Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১০ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

রাজশাহীর রাজনীতি‘ভাই’ বলয়ে ঘুরছে

মাঠে নেই বিএনপি-জামায়াত

রেজাউল করিম রাজু | প্রকাশের সময় : ৬ মার্চ, ২০২০, ১২:০২ এএম

অনেক আন্দোলন সংগ্রামের সুতিকাগার বিভাগীয় শিক্ষানগরী রাজশাহী। ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন অন্দোলন সংগ্রামে রাজশাহীর ভূমিকা কম নয়। জাতীয় চারনেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের জন্মভূমি রাজশাহী। এখানেই শায়িত রয়েছেন। তার আগে ও পরে অনেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজশাহীর। এখান থেকে তৈরী হয়েছে অনেক মেধা সম্পন্ন নেতৃত্ব। বিশেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আর রাজশাহী কলেজ থেকে। যাদের অনেকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে। মন্ত্রীত্ব লাভ করে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং করছেন। সেই রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গন আর আগের মত নেই। মেধা সম্পন্ন সৎ দক্ষ রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বড্ড অভাব। সব দলেরই ত্যাগী স্বচ্ছ ইমেজের নেতাকর্মীরা প্রায় কোনঠাসা।

এখন দলীয় রাজনীতির চেয়ে ভাই কেন্দ্রীক বলয়ে বন্দী এখানকার রাজনীতি। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের রাজনীতি এমপি লীগে পরিণত হয়েছে। এমপিরা নিজ নিজ এলাকায় নিজস্ব বলয়ে বন্দী। সুযোগ সন্ধানীর ভীড় চারপাশে। এদের কুনইয়ের গুতোয় কোনঠাসা দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। সুযোগ সন্ধানীরা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ফুলে ফেপে উঠেছে।কেউ কেউ পদ পদবীও বাগিয়েছে। বেড়েছে দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। কোথাও কোথাও একে অপরকে সাইজ করতে তৎপর। পরিস্থিতি এমন অনেক নেতার মধ্যে মুখ দেখাদেখি নেই। এতে করে ভেতরে ভেতরে দল বিমুখ হচ্ছে সাধারণ নেতাকর্মী সমর্থকরা।

রাজশাহী আওয়ামী লীগের কান্ডারী শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের পুত্র রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। স্ত্রী কন্যা নিয়ে রাজনীতির মাঠে সক্রিয়। গত ১মার্চ মহানগর আওয়ামী লীগের মহানগর সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব ফের পেলেন লিটন। আর সেক্রেটারীর হিসাবে ডাবলু সরকার। এখন গঠন হবে পূর্নাঙ্গ কমিটি। সাধারণ নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা স্বচ্ছ ক্লীন ইমেজ আর সাংগঠনিকভাবে পরীক্ষিত দক্ষদের কমিটিতে মূল্যায়ন করা হবে। বাস্তবে কি হয় দেখার অপেক্ষা। জেলা আওয়ামী লীগেও কোন্দল কম নয়। গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কাউন্সিলে দায়িত্ব দেয়া হয় মেরাজ মোল্লা ও আব্দুল ওয়াদুদ দারাকে। তিন মাসেও তারা পূর্নাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি। সাধারণ কর্মীদের কথা তারা প্রত্যাশিত নেতৃত্ব পায়নি। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। বাস্তবতা হলো জেলা আওয়ামী লীগ তার গতি হারিয়েছে। দলের মধ্যে উপদল আর কোন্দল ভর করেছে।

বিএনপির কান্ডারী সাবেক মেয়র, এমপি বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু। মহানগরে রয়েছেন নগর সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। জেলার কান্ডারীর দায়িত্ব বর্তেছে জনপ্রিয় নেতা আবু সাঈদ চাঁদের উপর। সাংগঠনিক বিভাগীয় সহ-সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা শাহীন শওকত।

আওয়ামী রাজনৈতিক সিডরে ক্ষত-বিক্ষত এক সময়ের দৌর্দন্ড প্রতাপশালী বিএনপি। এখন রাজপথ নয় মামলার বোঝা নিয়ে নেতাকর্মী সমর্থকরা আদালত পাড়ায় দৌড় ঝাপে ব্যাস্ত। এরমধ্যে দিয়ে মেয়র নির্বাচন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে তাদের তৎপরতা জানান দেন। এখন ব্যাস্ত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন নিয়ে। এক সময় বিএনপিও ভাই কেন্দ্রীক বলয়ে বন্দী ছিল। হামলা মামলা নির্যাতনে এখন কোন্দল শিকেয় উঠেছে। রাজপথে ঘুরে দাড়াবার চেষ্টা করছে। সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে তৃণমূলে চলছে কমিটি গঠনের কাজ। দল ক্ষমতায় থাকার সময় যারা জিরো থেকে হিরো হয়েছে তাদের এখন আর দেখা মেলে না রাজনৈতিক কর্মসূচিতে।

রাজশাহী ওয়াকার্স পাটি খানিকটা সক্রিয়। এখানে সদর আসনের এমপি রয়েছেন দলের ফজলে হোসেন বাদশা। দলের সাধারণ সম্পাদক হবার সুবাদে পুরো দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সংগঠনকে গোছানোর চেষ্টা করছেন। তবে এখনো সেভাবে দাড়াতে পারেনি। কেন্দ্রের সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে রাজশাহী জাতীয় পাটি আর ঘুরে দাড়াতে পারছে না। ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে তাদের কার্যক্রম।

রাজশাহীতে এক সময় প্রচন্ড প্রতাপশালী ছিল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল তাদের দাপট। বিএনপি-আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে তারা সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে ছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী রাজনৈতিক সিডরে তারা একেবারে কুপোকাত হয়ে যায়। বড় বড় নেতাদের ফাঁসি হবার কারণে তারা মনোবল হারায়। চলে যায় একেবারে আন্ডারগ্রাউন্ডে। ক্যাডার নির্ভর দল হবার কারনে তাদের নেটওয়ার্ক ভাল রয়েছে। সুযোগ পেলে তারা ঘুরে দাড়াবে। তবে এখন সেই আগের মত শক্তি আর নেই।
ইসলামী দল গুলোর মধ্যে খেলাফত মজলিশ আর ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন মাঝে মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে তাদের অস্তিত্ব জানান দেয়। বাম দল গুলোর সাংগঠনিক অবস্থা মজবুত নয়। তবে তারা বিভিন্ন ইস্যুতে সংখ্যায় কম হলেও রাজপথে সোচ্চার।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রাজনীতি


আরও
আরও পড়ুন