Inqilab Logo

সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

সঙ্কটে পড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনঃসংস্কারের উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৪ মার্চ, ২০২০, ১২:০১ এএম

দেশের ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনঃসংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এনিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএলএফসি)। আগামী সপ্তাহের মধ্যে নিতীনির্ধারণ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকও কাজ করছে। পাশাপাশি ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল সুবিধা চেয়েছেন আর্থিক খাতের প্রতিনিধিরা।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে এক বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএলএফসি)’র চেয়ারম্যান ও আইপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমিনুল ইসলাম। মমিনুল ইসলাম বলেন, আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে কিভাবে উত্তরণ ঘটানো যায় সে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এরমধ্যে তারল্য সংকট, আর্থিক খাতের ওপর অনাস্থা, এবং বিশেষ তহবিল ছিল অন্যতম। সংকটকালীন সময়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিশেষ একটি তহবিল গঠনের আবেদন জানিয়েছি আমরা। তবে সে বিষয়ে চ‚ড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। কি ধরনের কোন তহবিল পেলে দেশের আর্থিক খাতে তারল্য ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, আর্থিক খাতের দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিভাবে রিকনস্ট্রাকশন বা পূন:সংস্কার করা যায় সে বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান সাথে একীভূত করা যায় কিনা সে বিষয়ে ভাবছি। আর্থিক খাতের অবস্থা ভয়াবহ রকমের খারাপ নয় দাবি করে মমিনুল ইসলাম বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করবে দেশবাসী। শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বলদের একীভূত করার বিষয়ে রাজি কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবলদের ব্যবসাতেও প্রভাব পড়েছে। তাই দুর্বলদের একীভূত করে সামনে আঘাতেও একমত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ প্রতিবেশীর ঘরে আগুন লাগলে নিজের ঘরেকে বিপদমুক্ত ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানান, গত সোমবার বিএলএফসিএ অর্থমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে একটি তহবিলের বিষয়ে আবেদন জানিয়েছে। একই বিষয় গতকাল গভর্নরকে জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি আর্থিক খাতে আস্থা ফেরাতে নতুন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কিনা সে বিষয়ে পরামর্শ হয়েছে। তবে কোন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিএলএফসিএ এর ভাইস চেয়ারম্যান এবং আইআইডিএফসি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় ২০১৯ সালে আর্থিক খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক প্রবৃদ্ধি অনেক ভালো। কিন্তু একটি মাত্র ঘটনা সকল অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে। বাজারে তৈরি করেছে আস্থার সংকট। খুব শিগগিরই আমরা এ সংকট কাটিয়ে উঠব বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি। গোলাম সারওয়ার জানান, আমাদের এই খাতটিকে অনেক সময় লিজিং খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু আমাদের ব্যবসার মাত্র ১০ শতাংশ লিজিং খাতে বিনিয়োগ হয়। তাই লিজিং খাতের পরিবর্তে এটাকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি দিতে হবে। নতুন আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনেও কথাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।
উল্লেখ, মালিকদের লুটপাট আর বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় দুরবস্থায় দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই)। পিপলস লিজিং অবসায়নের পর আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে আমানতকারীরা। আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যক্তি নয়, অনেক প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীও অর্থ তুলে নিচ্ছে। দেশে ব্যাংকবহির্ভূত ৩৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৬টির চেয়ারম্যান-এমডিদের অনিয়মের কারণে একেবারে সর্বস্বান্ত। পিপলস লিজিংয়ের বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বিআইএফসি, এফএএস ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও ফার্স্ট ফাইন্যান্স বন্ধের উপক্রম। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এমডি হিসেবে দায়িত্বপালন করে দুর্নীতির মাধ্যমে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রশান্ত কুমার হালদার। ২০১৯ সালের সর্বশেষ সেপ্টেম্বরের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ খাতের ১০ প্রতিষ্ঠান এখন সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে বা ‘রেড জোনে’ রয়েছে। চাপ সহনশীল (স্ট্রেস টেস্টিং) প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই জোনে ফেলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশে ৩৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান ভালো অবস্থানে রয়েছে। বাকি ২৯টি প্রতিষ্ঠানের অবস্থাই নাজুক। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা জানার জন্য কয়েকটি সূচকের ওপর বিশেষ পদ্ধতিতে নিরীক্ষা চালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদহার বৃদ্ধিজনিত ঝুঁকি, ঋণঝুঁকি, সম্পত্তির (ইক্যুইটি) মূল্যজনিত ঝুঁকি ও তারল্য অভিঘাত এ চার ঝুঁকি বিবেচনায় নেয়া হয়। নিরীক্ষার ভিত্তিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। ভালোগুলোকে গ্রিন জোন, ভালোর চেয়ে একটু খারাপ অবস্থায় থাকা ইয়েলো জোন এবং চরম খারাপ অবস্থায় থাকাগুলোকে রেড জোনে ভাগ করা হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: উদ্যোগ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ