Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৮ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

ইয়েস ব্যাংক সংকট, ভারতীয় অর্থনীতিতে ধস

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ মার্চ, ২০২০, ৬:১১ পিএম

ভারতে ইয়েস ব্যাংক সংকট ক্রমশ বড় আকার নিচ্ছে। শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। প্রশ্ন উঠছে সরকার ও রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। এই সংকট এবার ছায়াপাত করছে দেশের অর্থনীতিতে। যার প্রভাবেই শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দোষারোপের পালা।

ইয়েস ব্যাংকের ঋণখেলাপির সংখ্যা এত বেড়ে গিয়েছিল যে তা প্রবল লোকসানে চলে যায়। সংকটাপন্ন হয়ে যখন ডুবে যাওয়ার মুখে, তখন রিজার্ভ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে। তারা স্টেট ব্যাংককে বলে ৪৯ শতাংশ শেয়ার কিনে নিতে। স্টেট ব্যাংকের নেতৃত্বে কয়েকটি ব্যাংক মিলে এখন বিনিয়োগকারীর খোঁজ করছে। তাদের হিসাব ২০ হাজার কোটি টাকা পেলে ব্যাংকটি চালানো যাবে।

এদিকে ইয়েস ব্যাংকের প্রধান রানা কাপুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আশ্বস্ত করেছেন যে, বিনিয়োগকারীদের টাকা মার যাবে না। কিন্তু সব মিলিয়ে ব্যাংকের আমানতকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ইয়েস ব্যাংকের এই অবস্থা এবং তাতে সরকারের ভূমিকা, রিজার্ভ ব্যাংকের মনোভাব নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠছে।

এ বিষয়ে দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বিজনেস এডিটর জয়ন্ত রায়চৌধুরী বলেছেন, ‘রিজার্ভ ব্যাংক ২০১৭ থেকে জানত, ইয়েস ব্যাংকে সব কিছু ঠিক চলছে না। তারা প্রচুর উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন ঋণ দিয়েছে। অনেক কোম্পানি ঋণ পরিশোধ করছে না। তারপর দুই বছর তারা কেন চোখ বন্ধ করে বসে রইল? এখন ব্যাংক যখন ডুবে যেতে বসেছে, তখন তারা স্টেট ব্যাংককে ৪৯ শতাংশ শেয়ার কিনতে বলল। অন্য দেশে কী হয়, সরকারি তহবিল থেকে এই ধরনের সংস্থাকে বাঁচাতে টাকা দেয়া হয়। কিন্তু ভারতে ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকায় ইয়েস ব্যাংককে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে স্টেট ব্যাংকের ওপর চাপ বাড়বে।’

শুধু তাই নয়, প্রশ্ন উঠছে, ইয়েস ব্যাংকের এনপিএ বা ঋণ নেয়ার পরেও তা পরিশোধ না করা নিয়ে। প্রবীণ সাংবাদিক জোসেফের প্রশ্ন, ‘যারা ঋণখেলাপি, তাদের ওপর কেন চাপ দেয়া হচ্ছে না, অবিলম্বে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য? তাহলে তো স্টেট ব্যাংকের ওপর এই চাপ আসত না।’

ঋণখেলাপিদের সম্পূর্ণ তালিকা এর আগে বারবার দাবি করা সত্ত্বেও সরকার দেয়নি। ফলে কারা ঋণ নিয়ে তা সরকারি ও ইয়েস ব্যাংককে শোধ করেনি, তার পুরো তালিকা জানা সম্ভব নয়। তবে ইয়েস ব্যাঙ্ক কিছু নাম বলেছে। বিভিন্ন সূত্র কিছু নাম জানাচ্ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই তালিকায় দেশের প্রচুর বড় শিল্পপতির সংস্থা আছে। এই প্রশ্নও উঠছে, সংকটের ঘোষণার একদিন আগে বেশ কিছু সংগঠন কী করে ইয়েস ব্যাংক থেকে পুরো টাকা তুলে নিল?

কংগ্রেসের অভিযোগ, ইয়েস ব্যাংকে এনপিএর সংকট শুরু হয়েছে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে। তারপরই ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। কিন্তু বিজেপি সেসব মানতে চায় না। তারা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ইয়েস ব্যাংকের প্রধান রানা কাপুরকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর একটি ছবি বিক্রি করা নিয়ে। রাজীব গান্ধীর সংগ্রহে থাকা এম এফ হুসেনের একটি ছবি প্রিয়াঙ্কা ২ কোটি টাকায় রানা কাপুরকে বিক্রি করেছিলেন। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালবীয় টুইট করে অভিযোগ করেছেন, দেশে কোনও আর্থিক কেলেঙ্কারি হলে তার সঙ্গে গান্ধী পরিবারের নাম কেন জড়িয়ে যায়? সোনিয়া গান্ধীর বিমানের টিকিট আপগ্রেড করে দিতেন মালিয়া, মনমোহন সিং ও চিদম্বরমের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মালিয়া পলাতক। রাহুল গান্ধী তো নীরব মোদির শো রুমের উদ্বোধন করেছিলেন। তিনি ব্যাংকের ঋণ ফেরত দেননি। রানা আবার প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কাছ থেকে ছবি কিনেছিলেন।

কংগ্রেস জানিয়েছে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দশ বছর আগে ছবি বিক্রি করেছিলেন, সেই তথ্য তিনি আয়কর রিটার্নেও উল্লেখ করেছেন। তার সঙ্গে এখন ২ লাখ কোটি টাকার এনপিএ নিয়ে ব্যাংকের ডুবতে বসার কী সম্পর্ক? বিজেপি লোকের নজর ঘোরাবার জন্য এই কাজ করছে। পুরো এনপিএ হয়েছে নরেন্দ্র মোদির আমলে। তাকে এর জবাব দিতে হবে। সূত্র: ডয়চে ভেলে।

 

কি-ওয়ার্ড: ভারত, ইয়েস ব্যাংক।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইয়েস ব্যাংক
আরও পড়ুন