Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯, ০২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

খেজুর পাতার বাহারী শো-পিচ বিক্রি করছে রাজা মিয়া

প্রকাশের সময় : ১০ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

নজরুল ইসলাম, রাজবাড়ী থেকে ঃ নাম তার রাজা মিয়া। তবে ভাগ্য তার রাজার মত নয়। যদিও চলা ফেরায় সে পুরোপুরি স্বাধীন। নিজ ইচ্ছায় দাপিয়ে বেড়ান তিনি দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। রয়েছে তার অদ্ভুত দৃষ্টি আকর্ষণ শক্তি। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি তৈরী করতে পারেন খেজুরের কচি পাতার শো-পিচ। এই শো-পিচগুলো ক্ষণস্থায়ী হলেও বাজারে তার চাহিদা বেশ ভাল। যখন যে জেলায় তার যেতে ইচ্ছা করে, চলে যান তিনি সেখানে। আর মনের আনন্দে তৈরী করেন তিনি হাজারো খেজুরের পাতার শো-পিচ। সেই সাথে তৈরী করা ওই শো-পিচগুলো তিনি বিক্রি করেন ঘুরে ঘুরে। গত বৃহস্পতিবার সকালে তাকে শো-পিচ বিক্রি করতে দেখা যায় রাজবাড়ী জেলা শহরের ইংলিশ মার্কেট এলাকায়। হাতে ছিল তার তৈরী করা দুইটি খেজুরের পাতার শো-পিচ।
এ সময় কথা হয় ৩০ বছর বয়সী অবিবাহিত রাজা মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা গ্রামের মৃত আজিজুল হকের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের মধ্যে তিনি সকলের ছোট। তবে গত ৬ মাস তিনি বাড়ীতে যান না। ঘুরছেন তিনি এ জেলা ও জেলা। গত এক সপ্তাহ কাটিয়েছেন তিনি ফরিদপুরে। বৃহস্পতিবার সকালেই এসেছেন তিনি রাজবাড়ী জেলা শহরে। মা ও ভাই-বোনদের সাথে কথা হয় তার মুঠোফোনে। মা চাইলেই বিকাশে পাঠান তিনি টাকা। ফলে বাড়ী না ফিরলেও মা থাকে তার সব সময় অন্তরে। তিনি বলেন, ১৮ রকমের শো-পিচ তিনি খেজুরের পাতা দিয়ে তৈরী করতে পারেন। তার তৈরী করা শো-পিচ গুলোর মধ্যে বাজারে চাহিদা বেশি থাকে সূর্যমুখী ডাবল ও সিঙ্গেল ফুল, ওয়ালম্যাট, গোলাপ ফুল ও রজনীগন্ধা ফুলের স্টিক। ওই সব শো-পিচ তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা শহরগুলোতে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন। প্রতি পিচ তিনি ৪০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ টাকা দরে বিক্রি করেন। দিনে ২৫টি শো-পিচ তিনি তৈরী করতে পারেন। তবে তার তৈরী করা ফুলগুলো কখনোই অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে থাকে না। সকালে তৈরী করলে তা সন্ধ্যার মধ্যেই ফুরিয়ে যায়। রাতে বিশ্রাম নিয়ে পার দিন সকালে তিনি ফের তৈরী করে ফুল। তবে সমস্যা একটাই খেজুরের কচি পাতা। আগে মানুষের বাড়ীতে থাকা খেজুরের গাছ থেকে বিনামূল্যেই সংগ্রহ করা যেত ওই পাতা। তবে এখন সে দিন আর নেই। কেউ কেউ বিনামূল্যে দিলেও বেশির ভাগ মানুষের কাছ থেকেই টাকা দিয়ে তা কিনতে হয়। প্রায় ৮ বছর ধরে তিনি এ সব শো-পিচ তৈরী করছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের বাসিন্দার রনি মিয়ার কাছ থেকে এ সব পণ্য তৈরী করা শিখেছেন। ওস্তাদ রনির বেশ কয়েক জন শিষ্য রয়েছে। আর ওই শিষ্যদের মধ্যে তিনি অন্যতম। এখন তারও রয়েছে ৩ জন শিষ্য। তারা সকলেই এ শো-পিচ তৈরী ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তার মতে বেকার থেকে চেয়ে চিন্তে চলার চাইতে ফুল তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করা অনেক বেশি উত্তম। তিনি আরো বলেন, এ সব শো-পিচ এমনিতে দুই মাস এবং কাঠ বার্ণিশ করলে তার স্থায়িত্ব থাকে কম করে দুই বছর। ইতোপূর্বে তার তৈরী করা ওই শো-পিচগুলো দেখে চীন থেকে আসা একাধিক ব্যক্তি করেছিল প্রশংসা। তাকে নিয়ে তুলেছিল তারা ছবিও। সে সময় বেশ কয়েকটি শো-পিচ তারা কিনে নিয়ে গিয়েছিল।  
রাজবাড়ীর ব্যবসায়ী তৈহিদুল ইসলাম বলেন, রাজা মিয়ার তৈরী করা খেজুরের পাতার শো-পিচগুলো দেখতে অনেক সুন্দর। যে কোন পরিবেশে ঘরে অথবা অফিসের ফুলদানীতে সাজিয়ে রাখা সম্ভব। স্বল্প দাম হওয়াতে তিনিসহ অনেকেই এ শো-পিচ কিনেছেন। তিনি মনে করেন, রাজা মিয়াসহ অন্যান্য শো-পিচ তৈরীকারীদের একত্রিত করে কুটি শিল্প আঙ্গিকে বাজারজাত করা সম্ভব হলে তা হতো গঠনমূলক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন