Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

ইজারা নেই, চলছে বালু উত্তোলন কুষ্টিয়ায় সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব

এস এম আলী আহসান পান্না, কুষ্টিয়া থেকে | প্রকাশের সময় : ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০৫ এএম

কুষ্টিয়ায় ২১টি বালুমহালে ১০ বছর ইজারা বন্ধ রয়েছে। সরকার প্রতি বছর রাজস্ব হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। কুষ্টিয়ায় পদ্মা-গড়াই নদীর বালুমহালের উপর একের পর এক মামলা করে দশ বছর ধরে ইজারা বন্ধ রেখেছে বালুমহলের কুচক্রী ব্যক্তিবর্গ। তবে ইজারা বন্ধ থাকলেও বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন। এতে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। গত দশ বছরে সরকার অন্তত দুইশ’ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে বলে জানা যায়। জেলার ২১টি বালুমহাল থেকে দিনে অন্তত পাঁচ লাখ ঘনফুট মোটা বালু তোলা হয়। এসব বালু যাচ্ছে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায়।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওবাইদুর রহমান জানান, ২১টি বালুমহালে আইনগত জটিলতা থাকায় ১০ বছরে দেড় থেকে প্রায় ২শ’ কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। মিরপুর উপজেলার রানাখড়িয়া বালুঘাটের ব্যবসায়ী ওহিদুল কবিরাজ বলেন, পশ্চিম বাহিরচর ও রানাখড়িয়া-তালবাড়িয়া বালু ঘাটে পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন নির্মাণ কাজের সর্বোচ্চ মানসম্মত প্রায় পাঁচ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন ও সরবরাহ হচ্ছে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
উচ্চ আদালত থেকে মামলার জটিলতা নিরসনে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে এরইমধ্যে আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালত থেকে আইনি লড়াই করে যখনই কোন বালুমহাল ভ্যাকেট (অকার্যকর) করা হয়, তখনই আবার নতুনভাবে রিট পিটিশন করে দিনের পর দিন এ জটিলতা সৃষ্টি করে চলেছে একটি কুচক্রী মহল।”
উচ্চ আদালতের এসব মামলা পরিচালনায় ভূমি মন্ত্রণালয় নিযুক্ত কৌশুলী মোসাম্মৎ মোরশেদা পারভিন বলেন, আনোয়ারুল হক মাসুম নামের এক ব্যক্তি ২০১০ সালে কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি উপজেলার ২১টি বালুমহালের মধ্যে ১১টি মৌজার বালুমহালের উপর রিট পিটিশন করে এ জটিলতা শুরু করেন। এরপর ক্রমানুসারে ২০১১, ১২, ১৩, ১৪, ও ২০১৫ সালে সব কয়টি বালুমহালের উপর মামলা হয়।
রাষ্ট্রের পক্ষে এসব মামলা মোকাবিলা করে ৮টি মামলা আমরা ভ্যাকেট করলেও, পুনরায় ২০১৯ সালে মামলার বাদী রিট পিটিশন করেন যা এখনও বিচারাধীন। অধিকাংশ মামলার রিট অনেক আগেই অকার্যকর হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব বালু মহালে সরকার চাইলে নিজেদের অনুকূলে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
ভলগেট নৌকা মালিক সাহাবুল ইসলামের অভিযোগ, সরকারিভাবে বালুমহাল ইজারা কার্যক্রম বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে জোরপূর্বক প্রতিদিন কেবলমাত্র বাহিরচর বারোমাইল ও ঘোড়ামারা তালবাড়িয়া বালুঘাটের অন্তত ৫শ’ নৌকা থেকে গড়ে ৫০ লাখ টাকা বিনা রশিদে চাঁদা আদায় করছেন প্রভাবশালী ঘাট মালিকরা।
‘এতে চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছি আমরা। এসব বিষয়ে মুখ খোলা যাবে না। ডিসি অফিস, ইউএনও অফিস ও পুলিশ সবাই জানে এখানে কী হচ্ছে। প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়ে বৈধভাবে ইজারা দিলে সরকারি রাজস্ব পেত, আবার রেট বেঁধে দিলে আমরাও নির্ধারিত টোল দিয়ে ব্যবসা করতে পারতাম।’
কুষ্টিয়ার সরকারি কৌশলি (জিপি) এএসএম আকতারুজ্জামান মাসুম বলেন, ১০ বছর ধরে অস্তিত্বহীন ঠিকানার মামলাবাজ আনোয়ারুল হক মাসুম রিট পিটিশন করে বালুমহালের ইজারা কার্যক্রম বন্ধ রেখে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার কোটি টাকা। সেই সাথে অদ্যবধি হিসাব মতে অন্তত সরকারের ২শ’ কোটি টাকার রাজস্ব গায়েব করে দিয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, এটুকু বলছি যে, দীর্ঘদিন ধরে মামলা জটিলতায় এসব বালুমহালে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিরসন করে খুব শীষ্রই আমরা সরকারি রাজস্ব আয় নিশ্চিত করতে পারব। সেভাবেই আমরা এগুচ্ছি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বালু উত্তোলন


আরও
আরও পড়ুন