Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

কক্সবাজার শহরে এক মাদক কারবারি পরিবারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

কক্সবাজার থেকে বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৭:৫৪ পিএম

কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী এলাকার এক মাদক কারবারি পরিবারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে এলাকাবাসী। রোহিঙ্গা জহির আহমদ প্রকাশ জহির হাজী ও তার মাদক ব্যবসায়ী ছেলে মেয়েদের কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

জানাগেছে, রোহিঙ্গা জহিরের ছেলে ভূলো মিয়া, কামাল উদ্দিন ও মেয়ে সুমি, রোজিনা এবং তার স্ত্রীসহ সবাই মাদক পাচার ও ব্যবসার সাথ জড়িত। তাদের দাপটে এলাকার কেউ মুখ খুলতে পারছেনা।

গত বছর জুনে জহিরের বড় ছেলে মাদক কারবারি ভূলো মিয়া পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এর পর থেকে জহিরের অপর ছেলে কামাল উদ্দিন মাদক ব্যবসায় বেপরোয়া হয়ে উঠে। তার সাথে তার পিতা জহির, বোন সুমি, রোজিনা এবং জহিরের স্ত্রীসহ তারা গড়ে তোলে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এর সাথে যুক্ত হয় সীমান্ত এলাকা, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরের অনেক রাঘব বোয়াল।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা হাজী জহির কয়েক বছর আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী এলাকায় আশ্রয় নেয়। এখানে বাংলাদেশী সমাজের তারা মিশে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের পুরানো অভ্যাস মাদক ব্যবসা, খুন-খারাবী ইত্যাদি তারা ভুলতে পারেনি। একানেও তারা সে অপকর্ম শুরু করে এবং এতে তারা এগিয়ে রয়েছে।

এরা মাদক সেবন, ব্যবসা ও পাচারে বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা শহরের হোটেল-মোটেলও ঢাকা-চট্টগ্রামের মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে হাত করে দেদারসে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। মাদকের টাকায় তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তোলে। তাদের সাথে মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ে এলাকার অসংখ্য তরুন-যুবক ও শিক্ষার্থী। তারা লিপ্ত হয়ে পড়ে ছিন্তাই, খুন-খারাবী ভূমি দখলসহ নানাবিধ অপরাধে। এতে করে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে এলাকার মানুষ। কিন্তু তাদের দাপটে তারা মুখ খুলতে ভয় পায়।

সম্প্রতি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাদকের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ায় বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ পাড়ি দেবার প্রহর গুনছে বলে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে রোহিঙ্গা জহির ও তার পরিবারের সদস্যদের কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ধর্না দিতে দেখাগেছে।

আরো জানা গেছে সম্প্রতি বিদায়ী পাসপোর্ট অপিসার আবু নাঈমের নিকট পাসপোর্ট আবেদন করে বারবার ব্যর্থ হয়। এখন নতুন পাসপোর্ট অফিসার যোগ দেয়ায় তারা একটি দালাল চক্রের সাথে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

এলাকাবাসীর দাবি এই রোহিঙ্গা জহিরের মাদক কারবারি ছেলে-মেয়েদেরকে গ্রেফতার করে মাদক আইনের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হোক।

(কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিসে রাজার হালতে পাসপোর্টের অপেক্ষায় রোহিঙ্গা হাজি জহির ও তার স্ত্রী এবং মেয়ে)



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ