Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬, ০৮ শাবান ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

প্রশ্ন : অকৃতজ্ঞের শাস্তি ও কৃতজ্ঞ বান্দার পুরস্কার কী?

| প্রকাশের সময় : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০২ এএম

উত্তর: আমরা দিনে রাতে, শয়নে-স্বপন প্রতিক্ষণে প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামতে বেষ্টিত। তার নেয়ামতে আর অনুগ্রহে ডুবে থাকি দিবানিশি। বাহ্যিকভাবে যদিও কিছু বিপদাপদ আসে সেগুলোও নেয়ামত স্বরূপ। কোন বড়ো বিপদ হয়ত আল্লাহ তায়ালা সে বিপদের মাধ্যমে দূর করে দেন কিংবা নেকি দ্বারা পূর্ণ করে দেন সে বিপদের ক্ষতি।

আল্লাহ তায়ালা বে-নিয়াজ, অমুখাপেক্ষী। কোন কাজের জন্যই তিনে জিজ্ঞাসিত হবেন না। কেউ তাকে জিজ্ঞেস করতে পারবে না। তিনি কারো পরোয়া করেন না। তবুও আল্লাহ তায়ালা আমাদের ওপর কত দয়ালু! কত মেহেরবান! এত অসংখ্য নেয়ামতে আমাদের ডুবিয়ে রেখেছেন। ইচ্ছে করলে যখন তখন সব নেয়ামত তিনি ছিনিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু তিনি তা করেন নি। কোন বিনিময়ও চান নি। শুধু বলেছেন ্রআমার কৃতজ্ঞতা আদায় করো।গ্ধ এতটুকুই। শুধু নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করা। নেয়ামতের স্বীকার করা। এতেই আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট। তবুও কি আমরা তার শোকর গোজার হবো না? তার কৃতজ্ঞ হবো না?

যদি কেউ এতটুকু কৃতজ্ঞতার ক্ষেত্রেও বখিলি করে তাহলে তার ওপর তো কঠিন শাস্তির হুমকি আসবেই। তাইতো আল্লাহ তায়ালা বলেন, ্রতোমরা যদি কৃতজ্ঞতা আদায় কর তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অস্বীকার কর তাহলে আমার আজাব অবশ্যই কঠিন।গ্ধ [সূরা ইবরাহীম (১৪) : ৭]

এত এত নেয়ামতের দান করার পরও বলছেন, নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে আরো বাড়িয়ে দিবেন। তার পর বলেছেন, না-শুকরিয়া করলে তবে তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।

বুখারী শরীফে এ প্রসঙ্গে একটি শিক্ষনীয় ঘটনা বর্ণিত আছে। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বনি ইসরাঈলের তিন ব্যক্তি, তাদের একজন ছিল শ্বেতরোগী, একজনের মাথায় ছিল টাক, আরেকজন ছিল অন্ধ। আল্লাহ তাদের পরীক্ষা করতে চাইলেন। তাই তাদের নিকট এক ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা প্রথমে শ্বেতরোগীর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সবচেয়ে পছন্দনীয় জিনিস কোনটি? সে বলল, ‘(শরীরের) সুন্দর বর্ণ আর সুন্দর চামড়া। মানুষ যে আমাকে অপছন্দ করে!’ ফেরেশতা তখন তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিল, আর সঙ্গে সঙ্গেই তার রোগ দূর হয়ে গেল এবং তার গায়ের রং ও চামড়া সুন্দর হয়ে গেল। এরপর ফেরেশতা তাকে বললেন, তোমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদের কথা বলো! সে বলল, উট। তখনি তাকে একটি গর্ভবতী উটনী দেয়া হলো। ফেরেশতা তার জন্যে দুআ করলেন- আল্লাহ তাতে তোমার জন্যে বরকত দান করুন। এরপর ফেরেশতা চলে গেলেন টেকো ব্যক্তির কাছে। তাকেও জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সবচেয়ে পছন্দনীয় জিনিস কোনটি? সে বলল, ‘সুন্দর চুল। মানুষ যে আমাকে এ টাকের জন্যে অপছন্দ করে!’ ফেরেশতা তখন তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল, আর সঙ্গে সঙ্গেই তার টাক দূর হয়ে গেল এবং তার মাথা সুন্দর সুন্দর চুলে ছেয়ে গেল। এরপর ফেরেশতা তাকে বললেন, তোমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদের কথা বলো! সে বলল, গরু। তখনি তাকে একটি গর্ভবতী গাভী দেয়া হলো। ফেরেশতা তার জন্যে দুআ করলেন- আল্লাহ তাতে তোমার জন্যে বরকত দান করুন। সবশেষে ফেরেশতা গেলেন অন্ধব্যক্তির কাছে। (চলবে)
উত্তর দিচ্ছেন : আব্দুল্লাহ আল মাসউদ



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন