Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ০৭ জুন ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৪ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ মার্চ, ২০২০, ৮:৪০ পিএম

গত সপ্তাহে মাহাথির মোহাম্মদের আকষ্মিক পদত্যাগের পর শুরু হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই গত রোববার মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন মুহিউদ্দিন ইয়াসিন। তবে তিনি এখনও তার মন্ত্রিসভার কোন সদস্যের নাম প্রকাশ করেননি। মুহিউদ্দিন আগে যাদের বিরোধীতা করেছিলেন সেই ‘মালয় ন্যাশনালিস্ট পার্টি’র সমর্থনেই তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। এর ফলে তার সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন মুহিউদ্দিনের আগের নেতা মাহাথির।

কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শেষে গত শনিবার মালয়েশিয়ার রাজা প্রধানমন্ত্রী পদে ৭২ বছর বয়সী মুহিউদ্দিনের ঘোষণা করেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম প্রার্থী হিসাবে তার নাম ঘোষিত হয়। ৯৯ বছর বয়সী মাহাথির এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছিলেন যে, ২২২ সংসদ সদস্যের সমর্থন তার পক্ষে ছিল। কিন্তু, তিনি রাজার কাছে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতার বার্তা পৌঁছো দিতে সক্ষম হননি।

গত সোমবার জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া প্রথম ভাষণেই অবশ্য মুহিউদ্দিন তার অবস্থান পরিস্কার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি অনেকেই আমার উপরে রাগ করেছেন। যেমনটি প্রত্যাশা করা হয়েছিল, এমনও আছেন যারা আমাকে বিশ্বাসঘাতক হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে আমি বিশ্বাসঘাতক নই।’

মাহাথির তার পুরানো প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ার ইব্রাহিমের সমর্থকদের চাপের কারণেই পদত্যাগ করেছিলেন। নির্দিষ্ট সময় পরে ক্ষমতা ভাগাভাগি করার চুক্তিতে দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তারা একসাথে লড়াই করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত, মাহাথির এবং আনোয়ার দু’জনেই তাদের জোটের শরিক মুহিউদ্দিনের কাছে পরাস্ত হন। মুহিউদ্দিন দ্রুত এমন সদস্যদের সমর্থন জোগাড় করেন যারা সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীর কারো পক্ষেই যেতে রাজি ছিলেন না।

মুহিউদ্দিনের বিরোধীরা মূলত নির্ধারিত ৯ মার্চ সংসদে আস্থা ভোটের আহ্বান জানিয়েছে যাতে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি পরীক্ষা করা যায়। তবে, সম্ভবত এটি হবে না। কারণ হিসাবে তার এক সমর্থক জানান, প্রথমে মন্ত্রীসভা নিয়োগের জন্য নতুন প্রধানমন্ত্রীর সময় প্রয়োজন। এর পরে তাকে চতুর্থ ত্রৈমাসিকে সবচেয়ে ধীর গতিতে চলে যাওয়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মনোনিবেশ করতে হবে। দেশটির সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন গত ৫ ডিসেম্বর শেষ হয়েছিল এবং সংবিধান অনুযায়ী নতুন অধিবেশনের প্রথম দিন অবশ্যই তার ছয় মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে হবে, যা এই ক্ষেত্রে ৫ জুনের মধ্যে হবে।

বিগত নির্বাচন হেরে যাওয়া দলগুলোর ক্ষমতায় ফিরে আসার অর্থ মালয়েশিয়দের জন্য বেশ কয়েক দশকের পুরানো ইতিবাচক বৈষম্য নীতির উপর নতুন করে দৃষ্টি দেয়া হতে পারে। অর্থাৎ, যারা ব্যবসায়ের ইক্যুইটি হোল্ডিংয়ের জন্য পাবলিক ফাইন্যান্সিং থেকে ৩০% কোটা থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার সুবিধা ভোগ করেছিলেন। মাহাথিরের বহু-জাতিগত সরকারের বিপরীতে, নতুন প্রশাসন আরও বেশি মালয়েশিয়কে মূল পদে ফিরিয়ে দিতে এবং বেশিরভাগ মুসলিম দেশের মতো ধর্মীয় রক্ষণশীলতার দিকে ঝুঁকতে পারে। সূত্র: রয়টার্স।

 

কি-ওয়ার্ড: মালয়েশিয়া, প্রধানমন্ত্রী।মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

 

ইনকিলাব ডেস্ক

গত সপ্তাহে মাহাথির মোহাম্মদের আকষ্মিক পদত্যাগের পর শুরু হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই গত রোববার মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন মুহিউদ্দিন ইয়াসিন। তবে তিনি এখনও তার মন্ত্রিসভার কোন সদস্যের নাম প্রকাশ করেননি। মুহিউদ্দিন আগে যাদের বিরোধীতা করেছিলেন সেই ‘মালয় ন্যাশনালিস্ট পার্টি’র সমর্থনেই তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। এর ফলে তার সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন মুহিউদ্দিনের আগের নেতা মাহাথির।

কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শেষে গত শনিবার মালয়েশিয়ার রাজা প্রধানমন্ত্রী পদে ৭২ বছর বয়সী মুহিউদ্দিনের ঘোষণা করেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম প্রার্থী হিসাবে তার নাম ঘোষিত হয়। ৯৯ বছর বয়সী মাহাথির এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছিলেন যে, ২২২ সংসদ সদস্যের সমর্থন তার পক্ষে ছিল। কিন্তু, তিনি রাজার কাছে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতার বার্তা পৌঁছো দিতে সক্ষম হননি।

গত সোমবার জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া প্রথম ভাষণেই অবশ্য মুহিউদ্দিন তার অবস্থান পরিস্কার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি অনেকেই আমার উপরে রাগ করেছেন। যেমনটি প্রত্যাশা করা হয়েছিল, এমনও আছেন যারা আমাকে বিশ্বাসঘাতক হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে আমি বিশ্বাসঘাতক নই।’

মাহাথির তার পুরানো প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ার ইব্রাহিমের সমর্থকদের চাপের কারণেই পদত্যাগ করেছিলেন। নির্দিষ্ট সময় পরে ক্ষমতা ভাগাভাগি করার চুক্তিতে দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তারা একসাথে লড়াই করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত, মাহাথির এবং আনোয়ার দু’জনেই তাদের জোটের শরিক মুহিউদ্দিনের কাছে পরাস্ত হন। মুহিউদ্দিন দ্রুত এমন সদস্যদের সমর্থন জোগাড় করেন যারা সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীর কারো পক্ষেই যেতে রাজি ছিলেন না।

মুহিউদ্দিনের বিরোধীরা মূলত নির্ধারিত ৯ মার্চ সংসদে আস্থা ভোটের আহ্বান জানিয়েছে যাতে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি পরীক্ষা করা যায়। তবে, সম্ভবত এটি হবে না। কারণ হিসাবে তার এক সমর্থক জানান, প্রথমে মন্ত্রীসভা নিয়োগের জন্য নতুন প্রধানমন্ত্রীর সময় প্রয়োজন। এর পরে তাকে চতুর্থ ত্রৈমাসিকে সবচেয়ে ধীর গতিতে চলে যাওয়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মনোনিবেশ করতে হবে। দেশটির সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন গত ৫ ডিসেম্বর শেষ হয়েছিল এবং সংবিধান অনুযায়ী নতুন অধিবেশনের প্রথম দিন অবশ্যই তার ছয় মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে হবে, যা এই ক্ষেত্রে ৫ জুনের মধ্যে হবে।

বিগত নির্বাচন হেরে যাওয়া দলগুলোর ক্ষমতায় ফিরে আসার অর্থ মালয়েশিয়দের জন্য বেশ কয়েক দশকের পুরানো ইতিবাচক বৈষম্য নীতির উপর নতুন করে দৃষ্টি দেয়া হতে পারে। অর্থাৎ, যারা ব্যবসায়ের ইক্যুইটি হোল্ডিংয়ের জন্য পাবলিক ফাইন্যান্সিং থেকে ৩০% কোটা থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার সুবিধা ভোগ করেছিলেন। মাহাথিরের বহু-জাতিগত সরকারের বিপরীতে, নতুন প্রশাসন আরও বেশি মালয়েশিয়কে মূল পদে ফিরিয়ে দিতে এবং বেশিরভাগ মুসলিম দেশের মতো ধর্মীয় রক্ষণশীলতার দিকে ঝুঁকতে পারে। সূত্র: রয়টার্স।

 

কি-ওয়ার্ড: মালয়েশিয়া, প্রধানমন্ত্রী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মালয়েশিয়া


আরও
আরও পড়ুন