Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী

ট্রাম্পের ফোনকলের পরই তালেবান হামলায় ২০ আফগান সেনা নিহত, জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ মার্চ, ২০২০, ৫:৩৪ পিএম

বহুল প্রতীক্ষিত তালেবান-মার্কিন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে ফের আক্রমণ চালিয়েছে গোষ্ঠীটি। তালেবান যোদ্ধাদের এবারের হামলায় পুলিশসহ অন্তত ২০ সেনার প্রাণহানি ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতা মোল্লা আবদুল গনি বারাদারের ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা পরই এই হামলার ঘটনা ঘটে। এর জবাবে বুধবার আফগানিস্তানে তালেবান যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার (৪ মার্চ) সকালে কুন্দুজের ইমাম সাহিব জেলার মোট ৩টি সামরিক ক্যাম্পে একই সঙ্গে তালেবান হামলার ঘটনা ঘটে। তালেবান যোদ্ধাদের এই আক্রমণে আফগান সরকারের ১০ সেনা ও ৪ পুলিশ নিহত হন। এর আগে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে উরুজগান প্রদেশে পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তালেবান নেতার সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেছিলেন, আমি আজ তালেবান নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছি। আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হয়েছে। এখন আমরা আর কোনো সহিংসতা দেখতে চাই না। এর বিরুদ্ধে আমরা সকলেই একমত।

তালেবান হামলার জবাবে আফগানিস্তানের দক্ষিণ হেলমান্দ প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১১ দিন বিরতির পরে আবার যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা শুরু করল। ইউএস ফোর্সেস-আফগানিস্তানের মুখপাত্র সনি লেগেট টুইট করেছেন যে, হেলমান্দ প্রদেশের আফগান বাহিনীর একটি চৌকিতে ‘আক্রমণ করা’ থাকা তালেবান যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এই বিমান হামলা করা হয়। ট্রাম্পের ফোনকলের পরপরই আফগানিস্তানে তালেবানের স্থাপনা লক্ষ্য বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের মতে, কাতারে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় তালেবানের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এই মোল্লা আবদুল গনি বারাদার। তাছাড়া আলোচনা প্রক্রিয়াতেও তার ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মূলত সেই আলোচনার প্রেক্ষিতেই অবশেষে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত চুক্তিতে পৌঁছায় সশস্ত্র সংগঠন তালেবান।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৮ বছরের যুদ্ধ পরিচালনার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পর সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তালেবান নেতারা ধারাবাহিক আলোচনা শুরু করেন। বেশ কয়েক দফায় বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিটি স্বাক্ষর করে সশস্ত্র সংগঠন তালেবান। গত শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। সূত্র: ডন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ট্রাম্প


আরও
আরও পড়ুন