Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ আশ্বিন ১৪২৭, ০৩ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

কুড়িগ্রামে পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি লাভবান হচ্ছে কৃষক

শফিকুল ইসলাম বেবু, কুড়িগ্রাম থেকে | প্রকাশের সময় : ৬ মার্চ, ২০২০, ১২:০৩ এএম

কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো পতিত জমিতে সূর্যমূখী চাষ করে সাফল্য পেয়েছে চাষিরা। এই চাষের ফলে একদিকে যেমন আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অপরদিকে পতিত অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে লাভবান হচ্ছে কৃষক। 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাধবরাম গ্রামের ধরলা নদী তীরবর্তী সর্দারপাড়া এলাকায় শীর্ন ধরলা নদীর বুকে প্রায় ৭ একর জমিতে সূর্যমূখী চাষ করেছেন কৃষক আবু বকর সিদ্দিক। শুরুতে কেউ কিছু বুঝে উঠতে না পারলেও যখন কুঁড়িগুলো পাখনা মেলে প্রস্ফুটিত হয়ে হলুদ বর্ণে ছেঁয়ে যেতে লাগল। তখন ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ছুটে আসতে লাগলেন সৌন্দর্য পিপাসুরা। তার সূর্যমূখীর ফলন দেখতে প্রতিদিন দূর-দুরান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ভীর জমাচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম শহরের হাসপাতাল পাড়া এলাকার বাসিন্দা কৃষক আবু বকর সিদ্দিক জানান, পতিত চরের জমিতে আগে তিনি কলা, বাঁধাকপি, ফুলকপি লাগিয়েছিলেন। এতে খরচ হত বেশি সেই তুলনায় লাভও অনেক কম হত। এবারই প্রথম কৃষি বিভাগের পরামর্শে ও সহযোগিতায় সূর্যমূখী চাষ করেছি। গত বছরের নভেম্বর মাসের ২০ তারিখে সারি সারি করে চারা লাগিয়েছি। তিন মাসের মধ্যে ফুল দেয়া শুরু করেছে। চারমাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।
সূর্যমূখীচাষে তিনি কৃষি বিভাগ থেকে ১০ কেজি বীজ ও সার হিসেবে ইউরিয়া ২৬ কেজি, পটাশ ২০ কেজি, জিপসাম ২২ কেজি ও ড্যাপ ২০ কেজি পেয়েছেন। এছাড়াও জমি তৈরি, বীজ লাগানো, পরিচর্চা, পানি সরবরাহ করতে গিয়ে তার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে তিনি আরও জানান, সূর্যমূখীর পাতা ছাগল-ভেড়া খাওয়ার ফলে অনেক ক্ষতি হয়। এছাড়াও ছেলেমেয়েরা ফুল তুলে নিয়ে যায় এতেও সমস্যা হয়।
সূর্যমূখীচাষ দেখতে আসা কৃষক ওমর ফারুক, আবেদ আলী ও জামাল জানান, আমরা খবর পেয়ে এখানে এসেছি। ফলন দেখে সত্যিই আমরা অভিভূত। লাভজনক ও স্বাস্থ্যসম্মত সূর্যমূখী চাষে সকলেরই এগিয়ে আসা উচিত।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান, জেলার ১৬টি নদ-নদীকে ঘিরে রয়েছে ৫ শতাধিক চর ও দ্বীপচর। এসব চরে কৃষি বিভাগ পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিবন্ধকতা সহনশীল ফসল চাষাবাদ করে পতিত জমিগুলোকে চাষাবাদের আওতায় আনার কাজ করছে। চলতি বছর জেলায় ৫৫ একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমূখী চাষ করা হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। সূর্যমূখী সয়াবিনের বিকল্প তেল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে কোলস্টেরল কম। এছাড়াও পশুপাখির খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কৃষক


আরও
আরও পড়ুন