Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ১১ শাবান ১৪৪১ হিজরী

করোনা : এড়ানোর পথ নেই, প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান, স্যান ফ্রান্সিসকোতে জরুরি অবস্থা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:৪৬ পিএম

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস এড়ানোর কোনো পথ নেই। এই মহামারি অপরিহার্য। তাই মার্কিনীদের প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিষয়ক একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) প্রিন্সিপাল ডেপুটি ডাইরেক্টর ডা. অ্যানি শুচ্যাট। অন্যদিকে সারা বিশ্বের সরকারগুলো যখন করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লড়াই করছে তখন বুধবার ইউরোপের দ্বিতীয় একটি হোটেলকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, অস্ট্রিয়ার পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান আনসব্রুকে গ্রান্ড হোটেল ইউরোপায় ইতালির একজন রিসিপশনিস্টের দেহে ফ্লুর মতো ভাইরাস পরীক্ষায় পজেটিভ পাওয়া গেছে। এই ভাইরাস চীনের ভাইরাসের মতো। ফলে অস্ট্রিয়াতে ওই হোটেলের ১০৮টি রুম সিল করে দেয়া হয়েছে।

এখন এই ভাইরাসের উর্বরভূমি হয়ে উঠেছে ইতালি। সেখানে এরই মধ্যে ২৮০ জনের দেহে এই ভাইরাস সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। মারা গেছেন ১১ জন। এর বেশির ভাগই লোমবার্ডি এবং ভেনেতোর কাছে। ওই হোটেলের রিসিপশনিস্ট ও তার পার্টনারের দেহ পরীক্ষা করে পজেটিভ পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে তারা লোমবার্ডিতে তাদের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। একই রকম ঘটনা ঘটেছে ক্যানারি আইল্যান্ডের চার তারকা হোটেল এইচ-১০ কেস্টা আদেজে প্যালেসে। এই হোটেলটি মঙ্গলবার লকডাইন করে দেয়া হয়। এর আগে সেখানে একজন ইতালিয়ান চিকিৎসক ও তার স্ত্রীকে নতুন করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত পাওয়া যায়। ওদিকে স্পেনে প্রথমবারের মতো তিনজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ার ফলে মঙ্গলবার মার্কিনিদের প্রস্তুতি নেয়া শুরু করতে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বলা হয়েছে, এই ভাইরাস মহামারি থেকে বৈশ্বিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডাক্তার অ্যান শুচ্যাট বলেছেন, এখন প্রশ্নটা এই ভাইরাস সংক্রমণ ঘটবে কিনা তা নয়। এখন প্রশ্নটা হলো কখন ঘটবে এই সংক্রমণ এবং তাতে কি পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হবেন।

ওদিকে মঙ্গলবার ইরানে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০। চীনের পর এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর দিক দিয়ে ইরান এখন দ্বিতীয়। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপমন্ত্রী ও একজন পার্লামেন্ট সদস্য। চীনের বাইরে নিহতের সংখ্যা প্রায় তিনডজনে দাঁড়ালো। এর মধ্যে ইতালিতে মারা গেছেন ১১ জন।

স্যান ফ্রান্সিসকোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে স্যান ফ্রান্সিসকোতে স্থানীয়ভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও ক্যালিফোর্নিয়ার চতুর্থ বড় শহরটিতে এখনও কোনো কোভিড-১৯ রোগীর তথ্য জানানো হয়নি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্থানীয়ভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে স্যান ফ্রান্সিসকোর মেয়র লন্ডন ব্রিড জানান, যদিও এখন পর্যন্ত এখানে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কোনো রোগীর তথ্য নেই, তবে বিশ্বব্যাপী ভাইরাসটির চিত্র দ্রæতই পাল্টে যাচ্ছে। সেজন্য আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শেখ খবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে যে ১৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হযেছেন, তাদের বেশিরভাগই অন্য দেশে ভ্রমণ সংক্রান্ত কারণে বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুক্তরাষ্ট্র


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ