Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৫ মাঘ ১৪২৭, ০৫ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

৯২ কোটি টাকার বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি

জাকের উল্লাহ চকোরী, কক্সবাজার থেকে | প্রকাশের সময় : ১২ মার্চ, ২০২০, ১২:০২ এএম

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় বসবাসরত মানুষের জানমাল অরক্ষিত। সামনের বর্ষা মৌসুমে ঘূর্নিঝড় জলোচ্ছাস আতঙ্কে দ্বীপবাসীর চোখে ঘুম নেই। তবে দ্বীপবাসীরা নির্ঘুম রাত কাঁটালেও থেমে নেই ১৪ কি.মি. ভাঙা বাঁধ মেরামতে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোডের্র ৯২ কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রতিরক্ষামূলক ওই কাজের ব্লক তৈরীতে সাগরের লবণাক্ত বালি আর নিম্ন মানের পাথর ব্যবহারের কারণে ব্লকের স্থায়ীত্ব নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। উল্লেখ্য যে বর্তমান সরকারের সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী জাপা নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলাকে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ন্যস্ত করায় এ অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হয়েছে।
দ্বীপের একাধিক জনপ্রতিধি জানিয়েছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপের ৭১ পোল্ডারের ৪০ কি.মি. বাঁধের মধ্যে ১৪ কি.মি. বাঁধ মেরামত সিসি বøক ও মাটির কাজ করার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রায় ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। এ কাজটি পায় ঈগলরীজ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন (বিডি) লি।. গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে টাকা ছাড় দিলেও ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষ যোগসাজসে সাগরের লবণ বালি আর অত্যন্ত নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করে বøক তৈরী করা হয়েছে। আর এসব নিম্নমানের বøক বাঁধে বসানোর জন্য এখন তোড়জোড় শুরু করেছে পাউবো ও ঠিকাদারলের লোকজন। বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুতুবদিয়া শাখা কর্মকর্তা ও দুইজন কার্যসহকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকচ নিয়ে নিরব দর্শকের ভ‚মিকা পালন করছে।
কুতুবদিয়া আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের জেলে পাড়া গ্রামের বাসিন্দা জহরলাল জলদাশ জানান, প্রায় এক যুগ ধরে জেলে পাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙা থাকায় জোয়ারে শতশত পরিবার ভিটিবাড়ি হারিয়েছে। বাঁধ মেরামতের কাজ হচ্ছে দেখে এলাকাবাসী আশায় বুক বেঁেধছিল। কিন্তু পাউবো ও ঠিকাদার কর্তৃক বøক তৈরীতে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় আমাদের সেই আশায় যেন গুড়েবালি!
বান্দরবান জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী রাকিবুল হাছান বলেন, কুতুবদিয়ার ৭১ পোল্ডারে ভাঙন বাঁধ মেরামত কাজ ৪০% শেষ হয়েছে। আগামী জুন মাসের আগে বাকি কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদার কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্লক নির্মাণ কাজে নিম্ন মানের পাথর আর লবণ বালি ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারী কুতুবদিয়ায় তিনি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সত্যতা পান। এ ব্যাপারে ঠিকাদারের লোকজনকে কঠোর নির্দেশনা দিলেও প্রভাবশালী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা মানছে না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নির্মাণ


আরও
আরও পড়ুন