Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬, ০৭ শাবান ১৪৪১ হিজরী

অগ্নিগর্ভ দিল্লিতে পুলিশ সাংবাদিকসহ নিহত ৯

সিএএ সমর্থক-বিরোধী সংঘর্ষ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

সোমবারের মতো গতকালও সকাল থেকেই সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠে রাজধানী দিল্লি। সিএএ-পন্থী এবং বিরোধীদের খন্ডযুদ্ধ চলেছে কার্যত গোটা উত্তর-পূর্ব দিল্লি জুড়েই। সংঘর্ষ ও সহিংসতায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ নিহত হয়েছেন ৯ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফর এবং দিল্লিতে অবস্থানের মধ্যেই সেখানকার পরিস্থিতি এমন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে। বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের বক্তব্য থেকেই এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভীম সেনা প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ।

অশান্তি শুরু হয়েছিল গত রোববার বিকাল থেকেই, গতকাল সকালে তা প্রচন্ড রূপ নেয়। অগ্নি সংযোগ, ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ির পাশাপাশি গুলি চলার খবরও মিলেছে। উত্তর পূর্ব দিল্লির উপদ্রুত এলাকার আটটি মেট্রো রেল স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হিংসায় শুধু যে নয় জন মারা গিয়েছেন তাই নয়, প্রচুর লোক গুলিতে আহত হয়েছেন। জিটিবি হাসপাতালে গুলিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ১৬০ জন। প্রচুর পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গতকাল মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়ালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করতে সব দলকে এক সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

তবে অনেকে এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করছেন। গত রোববার বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র বলেছিলেন, ‘ট্রাম্পের সফর চলছে বলে তারা কিছু করছেন না। কিন্তু তিন দিনের মধ্যে পুলিশকে ব্যবস্থা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দিতে হবে।’ তার সেই বিবৃতির পরেই সহিংসতা শুরু হয় বিভিন্ন জায়গায়। এজন্য মিশ্রর বিরুদ্ধে থানায় বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়লেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সেই সব অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর -এর নির্দেশ দেয়ার জন্য গতকাল সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে আবেদন করেছেন ভীম সেনা প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ। আদালত শুনানিতে রাজি হয়েছে। আজাদ আদালতে বলেন, বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র এই দাঙ্গায় প্ররোচনা দেওয়া এবং পরিকল্পনা করার জন্য দায়ী। দক্ষিণ দিল্লির শাহিনবাগে মহিলারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি করেছেন আজাদ। সিএএ বিরোধী প্রতিবাদ চলছে ৮০ দিন ধরে। শনিবার থেকে উত্তরপূর্ব দিল্লিতে সংঘর্ষ চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পরে কেজরীওয়াল জানান, ‘›বিধায়করা বলেছেন, উপদ্রুত এলাকায় পুলিশের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তার ওপর যাদের মোতায়েন করা হয়েছে, তাদের কাছে ওপরমহল থেকে যতক্ষণ নির্দেশ না আসছে, ততক্ষণ তারা কিছু করতে পারছেন না। তাছাড়া দিল্লির সীমান্ত দিয়ে প্রচুর সন্দেহভাজন লোক ঢুকছে। তাই ওই সব সীমান্ত সিল করে দেয়া হোক।’

অগ্নিগর্ভ দিল্লিতে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন সাংবাদিকরাও। মৌজাপুরে স্থানীয় নিউজ চ্যানেলের এক সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ সময় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে জিটিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আগের দিন সোমবার হামলাকারীদের আক্রমণে পুলিশের এক হেড কনস্টেবল মারা গিয়েছিলেন।

পুলিশ সূত্র জানা গেছে, সিএএসমর্থক ও বিরোধী দুই পক্ষই হিংসার জন্য দায়ী। সোমবার লাল শার্ট পরে একজনের গুলি মারার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। তাকে আটক করা হয়েছে। উত্তর পূর্ব দিল্লির দমকলের ডিরেক্টর জানিয়েছেন, রাত তিনটে পর্যন্ত তারা আগুন নেভানোর জন্য ফোন পেয়েছেন। মোট ৪৫টা ফোন এসেছে। তিনজন দমকলকর্মী এখনও পর্যন্ত আহত হয়েছেন। একটি দমকলের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই সব তথ্যই বুঝিয়ে দিচ্ছে, উত্তর পূর্ব দিল্লির হিংসা কতটা ব্যাপক চেহারা নিয়েছে। ব্রহ্মপুরিতে পুলিশ ফ্ল্যাগ মার্চ করছে। বিপুল পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এলাকায়। সূত্র : টিওআই, এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত


আরও
আরও পড়ুন