Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬, ০৫ শাবান ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

কোলকাতায় আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে মুসলিম ইনস্টিটিউট

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৯:৩৯ পিএম

কোলকাতায় মুসলিমদের প্রতিষ্ঠিত যেসব প্রতিষ্ঠান আজও ঐতিহ্য বহন করে চলেছে তার মধ্যে অন্যতম হল ১৯৩১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারীতে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ইনিস্টিটিউট। হাজী মোহাম্মদ মহসীন স্কোয়ারে মাথা উঁচু করে থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি আজও শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।
আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শতবর্ষের প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে চলেছে আরও উন্নত পরিসেবার দিকে, যদিও এই প্রজন্মের কাছে মুসলিম ইনস্টিটিউট সম্বন্ধে সেভাবে বার্তা পৌঁছায়নি। তবে সেই প্রচেষ্টা জোর কদমে শুরু হয়েছে। মুসলিম ইনস্টিটিউটের আধুনিকতার পর নতুন রূপে দেখা যাচ্ছে যা শহরের অন্য অভিজাত প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কোনও অংশে কম নয়। মূলত বিতর্ক সভা আর গোলতালার পুকুরে সাঁতারের মাধ্যমে শরীরচর্চা করার উদ্দেশ্য নিয়েই শুরু হয় এটি। বর্তমানে অন্যরকম আকার নিয়েছে মুসলিম ইনস্টিটিউট।
মুসলিম ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক প্রাক্তন আই পি এস অফিসার নিসার আহমেদ টিডিএন বাংলাকে জানান, আগামীতে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে মুসলিম ইনস্টিটিউট শহরের সব শ্রেণীর মানুষের কাছে গর্বের প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে।এখন মুসলিম ইনস্টিটিউটে চোখ রাখলেই আধুনিকীকরণের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমেই লাইব্রেরির কথা বলা দরকার। আইন-ই আকবরি থেকে শুরু করে ফরাসি ভাষার প্রামাণ্য গ্রন্থ রয়েছে এখানে ।সেগুলি আধুনিক লাইব্রেরির মতো সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে গ্রন্থ তালিকা। পাঠক চাইলেই গ্রন্থ তালিকা দেখেই নিমেষেই শনাক্ত করতে পারবেন গ্রন্থ ভান্ডার। দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ ও পান্ডলিপির ডিজিটালাইজেশনও হয়েছে। আর এর সঙ্গে রয়েছে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত পাঠকক্ষ। নানা ভাষার ম্যাগাজিন ও সংবাদপত্র বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে লাইব্রেরির বই নেওয়ার জন্য লাইব্রেরির সদস্য হতে হয়। শহরে উর্দু মাধ্যমের ছেলে মেয়েদের উপযুক্ত কোচিংয়ের অভাব রয়েছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের উন্নতমানের কোচিং এর ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। জাতীয় উর্দু প্রোমোশনের উদ্যোগে এখানে উর্দু প্রশিক্ষণও দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ঢেলে সাজানো হয়েছে অডিটোরিমও।
নিসার আহমেদ জানান, শিক্ষা ও সামাজিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর ২০১৬ সালে মুসলিম ইনস্টিটিউটকে বেকম রোকেয়া এওয়ার্ড ভূষিত করেছে। ঐতিহ্যময় আলিয়া মাদ্রাসার পাশাপাশি একটি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে তৎকালীন মুসলিমরা মুসলিম ইনস্টিটিউট গড়ার পরিকল্পনা নেন। ১৯০২সালের জুলাই মাসে আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন জমিতেই মুসলিম ইনস্টিটিউট হলের বাস্তবায়নের শুরু হয়। আলিয়া মাদ্রাসার কমন রুমে শুরু হয় স্বপ্নের মুসলিম ইনস্টিটিউট। প্রথম সম্পাদক আই এ এস মৌলানা কামালউদ্দিন আহমেদ। প্রথম প্রেসিডেন্ট তৎকালীন কলকাতা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সি এইচ এ স্ট্রাক। আর কোষাধ্যক্ষ ড.স্যার ই ডেনিসন রস।বহু কৃতি মুসলিম ব্যক্তিত্ব ইনস্টিটিউটের সদস্য ছিলেন। তাছাড়া স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, সের ই বাংলা এ কে ফজলুল হক, খাজা নিজামুদ্দিন এইচ এস সহরাবুরদি সংসদ সুলতান আহমেদ প্রমুখ।ওই প্রতিষ্ঠানের সদস্য ছিলেন। এই সব খ্যাতিমান ব্যক্তির সঙ্গে হাল আমলের রাজ্য সভার সাংসদ নাদিমুল হক বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি।
বর্তমানে এই ঐতিহ্য মণ্ডিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মৌলানা আজাদ কলেজের উর্দু বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক দাবির আহমেদ। ইকবাল আহমেদ ডেপুটি মেয়র, জামিল মঞ্জিল, সৈয়দ মহ আশরাফ, মহম্মদ উমর খান, মহ নুরুদ্দিন, প্রমুখ।
তবে মুসলিম ইনস্টিটিউটের বাস্তব রূপ পেতে শুরু করে ১৯৩১সাল। নিজেস্ব ভবন তৈরির মাধ্যমে। তৎকালীন রাজ্য সরকার বার্ষিক ৩০০টাকা অনুদান ও উন্নয়ন বাবদ ৩১৫০টাকা সহ জমি দান করে। আর সভার প্রশিক্ষণের জন্য গোলতালার পুকুরও দেওয়া হয়। মুসলিম ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠার পর তার উন্নয়নে ১৯৭৬সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্ত শংকর রায় ২০হাজার অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন।আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার বেশ কয়েক লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে। যা পূর্ত দফতরের তত্বাবধানে সংস্কারের জন্য। তবে ভবিষৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে নিসার আহমেদ টিডিএন বাংলাকে জানান, বহু লক্ষ ব্যয়ে মাল্টি জিম সহ টেবিল টেনিস ক্রীড়া সরঞ্জাম আধুনিকীকরণ হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পশ্চিমবঙ্গ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ