Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৩ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

৭ বছরেও গতি নেই কাজের

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২ মার্চ, ২০২০, ১২:০১ এএম

দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার। আকাশ ও সড়কপথে কক্সাবাজারে যাওয়া যায়। বেশিরভাগ মানুষই কক্সবাজারে যান সড়কপথে। এ কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক। পর্যটনের গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে একটি সমীক্ষা প্রকল্প শুরু করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে এই সমীক্ষা শেষ হয় ২০১৫ সালে। পরে আরো পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সওজ অধিদপ্তরের ফাইলেই আটকে আছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উন্নয়নকাজ।

উন্নয়নকাজ থেমে থাকলেও মহাসড়কটিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে চলাচলরত যানবাহনের সংখ্যা। অপ্রশস্ত সড়কটিতে বাড়তি গাড়ির চাপে প্রায়ই ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এছাড়া মহাসড়কের কমপক্ষে ১৫টি পয়েন্টে বাজার বসার কারণে যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লাগছে চার ঘণ্টা বা তারও বেশি সময়।
ভুক্তভোগিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সাবাজার মহাসড়কে প্রতিদিনই যান চলাচল বাড়ছে। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাওয়া পর্যটক তো আছেই, সঙ্গে যোগ হয়েছে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করা দেশী-বিদেশী কর্মীদের চাপও। বাড়তি যানবাহনের চাপে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে মহাসড়কটিতে। চট্টগ্রাম শহরের পটিয়া থেকে চকরিয়া পর্যন্ত অংশে রয়েছে ৫০টির বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। এই বাঁকগুলোকেই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন সওজের প্রকৌশলী ও হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা।
এ ব্যাপারে সওজের চট্টগ্রাম সার্কেলের এক প্রকৌশলী বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটির প্রশস্ততা ১৮ ফুটের মতো। অথচ এই সড়কে চলাচল করছে দ্রুতগতির সব গাড়ি। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কাজে নিয়োজিত দেশী-বিদেশী সংস্থার কর্মীদের কারণে যানবাহনের চাপ আরো বেড়েছে। দুর্ঘটনা কমাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মহাসড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু ও স্বল্প সময়ের মধ্যে তা শেষ করা জরুরি বলে মত দেন তিনি।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩-১৫ অর্থবছরে সুইডিশ কনসালট্যান্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষা প্রতিবেদনে ২২৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতের সুপারিশ করা হয়। এজন্য ওই সময় ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা।
পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এটি ‘কন্ট্রোলড-অ্যাকসেস হাইওয়ে’ হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু করে সওজ অধিদপ্তর। কমে যায় মহাসড়কটির দৈর্ঘ্যও। পরিবর্তিত দৈর্ঘ্য ধরা হয় ১৩৬ কিলোমিটার। এজন্য ১৩ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবও (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়।
নতুন নকশায় মহাসড়কটির প্রশস্ততা ধরা হয় ৮২ ফুট। দুই পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য থাকবে পৃথক লেন। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে ৩৩টি সেতু, ১৩৯টি কালভার্ট, ১৩টি ফুটওভারব্রিজ ও দুুটি ফ্লাইওভার। মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ৩১৬ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে।
জানা গেছে, বর্তমানে জি-টু-জি ভিত্তিতে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে সমীক্ষা করছে জাপানের মারুবেনি কোম্পানী। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। গত বছর প্রকল্পটির ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
সওজের একজন কর্মকর্তা জানান, পিপিপির আওতায় মহাসড়কটি স¤প্রসারিত হবে। জি-টু-জি পদ্ধতিতে জাপানি প্রতিষ্ঠান সড়কটি স¤প্রসারণের সমীক্ষাকাজ করছে। সমীক্ষা শেষে প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরডিপিপি হয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। সমীক্ষাকাজে বিলম্ব হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। নতুন করে সমীক্ষা চলতে থাকায় মহাসড়কটি স¤প্রসারণে অনেক বিষয় যুক্ত হবে। এজন্য এখনই প্রকল্প ব্যয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। তবে জাপানি সংস্থার অধীনে কাজ হওয়ায় দ্রুত সময়ের মধ্যে মহাসড়কটি স¤প্রসারণের কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ওই কর্মকর্তা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মহাসড়ক

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ