Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

ঈদের ৯ দিন ছুটি বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক যাত্রীর ভারত ভ্রমণ

প্রকাশের সময় : ১১ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বেনাপোল  অফিস : পবিত্র ঈদ উপলক্ষে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে  ইতিহাসে স্মরণকালের রেকর্ড সংখ্যক পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করছেন। গত ১ জুলাই  থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ৯ দিনে ৪৫ হাজার ৮৫৭ জন বৈধ যাত্রী  বেনাপোল-হরিদাসপুর চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করেছেন। এ  থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
যাত্রীদের মধ্যে লম্বা ঈদের ছুটি কাটাতে, স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, চিকিৎসা, কেনাকাটা ও বেড়ানোর উদ্দেশ্যে যাতায়াত অন্য সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এদের মধ্যে ভারতীয় হাইকমিশনের দেয়া ৬০ হাজার বাংলাদেশী ঈদ প্যাকেজের ভিসা পাওয়া যাত্রীরাও রয়েছেন। ঈদ প্যাকেজ ভিসার যাত্রীরা বেনাপোল ছাড়াও বিমান, ট্রেন ও বিভিন্ন স্থলপথে ভারতে যাতায়াত করেছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, বেনাপোল চেকপোস্টে বেশ দ্রুত যাত্রীদের পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। কিন্তু ভারতীয়  চেকপোস্টে প্রবেশের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। ওপারে ইমিগ্রেশনের কাজে ধীরগতির কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। তারা বলছেন, ভারতীয় ইমিগ্রেশন থেকে ভারতীয় কাস্টমস, মেইন গেট, নোম্যান্স ল্যান্ডে কয়েকটি গোলাকার লাইন পেরিয়ে আশপাশের মাঠ ছাপিয়ে গেছে যাত্রীদের সারি। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, মা ও শিশুদের কষ্টের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অনেক  রোগীকে রাস্তার ওপরই বসে থাকতে দেখা গেছে।
ভারতের প্রবেশের প্রধান গেট থেকে নোম্যান্স ল্যান্ড হয়ে আশপাশের মাঠ ও বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ও শুল্ক ভবনের সামনে ছিল যাত্রীদের লম্বা লাইন। যাত্রীদের লাইন ঠিক রাখতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। প্রচ- রোদে ও খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দুর্ভোগে পড়েন কয়েক হাজার নারী-শিশু-পুরুষ।
আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বেনাপোল। বেনাপোল থেকে ভারতের পূর্বাঞ্চলের প্রধান নগরী কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় অল্প সময়ে কম খরচে বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে যাওয়া যায় কলকাতা হয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে। এ কারণে প্রতিদিন স্থলপথে তিন  থেকে সাড়ে তিন হাজার মানুষ গমনাগমন করেন এ পথে। তবে এবারের ঈদের ছুটিতে যাত্রী পারাপার বেড়েছে কয়েক গুণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১ জুলাই পাঁচ হাজার ৭৭ জন, ২ জুলাই ছয় হাজার ৫৫২ জন, ৩ জুলাই পাঁচ হাজার ৮২ জন, ৪ জুলাই চার হাজার ৯২২ জন, ৫ জুলাই চার হাজার ৫১৪ জন, ৬ জুলাই চার হাজার ৫৫৭ জন, ৭ জুলাই তিন হাজার ৮৪৭ জন, ৮ জুলাই তিন হাজার ২০৪ জন এবং ৯ জুলাই আট হাজার ১০২ জন যাত্রী বেনাপোল দিয়ে গমনাগমন করেছেন। শনিবার ছিল যাত্রীর  রেকর্ড চাপ। অন্যদিকে, জনবল বাড়ানোসহ যাত্রী ছাউনি স্থাপনের দাবি জানান ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি ইকবাল মাহমুদ জানান, এবার ঈদে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ভারত ভ্রমণের চাপ অন্যান্য  যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি; যা সর্বকালের রেকর্ড। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা ও ঈদ করতে ভারত থেকেও এসেছেন অনেকে। ঈদের ছুটি শেষে বাংলাদেশীরাও ফিরতে শুরু করেছেন। তবে কম জনবল নিয়ে যাত্রীদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে। যাত্রীদের যাতে কোনো হয়রানির মুখে পড়তে না হয়, তার জন্য ইমিগ্রেশন ভবনে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ