Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭, ১০ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

স্থবির চীনা শিল্পজোন

শিল্পের যন্ত্রপাতি কাঁচামাল আমদানি অনিশ্চিত চীনের প্রকৌশলী-কর্মীদের আসা-যাওয়া বন্ধ

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের দক্ষিণ পাশে আনোয়ারায় চীনা শিল্প ও অর্থনৈতিক জোনের নির্মাণ কাজ কিছুদূর এগিয়ে এবার স্থবির হয়ে পড়েছে। মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি করোনাভাইরাসের ধকল পড়েছে আনোয়ারা চীনা শিল্পজোনে। একই অচলদশা মীরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু টানেলসহ চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় চট্টগ্রামে চলমান প্রকল্পগুলোতে। এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তা মহলে।

করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাবে চীন থেকে উপরোক্ত প্রকল্পের জন্য শিল্প-কারখানা স্থাপনের উপযোগী ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ও বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল আমদানি চালান জাহাজীকরণে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। চীনা নববর্ষের ছুটি শেষ হলেও দেশটিতে অধিকাংশ শহর-নগর-শিল্পাঞ্চলে কল-কারখানা চালু হয়নি এখনও। অনেক অঞ্চলে ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আনোয়ারা চীনা শিল্প ও অর্থনৈতিক জোন এবং চট্টগ্রামের অন্যান্য প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের। করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে সেসব শিল্প-বিনিয়োগ প্রকল্পে কর্মরত চীনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী, কারিগর ও কর্মীদের আসা-যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে সঙ্কটের মুখে পড়েছে চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন।

কর্ণফুলী নদীর ওপাড়ে আনোয়ারায় বাংলাদেশে প্রথম চীনের একক শিল্প ও অর্থনৈতিক জোন তথা চায়না জোন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) আওতাধীনে। ১৬ জুন’২০১৭ইং চীনা অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের জন্য বেজা এবং চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি হয়। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, বঙ্গবন্ধু টানেল, সিইউএফএল, কাফকো এবং কোরিয়ান ইপিজেড’র খুব কাছাকাছি সুবিধাজনক এলাকা বেছে নিয়েই স্থাপন করা হচ্ছে চায়না জোন। চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে দূরত্ব ২৮ কি.মি.।
চীন এবং বাংলাদেশ সরকারের (জি-টু-জি) যৌথ মালিকানা ভিত্তিতে ৭৮৩ একর বিস্তীর্ণ জমিতে নির্মিত হচ্ছে চীনা শিল্পজোন। সেখানে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা একক বিনিয়োগের লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। কর্মসংস্থানের টার্গেট ৫০ হাজার লোকের।

বেজা সূত্রে জানা গেছে, অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের সম্ভাবনাময় শিল্প ও অর্থনৈতিক জোন প্রকল্প হিসেবে দেখছেন উভয় দেশের বিনিয়োগকারী ও শিল্পোদ্যোক্তাগণ। সেখানে ৩৭১টি শিল্প, কল-কারখানা স্থাপনের উপযোগী প্লট থাকছে। বিশেষায়িত চায়না শিল্পজোনে স্থাপন করা হবে ফার্মাসিউটিক্যাল, কেমিক্যাল, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, গার্মেন্টস ও নিটওয়্যার, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, টেক্সটাইল, সিমেন্ট কারখানা, প্লাস্টিক, টেলিযোগাযোগ, মোবাইল ফোন, আইটি সামগ্রী, রাসায়নিক দ্রব্য, অটোমোবাইলস, ডিজিটাল যন্ত্রপাতি, ইলেট্রনিক্স, চিকিৎসা-অপারেশনের যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী ও সেবাজাত পণ্য উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে প্রকল্পস্থল কালাবিবি দীঘির মোড়, ফকিরখীল এলাকায় সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো তৈরির কাজ কিছুদূর এগিয়েছে। চায়না জোনের কাছেই থাকবে বন্দর জেটি-বার্থ সুবিধা।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এখন আনোয়ারা চীনা শিল্পজোনের নির্মাণ কাজ থমকে গেছে। আপাতত আটকে গেছে শিল্পায়ন-বিনিয়োগ সম্ভাবনা। কেননা করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উত্তরণের উপরই নির্ভর করছে চীনের বিনিয়োগ, কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ। এ ক্ষেত্রে অনিশ্চিত অবস্থার কারণে প্রকল্পের ব্যয় এবং বাস্তবায়নের মেয়াদকালও বেড়ে যাবে। চায়না জোন প্রকল্প ২০২১ সালে সম্পন্ন করার টার্গেট ছিল।
১৪ অক্টোবর ২০১৬ইং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকা সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শি জিনপিং যৌথভাবে কয়েকটি প্রকল্পের ভিত্তিফলক উদ্বোধন করেন। এর অন্যতম হচ্ছে আনোয়ারায় চীনা শিল্প ও অর্থনৈতিক জোন। চায়না জোনে চীনের শতভাগ বিনিয়োগের আশ্বাস ছিল। আর সেখানে বাংলাদেশ সরকারের ৩০ শতাংশ এবং চীনের বিনিয়োগকারীদের ৭০ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে চীন সফরকালে সে দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত বা একক অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আনোয়ারায় নির্মিত হচ্ছে এই চায়না জোন।

এদিকে চীনে করোনাভাইরাসের প্রভাবে চীন থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে শিল্পের যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল বোঝাই জাহাজসমূহের সময়মতো আগমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ভাইরাসটি সংক্রমণের আগে বোঝাই করা জাহাজসমূহ কমবেশি বিলম্বে আসছে। তবে সংক্রমণ পরবর্তী সময়ে চীন থেকে শিল্পপণ্য শিপমেন্ট অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে যেসব প্রকল্প কিংবা মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে তার বেশিরভাগেরই যন্ত্রপাতি চীন থেকে আনা হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। যা এ মুহূর্তে অনিশ্চিত। সেই সাথে চট্টগ্রামে বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত চীনা প্রকৌশলী, কারিগর, কর্মীদের প্রকল্পস্থলে আসা সম্ভব হচ্ছে না। করোনাভাইরাসের প্রভাবে সৃষ্ট এই স্থবিরতা ও উদ্বেগ কবে কাটবে কেউ তা জানেন না।



 

Show all comments
  • Md Masud Rana ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১৭ এএম says : 0
    আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • Rahi ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১৭ এএম says : 0
    করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত?
    Total Reply(0) Reply
  • Rahi ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:৫৯ এএম says : 0
    স্থবির হলেও কিছু করার নেই
    Total Reply(0) Reply
  • ফাহিম ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ২:০০ এএম says : 0
    আগে তো দেশের মানুষের নিরাপত্তা তার পরে উন্নয়ন শিল্প ব্যবসা বাণিজ্য .....
    Total Reply(0) Reply
  • সুমাইয়া ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ২:০২ এএম says : 0
    দেরি হলেও তাড়াহুড়া করা যাবে না
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চীন


আরও
আরও পড়ুন