Inqilab Logo

সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ০৪ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

গলাচিপা পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১১ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

গলাচিপা (পটুয়াখালী) উপজেলা সংবাদদাতা : গলাচিপা পৌরসভার মেয়র হাজী আব্দুল ওহাব খলিফার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, বিএনপি-জামায়াতের সাথে সুসম্পর্ক, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থনে দু’বার মেয়র হলেও পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজের অধিকাংশ তিনি নিজে এবং তার আত্মীয়-স্বজন করেন। মেয়র ওহাব খলিফার স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে ২৯ জুন ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট অনুষ্ঠান সাতজন কাউন্সিলর বর্জন করেন।
মেয়রের এসব কর্মকাÐ নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন শাহসহ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, আব্দুল ওহাব খলিফা আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দু’বার মেয়র নির্বাচিত হলেও আওয়ামী লীগের তেমন কোনো লাভ হয়নি। মূলত তিনি নিজে ও বিএনপি-জায়ামাতের নেতা কর্মীরা লাভবান হয়েছেন। পৌর সভার অর্থায়নে গলাচিপা বিএনপি অফিসের ভিতরে লেট্রিন তৈরি করে দেন। আওয়ামী লীগ অফিসে একটি লেট্রিন স্থাপনের জন্য নেতারা একাধিকবার অনুরোধ করলেও তা করে দেন নি। পৌরসভার উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকার কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে কৌশলে তিনি নিজেই করেন। এতে যেমন নি¤œমানের কাজ হয় অপরদিকে পৌরবাসীর দুর্ভোগ চরমে। অপরিকল্পিত ড্রেন, রাস্তা তৈরি করায় সামান্য বৃষ্টিতে শহরে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতার কারণে গলাচিপা শহরটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তিনি নরওয়ে সরকারের আমন্ত্রণে ২০০৭ সালে নরওয়ে সফরে গিয়েছিলেন। তখন তার সফর সঙ্গী ছিলেন তৎকালীন শহর জামাতের আমীর পৌর কাউন্সিলর আ. জব্বার মাওলানা অপরজন বিএনপি নেতার স্ত্রী পৌর কাউন্সিলর রুনা আক্তার। অথচ ওই সময় বেশির ভাগ কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের। গত ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে যোগ দেননি। অভিযোগ রয়েছে এর কয়েক দিনে আগে উপজেলা বিএনপি অফিসে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে তিনি ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছেন।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক উপজেলা কমান্ডার নুরুর ইসলাম ধলা ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ফকরুল আলম জানান, ওহাব খলিফা নিজে আওয়ামী লীগ করলেও তার আত্মীয়-স্বজন বেশির ভাগ বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার শ্বশুর মরহুম আবুল হোসেন তালুকদার মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি গলাচিপা থানার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। চাচা মরহুম মোজাফ্ফর খলিফা মুসলিম লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তার আপন ভাই হেলাল খলিফাসহ অন্যরা জাতীয় পার্টি করত, যদিও হালে তারা অওয়ামী লীগ বনে যান।
গত ২৯ জুন গলাচিপা পৌর সভার ২০১৬-১৭ সালের বাজেট ঘোষণা হয়েছে। মেয়রের স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে সাতজন কাউন্সিলর বাজেট অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন। ওই সাত কাউন্সিলর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে মেয়র আব্দুল ওহাব খলিফা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি ছাত্রলীগ করে আজ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হয়েছি আমার স্ত্রী, ছেলেমেয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রী। আত্মীয়রা কে কি করেন আমার জানা দরকার নেই। আর নরওয়ে সফরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠিক করে দিয়েছিল কে কবে সফর করবে। কিছু লোক তার বিরুদ্ধে বানোয়াট কথা বলে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: গলাচিপা পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ