Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

তানোরে সমিতির আড়ালে সুদের কারবার ঋণ গ্রহীতারা স্বাবলম্বী না হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে

প্রকাশের সময় : ১০ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

তানোর (রাজশাহী) উপজেলা সংবাদদাতা : রাজশাহীর তানোরে কামারগাঁ আদর্শ গ্রাম উন্নয়ন সমিতির আড়ালে দাদন (সুদ) ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। কথিত ওই সমিতি থেকে উচ্চ সুদে (দাদন) ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পরিবর্তে অধিকাংশক্ষেত্রে সুদসহ ঋণ (দাদন) পরিশোধ করতে গিয়ে ঋণ গ্রহীতারা সর্বস্বান্ত হচ্ছে।  যে কারণে সমিতি থেকে (দাদন) ঋণ গ্রহীতা অধিকাংশ পরিবারে নেমে আসছে অশান্তি ও সৃষ্টি হচ্ছে অস্থিরতা। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সমিতি থেকে (দাদন) ঋণ নিয়ে বাড়ি পৌঁছেই একজন গ্রাহক দেখতে পান তার প্রথম সাপ্তাহিক কিস্তি দেয়ার সময় হয়ে গেছে। অর্থাৎ ১০ হাজার টাকা নেয়ার ৬ দিন পরেই সাপ্তাহিক কিস্তি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আবার পরের কিস্তির জন্য আরো কিছু টাকা হাতে রাখতে হয়। ফলে কথিত ঋণের (দাদন) টাকা সবটুকু কেউই কাজে লাগাতে পারে না। তাছাড়া যারা দাদনে ঋণ গ্রহণ করে তাদের সংসারে বিদ্যমান অভাব-অনটন মেটাতেও কিছু টাকা খরচ হয়ে যায়। সমস্যার শুরু সেখান থেকেই যে কারণে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় দাদনে নেয়া ঋণ খুব দ্রুত গলার কাঁটা হয়ে দেখা দেয়। এদিকে চলতি বছরের ৩০ জুন বৃহ¯পতিবার এলাকাবাসি ডাকযোগে এসব দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি), রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন।  
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ব্যতীত কোনো প্রতিষ্ঠান আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন না। কিন্তু কামারগাঁ আদর্শ গ্রাম উন্নয়ন সমিতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন না দিয়ে অবৈধভাবে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা চড়া সুদে (দাদন) ঋণ প্রদান ও সঞ্চয়ের নামে আমানত সংগ্রহ করছে। কামারগাঁ গ্রামের জনৈক সেলিম উদ্দীন ও জসিম উদ্দিন বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ওই টাকায় সমিতির আড়ালে উচ্চ সুদে দাদন ব্যবসা করছেন। এসব দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে গ্রামের অনেক কৃষক পরিবার নিঃস্ব হতে চলেছে। সমিতির নেতারা সদস্যদের কাছে চড়া সুদে (দাদন) ঋণ দিয়ে জমজমাট সুদের ব্যবসা করছেন। আবার কেউ সুদাসলে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে জোরপূর্বক তাদের কাছে থেকে ফাঁকা ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে পরবর্তীতে তাদের কাছে থেকে চারগুণ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সমিতির নিজস্ব দালাল রয়েছে দালালদের কাজ হচ্ছে গ্রামের কোনো সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকট রয়েছে এমন মানুষ খুঁজে সমিতির কাছে নিয়ে আসা ও চড়া সুদে ঋণ পাইয়ে দেয়া। কামারগাঁ বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুদি দোকানী বলেন, কামারগাঁ আদর্শ গ্রাম উন্নয়ন সমিতি থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তাকে সুদাসলে প্রায় ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে তার পরেও পরিশোধ হয়নি দাদনের ১০ হাজার টাকা।  কিন্তু সমাজের প্রভাবশালীরা এসব অবৈধ সমিতির কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় সাধারণ মানুষ কোনো প্রতিবাদ করতে পারছেন না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কামারগাঁ আদর্শ গ্রাম উন্নয়ন সমিতির দায়িত্বশীল কোরো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশিদ বলেন, তিনি এখানো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ