সমারোহ। তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালিকরা। ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ধরেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। গাছের পুরো মুকুল বের হতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে। লাভবান হওয়ার আশায় বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আমচাষিরা। কৃষি বিভাগ ও আমচাষিরা বলছেন- বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমের ভালো ফলন হবে এ বছর। পোকার আক্রমন থেকে ফলন বাঁচাতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের কীটনাশকও ব্যবহার করছেন তারা। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর কৃষি জমিতে বাড়ছে আমের আবাদ। ক্ষীরশাপাতি, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি, রাজভোগ ও গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমের বাগান গড়ে উঠেছে। সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাগান মালিক সেতাউর রহমান বাদশা জানান, প্রায় ১৫দিন আগে থেকে তার বাগানের আমগাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মঞ্জুরুল হুদা জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে থেকে আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার বেশি মুকুল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও জানান তিনি। আমের সোনালি মুকুল প্রকৃতিতে যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। বাতাসে ভাসছে মুকুলের ম ম গন্ধ। সবুজ পাতা ভেদ করে বেরিয়ে আসছে আমচাষিদের সোনালি স্বপ্ন। .........
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন