Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

পর্যটন আকর্ষণ হারাচ্ছে পারকি সৈকত

নুরুল আবছার তালুকদার, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) থেকে | প্রকাশের সময় : ২ মার্চ, ২০২০, ১২:০২ এএম

বঙ্গোপসাগরের উপকূলে জেগে উঠা চট্টগ্রামের আনোয়ারা পারকি সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য এখন বিভিন্ন কারণে হুমকির মুখে। সৈকতে ময়লার স্তূপ, রিসোর্টগুলোতে অসমাজিক কার্যকলাপ, বখাটেদের ঘুরাফেরা। অন্যদিকে ২০১৭ সালে ৩০ মে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আটকে পড়া ৫শ’ ফিটের অধিক লম্বা ১০ হাজার টন ওজনের এমভি ক্রিস্টার গোল্ড। এরপর সৈকতের উপর বড় পাইপ লাগিয়ে বালু ব্যবসায়ীদের ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনে সৈকতে আসা পর্যটকদের করেছে হতাশ। হাওয়ায় মিশে যাচ্ছে পর্যটকদের ভ্রমনের আনন্দ।
সরেজমিনে পারকি সমুদ্র সৈকত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সৈকত এলাকায় নারিকেল ও বাদামের খোসা, চানাচুর ও চিপসের খালি পেকেট, বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীর পরিত্যক্ত অংশ যত্রতত্র ছড়ানো ছিনানো। নাই কোন ময়লা ফেলার ডাস্টবিন। ময়লা আবর্জনার ফলে নির্বিঘ্নে ঘুরাফেরা করতে পারছে না সৈকতে আসা পর্যটকরা। ময়লা আবর্জনা এখন সৈকতের নিত্যদিনের সাথী। জোয়ারের পানি নেমে গেলে আটকে পড়া জাহাজের কারণে সৈকতের দক্ষিণ পাশে পর্যটকদের চলাচল খুবই দুঃসাধ্য। বালির পরিবর্তে পলি মাটি যেন তাদের জন্য অভিশাপ। যেখানে বালির মধ্যে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের খেলা ধূলা করার কথা। সেখানে পলি মাটি কেড়ে নিয়েছে তাদের সব আনন্দ।
পারকি সমুদ্র সৈকতকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। ১৯৯৩-৯৪ ও ২০২০ সালে পারকি সৈকত এলাকায় পর্যায়ক্রমে ৮০ হেক্টর জায়গাতে ঝাউগাছ লাগিয়েছেন বন বিভাগ। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে পারকি সৈকতকে আধুনিকায়ন ও সৈকতকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়তে ৩ বছর মেয়াদী একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন। প্রকল্পটির মধ্যে রয়েছে ১৪টি বহুতল বিশিষ্ট আধুনিক কটেজ, ১টি মানসম্মত বার, ২টি পিকনিক শেড, ২টি কিডস কর্ণার জোন, আধুনিক রেস্তুরা ও কনভেনশন হল, চেঞ্জিন শেড, ওয়াটিং রুম ও কার পার্কিং জোন। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬২ কোটি টাকা। ১৩.২৬ একর জমিতে এটি প্রতিষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন সৈকতের আধুনিকায়নে পর্যটকদের আশার আলো দেখালেও বর্তমান সৈকতের ময়লা আবর্জনা, অসমাজিক কার্যকলাপ, বালির পরিবর্তে পলি মাটি, সৈকতের উপর বড় পাইপ দিয়ে বালি উত্তোলন হতাশ করেছে আগত পর্যটকদের। একের পর এক সৈকতের আশে পাশে গড়ে উঠা রিসোর্টগুলোতে অসমাজিক কার্যকলাপ প্রশাসন ও পর্যটকদের দৃষ্টি গোচর হওয়াতে মুখ ফেরাচ্ছেন সচেতন পর্যটকরা। ২০১৯ সালের মে মাসে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অসমাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে গড়ে তোলা সৈকতে ১১০টি ছোট বড় রিসোর্ট বোল্ডডোজার দিয়ে উচ্ছেদ করে। এরপর মালিকানাধীন পারকি রিসোর্ট নামে একটি রিসোর্টে জমজমাটভাবে যুবক যুবতির অসমাজিক কার্যকলাপ চলে আসছে। গত সপ্তাহে কর্ণফুলী থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে অসমাজিক কাজে লিপ্ত থাকা ১২জন যুবক যুবতিকে হাতে নাতে গ্রেফতার করে।
এরপর পর্যটক দৃষ্টি ফেরাতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় পারকি রিসোর্ট বন্ধের এবং এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন জানাবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটি। সৈকতে ঘুরতে আসা মোঃ সেলিম ও ফাহিমা আকতার বলেন, সৈকতে ঘুরা এখন খুব কষ্টদায়ক। বিভিন্ন স্থান ও পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে ময়লা আবর্জনা, ডাব ও বাদামের কোসা। প্লাস্টিকের বোতল, চানাচুর, চিফস ও বিভিন্ন প্রকারের খাদ্য সামগ্রীর খালি পেকেট পড়ে রয়েছে। নির্বিঘ্নে ঘুরাফেরার জন্য সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা জোরদার, অসমাজিক কার্যকলাপ বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, পারকি বিচের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ময়লা আবর্জনাসহ সৈকতের সৌন্দর্য্য রক্ষার্থে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী দিনে যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ঘুরাফেরা ও আনন্দভোগ করতে পারে তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ